free_shipping_English_728x90
পশ্চিম বঙ্গ
ভারতের বিভিন্ন মানচিত্র

পশ্চিম বঙ্গ মানচিত্র

Store-banner

West Bengal Map in Bengali

পশ্চিম বঙ্গ মানচিত্র
* জেলা, রেলপথ, নদী এবং প্রধান সড়ক সংযোগ সহ পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র৷

পশ্চিম বঙ্গের উপর তথ্যাবলী

আধিকারিক ওয়েবসাইট www.westbengal.gov.in
স্থাপনের তারিখ 1 নভেম্বর, 1956
আয়তন 88,752 বর্গ কিলোমিটার
ঘনত্ব 1,029/ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা(2011) 91,276,115
পুরুষ জনসংখ্যা(2011) 46,809,027
মহিলা জনসংখ্যা(2011) 44,467,088
জেলার সংখ্যা 20
রাজধানী কলকাতা
নদীসমূহ হুগলী, তিস্তা, জলঢাকা, রূপনারায়ণ
অরণ্য ও জাতীয় উদ্যান গরুমারা জাতীয় উদ্যান, সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান, বল্লভপুর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, চাপরামারি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
ভাষা বাংলা, হিন্দি, ইংরাজী, নেপালি
প্রতিবেশী রাজ্য আসাম, সিকিম, বিহার, ঝাড়খন্ড, ওড়িশা
রাষ্ট্রীয় পশু মাছ ধরা বিড়াল
রাষ্ট্রীয় পাখি সাদা-গলার মাছরাঙা
রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ ছাতিম গাছ
রাষ্ট্রীয় ফুল শিউলি
রাজ্যের অভ্যন্তরীণ মূল উৎপাদন (2011) 48,536
সাক্ষরতার হার (2011) 86.43%
প্রতি 1000 জন পুরুষে মহিলার সংখ্যা 947
বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র 294
সংসদীয় নির্বাচনক্ষেত্র 42

পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে

পশ্চিমবঙ্গ দেশের উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থিত। উত্তরদিকে ভূটান এবং সিকিম রাজ্য দ্বারা, পূর্বদিকে বাংলাদেশ, উত্তরপূর্ব দিকে আসাম রাজ্য, দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে ওড়িশা রাজ্য, উত্তরপশ্চিমে নেপাল এবং পশ্চিমে বিহার রাজ্য দ্বারা বেষ্টিত। দক্ষিণদিকের পাললিক সমভূমি বিখ্যাত হুগলী নদী এবং তার উপনদীগুলি ময়ূরাক্ষী, দামোদর, কংসাবতী এবং রূপনারায়ণ দ্বারা জলপূর্ণ। উত্তরীয় হিমালয়ে অবস্থিত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলা খরস্রোতা নদী তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা এবং রঞ্জিৎ নদী দ্বারা জলপূর্ণ। উচ্চতার প্রকারভেদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃতি ও জলবায়ুর মধ্যে তারতম্য প্রকাশ পায়। হিমালয়ের পাদদেশের উত্তর পার্বত্য অঞ্চল থেকে সুন্দরবনের ক্রান্তীয় বনাঞ্চল পর্যন্ত, পশ্চিমবঙ্গ হল অগণ্য সৌন্দর্যের এক ভূমি, যার প্রতিটি অঞ্চল একে অপরের থেকে ভিন্ন।

পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে তথ্য

আয়তনের দিক দিয়ে, পশ্চিমবঙ্গকে দেশের এক ক্ষুদ্রতম রাজ্য হিসাবে এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে এক বৃহত্তম রাজ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম মহানগরী, কলকাতা হল এখানকার রাজধানী; অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর ও নগরগুলি হল হাওড়া, আসানসোল, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, খড়গপুর এবং হলদিয়া। পশ্চিমবঙ্গে ২৯৫টি আসন যুক্ত একক-কক্ষ বিশিষ্ট বিধানসভা নির্বাচন ক্ষেত্র রয়েছে। রাজ্য থেকে ৫৮ জন সদস্যকে ভারতীয় সংসদে পাঠানো হয়ঃ ১৬ জন সদস্যকে রাজ্যসভায় (উচ্চতর কক্ষে) এবং ৪২ জন সদস্যকে লোকসভায় (নিম্নতর কক্ষে)। স্থানীয় সরকার ২০টি প্রশাসনিক জেলার উপর ভিত্তি করে গঠিত।

