কলকাতার নিকটস্থ মহীয়ান অনন্য হংসেশ্বরী মন্দির
অবস্থান : কলকাতার নিকটস্থ বাঁশবেড়িয়া শহর, পশ্চিমবঙ্গ
ঈশ্বরের একজন অনুগত বিশ্বাসী হওয়ায় আমি সবসময় বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করতে পছন্দ করি। ভারত মন্দিরের একটি বিশাল কেন্দ্রস্হল হওয়ায়, আমি সৌভাগ্যবান যে আমি দেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং প্রাচীন কিছু মন্দিরের শ্রেণীবিন্যাস অন্বেষণ করেছি। ঠিক এই অনুসন্ধান চালাতে চালাতে আমি একটি অদ্ভুত মন্দিরে গিয়ে হোঁচট খাই যা আমি আগে কখনও দেখিনি। হুগলি জেলার বিখ্যাত বাঁশবেড়িয়া শহরে অবস্থিত, এই মন্দির এতটাই অনন্য এবং রাজকীয় যা আপনাকে সম্পূর্ণ সম্মোহিত করে তুলবে। এটি হল কলকাতার নিকটস্থ অত্যন্ত জনপ্রিয় হংসেশ্বরী মন্দির।
১৯ শতকের প্রথম দিকে নির্মিত, এই মন্দির দেবী হংসেশ্বরীকে নিবেদন করা হয় যা দেবী কালীরই একটি রূপ। এই মন্দিরের স্থাপত্যটি সব দিক দিয়ে সত্যিই অসাধারণ, যা এই স্থানের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এই মন্দির চত্বর ২৭.৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং মোট ১৩টি মিনার নিয়ে গঠিত। প্রতিটি মিনারের শিখরে একটি পদ্ম ফুল রয়েছে। এই মন্দিরের চতুর্ভূজা দেবীর প্রতিমা নীল নিম কাঠ দিয়ে তৈরি। এটি একটি ছয় তলা মন্দির যা একটি মানব দেহের কাঠামো অনুসরণ করে তৈরি যথা – ইড়া, পিঙ্গলা, বজ্রক্সা, সুষুম্না এবং চিত্রিণী।

হংসেশ্বরী মন্দিরের অসাধারণ স্থাপত্য “তান্ত্রিক শতচক্রভেদ” কে উপস্থাপন করে। এই মন্দির নির্মাণ কাজ রাজা নৃসিংহদেব রায় দ্বারা শুরু হয়েছিল কিন্তু পরে তার স্ত্রী রানী শঙ্করী দ্বারা সম্পন্ন হয়। এই মন্দির শিব ও শক্তি উভয় দেবতাকে অনুসরণ করে গঠিত তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে “হংসেশ্বরী”। এই মন্দির চত্বরের ভিতরে অনন্ত বাসুদেব মন্দির নামে এক বিখ্যাত আকর্ষণ রয়েছে যা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদিত। এই মন্দিরের নিকটেই আরেকটি মন্দির হল সম্ভবা কালী মন্দির। এই উভয় মন্দিরই পোড়ামাটির ভাস্কর্য দ্বারা অলঙ্কৃত। কলকাতা থেকে দুই ঘন্টার ড্রাইভ আপনাকে বাঁশবেড়িয়া পৌঁছে দেবে যা ব্যান্ডেল ও ত্রিবেণীর মধ্যে অবস্থিত একটি শিল্প শহর।
* সর্বশেষ সংযোজন : ১৮ - ই মে, ২০১৫
| | |