free_shipping_English_728x90

কন্যা শিশুদের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে – “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” প্রকল্প

June 10, 2015
Store-banner

“বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্প

“বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” প্রকল্প

উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলি যেমন “জন ধন যোজনা”, “ভারত নির্মাণ” এবং “স্বচ্ছ ভারত অভিযান” সফল বাস্তবায়নের পর, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ২২-শে জানুয়ারী হরিয়ানার পানিপতে আরো একটি প্রকল্পের উদ্ঘাটন করেছেন – “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” (কন্যা সন্তানকে রক্ষা করুন, কন্যা সন্তানকে শিক্ষিত করুন)।

প্রাথমিকভাবে, ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সংকলন সহ, এই প্রকল্পটি সারা দেশ জুড়ে এক’শটি জেলায় চালু করা হয়েছে। হরিয়ানা যেখানে শিশু লিঙ্গ অনুপাত (সি.এস.আর)-এর হার খুবই বিষণ্ণ, ১২-টি জেলাকে মনোনীত করা হয়েছেঃ রেওয়ারী, মহেন্দরগড়, ভিওয়ানি, ঝজ্জর, আম্বালা, কুরুক্ষেত্র, সোনপত, রোহতক, কর্নাল, কৈথল, পানিপত এবং যমুনা নগর।

এই পরিকল্পনাটি শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক ও আর্থিক এই উভয় ভাবেই মেয়েদেরকে স্বাধীনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকারের এই পদক্ষেপ সচেতনতা সৃষ্টিকে সহজতর এবং মহিলাদের জন্য অভিপ্রেত কল্যাণ পরিষেবা প্রদানের প্রবণতাকে উন্নত করে তুলতে পারে।

এই প্রকল্পটি কেন?

২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারিতে, শূন্য থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে শিশু লিঙ্গ অনুপাতের হারে একটি নিম্নগামী গতি প্রকাশিত হয়ে উঠে এসেছে। প্রকাশিত চিত্রে, প্রতি ১০০০ জন ছেলের অনুপাতে মেয়েদের সংখ্যা ক্রমশ নিম্নগামী হয়ে ৯১৯-এ নেমে এসেছে, ২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী এই সংখ্যা – ৯২৭ ছিল।

বর্তমানে অত্যাধুনিক ডায়াগনোস্টিক সরঞ্জামের পর্যাপ্ত উপলব্ধতার দরুণ অজাত শিশুর লিঙ্গ নিরুপণ সহ কন্যা-ভ্রুণ পরিত্যাগের জন্য গর্ভপাত পদ্ধতি, এটিকে আরও প্রসারণশীল করে তুলেছে। সামাজিক পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামির দরুণ অর্থনৈতিক সুবিধার বিবেচনাক্রমে পুত্র সন্তানের পক্ষপাতিত্ব এবং তার চেয়েও বেশি কন্যা সন্তানের সামাজিক দায়বদ্ধতার উপর এক গভীর মনোভাবাপন্নতা, দেশের পুরুষ ও স্ত্রীর অনুপাতের হারকে তির্যক রূপ দিয়েছে।

কন্যা শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষাগত চাহিদার সমস্যার তারতম্যতার বিভিন্ন গঠনের দরুণ এই বর্জন প্রক্রিয়া এমনকি জন্মের পরও চলতে থাকে।

তাছাড়াও, এটি যথার্থরূপে বর্ণিত রয়েছে যে, মহিলাদের অক্ষমতায়ন এমনকি তাদের জন্মের আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। আনুষঙ্গিক রূপে, তথ্য এই যে মহিলাদের ক্ষমতায়ন সার্বিক নেতৃত্ব দেয় এবং সমাজের অবৈজ্ঞানিক চর্চা ও বিশ্বাসের অনগ্রসরতা থেকে মুক্তি দেয়। এবং বাড়ির দিকে ধেয়ে আসা কুসংস্কার আচ্ছন্ন বিশ্বাস ও চর্চার গ্রামীণ লোকভাবনার সীমাবদ্ধতায়, নতুন মিডিয়া যোগাযোগের পদ্ধতিগুলিকে সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করা প্রয়োজন। “বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” অভিযান এই বিষয়টিকে বাস্তবে রূপায়িত করা এবং পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা নিয়ে আসার লক্ষ্যেই চালু করা হয়েছে।

মোদী কি বলেছিলেন?

