free_shipping_English_728x90
পশ্চিম বঙ্গ
ভারতের বিভিন্ন মানচিত্র

পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিক অবস্থান

Store-banner

West Bengal Geography in Bengali

পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিক অবস্থান

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান বৈচিত্র্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি ভারতের পূর্ব অংশে অবস্থিত। তার পূর্বে বাংলাদেশ আচ্ছাদিত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে সিকিম ও ভূটান অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পশ্চিমে আসাম রাজ্যটি অবস্থান করছে। রাজ্যের পশ্চিম দিকে রয়েছে বিহার ও ঝাড়খন্ড। ভৌগোলিকগত অবস্থানের দিক দিয়ে রাজ্যটি ২৩ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে।

পশ্চিমবঙ্গের মোট আয়তন হল প্রায় ৮৮,৭৫২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই রাজ্যের জনসংখ্যা হল প্রায় ৮,০২,২১,১৭১ জন। জন-ঘনত্বের দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৯০৪ জন মানুষ বাস করে। রাজ্যের মোট জনসংখ্যায় প্রতি ১০০০ জন পুরুষের অনুপাতে মহিলার সংখ্যা হল প্রায় ৯৩৪ জন। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার অধিকাংশই বাঙালি সম্প্রদায়ভূক্ত। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিবাসন, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

অঞ্চলের ভিত্তিতে এই রাজ্যের ভূ-সংস্থানও পরিবর্তিত হতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ হিমালয় পর্বত-মালাকে স্পর্শ করে আছে। পশ্চিমবঙ্গের ভূসংস্থান সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমির প্রারম্ভ থেকে পরিবর্তিত হয়। এই গাঙ্গেয় সমভূমি পাললিক মৃত্তিকায় সমৃদ্ধ রয়েছে এবং এর ফলে এটি খুবই উর্বর প্রকৃতির হয়। এই জাতীয় মৃত্তিকা কৃষির জন্য খুবই উপযুক্ত। আবার দক্ষিণ দিকে, ব-দ্বীপ সমভূমি বা সুন্দরবন অঞ্চল হল পশ্চিমবঙ্গের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল।

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু পূর্ণ রূপে বৈচিত্র্যময়। রাজ্যটিতে একটি ক্রান্তীয় প্রকৃতির জলবায়ু অনুভূত হয়। পশ্চিমবঙ্গের ঋতুগুলিকে বিস্তৃতভাবে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ এবং শীত ঋতুতে বিভক্ত করা যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ভর করে আছে-

আয়তন

পশ্চিমবঙ্গ তার উত্তর দিকে হিমালয় পর্বতমালা ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরকে স্পর্শ করেছে। কলকাতা শহর হল এই রাজ্যের রাজধানী। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের এমন একটি রাজ্য যেখানে গ্রাম্য প্রাকৃতিক অনুভূতি গ্রহণের জন্য পর্যটকেরা বারবার এখানে আসে। রাজ্যের মোট আয়তন হল প্রায় ৮৮,৭৫২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই রাজ্যের জনসংখ্যা হল প্রায় ৮,০২,২১,১৭১ জন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি ভারতের পূর্বদিকে অবস্থান করে আছে। তার পূর্বদিকে বাংলাদেশ আচ্ছাদিত রয়েছে। সিকিম ও ভূটান রাজ্য দুটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিকে অবস্থান করছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে আসাম। ভৌগোলিকগত অবস্থানের দিক দিয়ে রাজ্যটি ২৩ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে।

পশ্চিমবঙ্গের আয়তনকে বিস্তৃত ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা যেতে পারে। হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলটি তরাই অঞ্চল নামে পরিচিত। চা-খেতের জন্য এই জায়গাটি বিখ্যাত। তারপর সামনের দিকে, গঙ্গা নদী দ্বারা গঠিত সমতলীয় ভূমি শুরু হয়। গঙ্গার প্রধান শাখা নদী হল হুগলী নদী যা কলকাতার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সুন্দরবন বা ব-দ্বীপ অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল।

পশ্চিমবঙ্গের মোট এলাকা শহর ও গ্রামীণ জনসংখ্যা নিয়ে গঠিত। আদমশুমারি অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ অধিবাসী গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকাই প্রধানত বাঙালিরা দখল করে আছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যায় বিষমসত্ত্বতা চোখে পড়ার মতো।

জীব বৈচিত্র্য

কোনও স্থানের জীব-বৈচিত্র্য বলতে প্রাণী-জগতের ভিন্নতাকে বোঝায়। সেইসঙ্গে উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের বিভিন্ন প্রজাতিও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এছাড়াও প্রকৃতির জীব-বৈচিত্র্যের সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রও যুক্ত রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তায়, বাস্তুতন্ত্র প্রবলভাবে অনুভূত হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এই রাজ্যে পরিবেশ দপ্তরের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ জীব-বৈচিত্র্য পর্ষদ (দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল বায়োডাইভ্যারসিটি বোর্ড) স্থাপন করা হয়ছে।

পশ্চিমবঙ্গের উদ্ভিদকূল রাজ্যের ভূ-সংস্থানের উপর নির্ভর করে আছে। ভৌগোলিক কারণ সহ ভূমিবৃত্তি এই সমস্ত প্রজাতির গাছপালার বৃদ্ধি এবং পুষ্টিসাধনের জন্য প্রধান দায়ী। ১৯৯৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বন-দপ্তরের সমীক্ষা অনুযায়ী, এই রাজ্যের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.০৬ শতাংশ অরণ্য দ্বারা আবৃত রয়েছে।

রাজ্যের উত্তর অংশে সংরক্ষিত অরণ্য এলাকা বা অভয়ারণ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে গরুমারা জাতীয় উদ্যান, জলদাপাড়ায় অবস্থিত নেওরা ভ্যালি জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য, চাপরামারি ও মহানন্দা হল জনপ্রিয় পর্যটন স্থল। বক্সা অঞ্চল তার ব্যাঘ্র সংরক্ষণের জন্য প্রসিদ্ধ। এছাড়াও এখানে বিরল প্রজাতির এক শৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, সরীসৃপ ও পাখি দেখতে পাওয়া যায়। সুন্দরবন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বিখ্যাত।

পশ্চিমবঙ্গের ভূ-সংস্থানে উত্তর থেকে দক্ষিণে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়, হিমালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে জেলাগুলি আচ্ছাদিত রয়েছে। হিমালয় পর্বত-মালার পাদদেশে তরাই অঞ্চল আচ্ছাদিত রয়েছে। গঙ্গা নদী ও তার শাখা-নদীগুলির দ্বারা গাঙ্গেয় সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে। গঙ্গার সংগমস্থলে সুন্দরবন ব-দ্বীপ অঞ্চলটি গড়ে উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বেশ কিছু নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই অঞ্চলের কয়েকটি নদী হল তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, রায়ডাক ও সঙ্কোশ। আবার দক্ষিণে, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে মহানন্দা নদী প্রবাহিত হয়েছে। হুগলী নদী হল গঙ্গার এক গুরুত্বপূর্ণ শাখানদী যা প্রধানত কলকাতার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নদী গঙ্গা তার বিভিন্ন উপনদীগুলি দ্বারা প্রতিপালিত হয়েছে এবং অবশেষে বিভিন্ন মোহনা গঠন করে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।

ভূ-সংস্থান

ভারতের পূর্বদিকে আচ্ছাদিত পশ্চিমবঙ্গের রজধানী শহর হল কলকাতা। রাজ্যের মোট আয়তন প্রায় ৮৮,৭৫২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, রাজ্যের জনসংখ্যা হল প্রায় ৮,০২,২১,১৭১ জন। পশ্চিমবঙ্গের ভূ-সংস্থানে বৈচিত্র্য রয়েছে এবং তার প্রাকৃতিক অবস্থানও খুবই আকর্ষণীয়।

পশ্চিমবঙ্গ তার তিনটি দিক থেকে ভূমি দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে। তার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর আচ্ছাদিত রয়েছে। রাজ্যটি তার সীমানা নেপাল, সিকিম, ভূটান, আসাম, বাংলাদেশ, ঝাড়খন্ড ও বিহার-এর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ হিমালয় পর্বত-মালাকে স্পর্শ করে আছে। এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত পার্বত্য অঞ্চলগুলি হল ভারতের জনপ্রিয় গন্তব্য স্থল। এই অঞ্চলের জলবায়ু সারাবছর কম-বেশী শীতলই থাকে। হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গে তরাই অঞ্চল নামে পরিচিত। এই অঞ্চলটি চা-চাষের জন্য বিশ্ব জুড়ে বিখ্যাত।

গাঙ্গেয়-সিন্ধু সমভূমির প্রারম্ভের দরুণ পশ্চিমবঙ্গের ভূসংস্থান পরিবর্তিত হতে থাকে। গঙ্গা নদী ও তার শাখা-নদী হুগলী এই অঞ্চলের উপর দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে। তবে, গঙ্গা নদীর প্রবাহ অটলভাবে পূর্বদিক বরাবর বয়ে গেছে। হুগলী নদী প্রধানত কলকাতার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলটি পাললিক মৃত্তিকা দ্বারা সমৃদ্ধ রয়েছে এবং যার ফলে এটি খুবই উর্বর প্রকৃতির হয়। এই প্রকারের মৃত্তিকা পশ্চিমবঙ্গের কৃষির উন্নতি সাধনে সাহায্য করেছে।

তারপর দক্ষিণে, সুন্দরবনের ব-দ্বীপ সমভূমি হল পশ্চিমবঙ্গের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল। গঙ্গা নদী ও তার শাখা-নদীগুলি এই সংগমস্থলে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই অঞ্চলের ভূ-সংস্থান ম্যানগ্রোভ অরণ্য দ্বারা আবৃত রয়েছে।