প্রধানমন্ত্রী ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে বৈষম্যতার ইতি টানার জন্য বলেছিলেন,পরিতাপের বিষয় যে আমরা অষ্টাদশ শতকের মস্তিষ্ক বিচক্ষণতায় আজও বশবর্তী হয়ে রয়ে গিয়েছি। তিনি বলেন যে কন্যা ভ্রুণহত্যার সমাপ্তিই এর প্রধান চাবিকাঠি। যারা কন্যা ভ্রুণহত্যার অবদানে সামিল হন সেইসমস্ত চিকিৎসা সৌভ্রাতৃত্বদের মোদী পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে তাদের চিকিৎসায় শিক্ষার উদ্দেশ্য হল জীবনের রক্ষা করা, মেয়েদের হত্যা করা নয়।

প্রধানমন্ত্রী শিশু কন্যাদের কল্যাণের জন্য “সুকন্যা সমৃদ্ধি আ্যকাউন্ট” প্রকল্পও চালু করেছেন। তিনি ‘‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” – প্রসঙ্গের উপর একটি স্ট্যাম্প বা শিলমোহর উন্মোচিত করেছেন এবং ‘‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” প্রতিপালন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন।

আজকের দিনে কন্যা ভ্রুণহত্যা বন্ধ করতে, সমাজের প্রত্যেকের কন্যা শিশুদের প্রতি মনোভাব পরিবর্তন করা একান্ত প্রয়োজন। সমাজের প্রতিটি স্তরের মধ্যেই এই প্রথার প্রকোপ বিস্তার করে রয়েছে। এমনকি উত্তর-পূর্বীয় অঞ্চল ও উপজাতি অঞ্চল, যেখানে লিঙ্গ অনুপাতের চিত্র বেশ উন্নতভাবে বহাল, দেশের সেই সমস্ত বিভিন্ন অঞ্চলগুলিতেও এই কন্যা ভ্রুণহত্যার ঘটনা বেশ তুঙ্গে রয়েছে।

প্রচুর সংখ্যক কন্যা শিশুকে রক্ষার জন্য সরকার এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটির প্রবর্তন করেছেন।

প্রকল্পটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই নয় বরঞ্চ সমাজের জন্যও মঙ্গলময় হয়েছে

এই প্রকল্পটিতে, নারী ও শিশু উন্নয়নের মন্ত্রণালয়, অন্যান্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়; যেমন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করছে। প্রকল্পটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই নয় বরঞ্চ সমগ্র সমাজের জন্যও মঙ্গলময় হয়েছে। তাছাড়াও, ‘‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” যোজনা এমন সময়ে এসেছে যখন দেশ মহিলাদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা; যেমন ধর্ষণ ও অন্যান্য অপমানজনক আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারা বৃহত্তম শহরগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তার প্রসারণে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় বাজেটে সার্বিক সড়ক যানবাহনে মহিলাদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা নারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি স্বাগত পদক্ষেপ।

এই দুর্দান্ত প্রকল্পটি শ্রেষ্ঠ প্রবৃত্তি ও বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু সংখ্যক সেরা ফলপ্রসূ পদ্ধতিকে আলিঙ্গন করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, পশ্চিমবঙ্গে সন্তানদের শিক্ষার জন্য পর্যায়বৃত্ত মেয়াদী অন্তরে অর্থ স্থানান্তরের সক্রিয়তার প্রথা রয়েছে। পাঞ্জাবে, গর্ভবতী মেয়েরা তাদের প্রথম তিনমাসের মধ্যে নিবন্ধিত হয় যাতে কর্তৃপক্ষ তাদের দেখাশোনা করতে পারে এবং ভ্রুণহত্যার ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন। আরেকটি উদাহরণ হল তামিল নাড়ুর আম্মা বেবী কেয়্যার কিট।

যদিও, প্রবর্তনটি যুক্তিসম্মত হলেও বহু মানুষের দ্বারা এটি সবচেয়ে সমলোচিত হয়েছে। এটি বলা হয় যে, তহবিল বন্টণ ও প্রকল্প প্রণয়নই এর জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে আইনের সংশোধন ও যারা কন্যা শিশুদের আঘাত করে তাদের দন্ডের প্রয়োজন। এছাড়াও, কন্যা শিশুদের অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে গোঁড়াতেই শিক্ষার প্রয়োজন।


হিন্দিতে এই সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” প্রকল্প – হিন্দিতে

মোদী কর্তৃক প্রবর্তিত আরো কর্মসূচি –


  • প্রধান মন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা (পি.এম.জে.জে.বি.অয়াই)
  • প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা (পি.এম.এস.বি.অয়াই)
  • মুদ্রা ব্যাংক যোজনা
  • সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা
  • অটল পেনশন যোজনা (এ.পি.ওয়াই)
  • More articles from :
    Comments

    (required)