অবস্থান

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি ভারতের পূর্বদিকে অবস্থিত। রাজ্যটি প্রধানত নদী তীরবর্তী সমভূমি এলাকা এবং এর উত্তর প্রান্ত হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চল। তার অবস্থানের দরুণ, এখানে এক ক্রান্তীয় প্রকৃতির জলবায়ু অনুভূত হয়। ভৌগোলিকগত অবস্থানের দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ২৩ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। এটি ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র।

পশ্চিমবঙ্গ, ভারতের দ্বাদশ বৃহত্তম রাজ্য হিসাবে বিবেচিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের মোট আয়তন হল প্রায় ৮৮,৭৫২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, রাজ্যের জনসংখ্যা হল প্রায় ৮,০২,২১,১৭১ জন। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান, বিশ্বের সকল অংশের পর্যটকদের আকর্ষিত করে। উত্তরি হিমালয় পর্বতমালা রাজ্যটিকে বেষ্টন করে আছে। আসাম রাজ্যটি তার পূর্বদিকে আ্ছন্ন রয়েছে, অন্যদিকে সিকিম ও ভূটান তাদের সীমানা উত্তর দিকে এই রাজ্যের সাথে ভাগ করে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পশ্চিম দিকে নেপাল দেশটি অবস্থান করছে। এই রাজ্যের পশ্চিমদিকে বিহার ও ঝাড়খন্ড আচ্ছাদিত রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের অনুকূল অবস্থিতির দরুণ, সড়কপথ, রেলপথ ও বিমানপথের মাধ্যমে সহজেই এখানে প্রবেশ করা যায়। রাজ্যের উত্তর দিকে অবস্থিত শৈল শহর ও দক্ষিণ দিকে আচ্ছন্ন হয়ে থাকা সুন্দরবন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যস্থল। তার অবস্থান, রাজ্যের জলবায়ুকেও প্রভাবিত করেছে। যার ফলস্বরূপ, রাজ্যটি প্রধানত ধান সহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্য-শস্যের চাষের উপযোগী হয়ে উঠেছে।

উদ্ভিদজগৎ

উদ্ভিদকূলের এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ জগৎ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রকৃতির উদারতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং ভারতের পূর্ব প্রান্তের এই রাজ্যটি বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতে সমৃদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য প্রধানত তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে এবং সেগুলি হল তার অবস্থান, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও তার জলবায়ু।

ভূ-প্রাকৃতিকগত অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গের উদ্ভিদকূলকে শ্রেণী-বিভক্ত করা হয়। রাজ্যের উত্তর দিকে আচ্ছাদিত নাতিশীতোষ্ণ এবং ক্রান্তীয় বনাঞ্চল সহ পার্বত্যময় অরণ্য অঞ্চল। সাধারণত মালভূমি অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় পর্ণমোচী অরণ্য। ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন এলাকাটিকে আবৃত করে আছে।

রাজ্যের উত্তরে ১০০০ মিটার নীচে থেকে ১০০০ মিটার উচ্চতায় ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের অরণ্য দেখতে পাওয়া যায় এবং তারও উপরে উপ-ক্রান্তীয় বৃক্ষ যেমন ক্যাডরেলা, বিভিন্ন প্রকার গুল্ম-জাতীয় বৃক্ষ ও বাঁশ দ্বারা আবৃত অরণ্য দেখা যায়। নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য শঙ্কু-আকৃতির বৃক্ষ (দেবদারু), ওক্, রোডোডেনড্রন জাতীয় বৃক্ষ নিয়ে গঠিত হয়। কিন্তু চা-চাষের উদ্দেশ্যে, বেশ কিছু অরণ্য এলাকাকে পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষগুলি হল ভূর্জ, বীচ (মসৃণ কান্ড ও পত্র বিশিষ্ট একজাতীয় লম্বা বৃক্ষ), দেবদারু। পার্বত্য ভূ-খন্ডের আর্দ্র ঢালে প্রচুর পরিমাণে অর্কিড (রাস্না) ও শৈবাল জাতীয় গাছকে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। উচ্চতর উচ্চতায় ছোট-ছোট ঝোপ এবং ফুলের গাছপালা বেড়ে ওঠে। হিমালয়ের পাদদেশে, সংরক্ষিত অরণ্যাবৃত এলাকা লক্ষ্য করা যায়। এই অঞ্চলের উদ্ভিদ প্রধানত আর্দ্র পর্ণমোচী ধরনের হয়, এদের মধ্যে শাল হল খুবই জনপ্রিয়। এই অরণ্য অঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় ঝোপঝাড় ও ভারী লতা-গুল্মের জঙ্গল দেখতে পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গের, উচ্চতর উচ্চতার তুলনায় সুন্দরবন অঞ্চলে উদ্ভিদকূলের বেশি ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। সুন্দরী ও গরান্ হল এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষ।

* সর্বশেষ সংযোজন : ৩১ - শে মার্চ, ২০১৫