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস

প্রাক-ঐতিহাসিক যুগেও বাংলার এক বিশিষ্ট স্হান ছিল। আলেকজান্ডারের আক্রমণের সময় বাংলার উপর গঙ্গারিদাই নামক এক শক্তিশালী সাম্রাজ্যের শাসন ছিল। অভ্যুত্থানকারী গুপ্ত ও মৌর্য্যরা কিছুটা হলেও বাংলার উপর সামান্য প্রভাব বিস্তার করেছিল। তারপর শশাঙ্ক এই বাংলার রাজা হয়ে ওঠেন এবং সপ্তম শতাব্দীর সূচনার মধ্যকালে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মনে করা হয়। তিনি পাল রাজবংশের প্রদর্শক গোপাল দ্বারা অনুসৃত হন যারা অনেক শতক ধরে এখানে শাসন করেন এবং এখানে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। পাল-দের পরে সেন সাম্রাজ্য আসে যাদের দিল্লীর মুসলিম শাসক দ্বারা অবসান হয়। ষোড়শ শতাব্দীর মোঘল আমল পর্যন্ত বাংলা বিভিন্ন মুসলিম শাসক ও রাজাদের দ্বারা শাসিত হয়।

পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি এবং পরিকাঠামো

কৃষি এই রাজ্যের আয়ের এক মূখ্য ভূমিকা পালন করে এবং রাজ্যের প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজন মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। দেশের পাট উৎপাদনের অধিকাংশ শতাংশই এই রাজ্যের খাতে রয়েছে। সেইসঙ্গে এটি চা-য়েরও একটি প্রধান উৎপাদক। রাজ্যের উৎপাদিত গুরুত্বপূর্ণ ফসলগুলির মধ্যে রয়েছে আলু, তৈলবীজ, পান, তামাক, গম, বার্লি এবং ভূট্টা। এই রাজ্যটি ভারতের মুখ্য ধান উৎপাদিত রাজ্যগুলির মধ্যে এক অন্যতম। ডলোমাইট, চুনাপাথর এবং চীনামাটি সহ রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ-পদার্থ উৎপন্ন হয়। এখানে ইস্পাত কারখানা, অটোমোবাইল-উৎপাদন কারখানা এবং বিভিন্ন রাসায়নিক, যন্ত্র-নির্মাণ এবং সূক্ষ-ইঞ্জিনীয়ারিং কারখানা রয়েছে। রাজ্যের পরিকাঠামোর বিন্যাস নিম্নরূপঃ

সড়ক পৃষ্ঠতল - ২৫৯৮৪ কিলোমিটার, অসমতল-৩২০১৬ কিলোমিটার, জাতীয় সড়ক -১৬৩১ কিলোমিটার।

রেলপথ- ৩৭৬৭ কিলোমিটার পূর্ব এবং দক্ষিণপূর্ব রেলের সদর দপ্তর কলকাতায় অবস্থিত।

বেতার যোগাযোগ- মৌলিক টেলিফোন- কার্যকরী লাইন- ৭৯৭৮০০ অপেক্ষারত তালিকা- ১৫০২০০ এক্সপ্রেস ডিম্যান্ড- ১০০ জনের মধ্যে ১.৪ ভি.এস.এন.এল তার আন্তর্জাতিক গেটওয়ে এবং কলকাতার কেন্দ্রে ও ধারেপাশে রয়েছে। মোবাইল সেলুলার সারভিসেস (জি.এস.এম) গ্রেটার কলকাতার মধ্যে মোডি-টেলস্ট্রা এবং ঊষা মার্টিন টেলিকম মালয়েশিয়া দ্বারা প্রদান করা হয়। রাজ্যের বাকি জায়গায় মোবাইল পরিষেবা প্রদান করা হয় রিল্যায়েন্স/এন.ওয়াই.এন.ই.এক্স দ্বারা। পাবলিক রেডিও পেজিং পরিষেবা চারটি পরিচালক দ্বারা এবং ই-মেল পরিষেবা বিভিন্ন আয়োজক পরিচালকদের থেকে উপলব্ধ হয়।

বিমানবন্দর:

  • অন্তর্দেশীয়ঃ বাগডোগরা
  • আন্তর্জাতিকঃ কলকাতা

প্রধান বন্দর: কলকাতা, হলদিয়া

পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিক অবস্থান

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানে ভিন্নতা রয়েছে। রাজ্যটি ভারতের পূর্ব অংশে অবস্থিত; এর পূর্বদিকে বাংলাদেশ অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরদিকে রয়েছে সিকিম ও ভূটান। আসাম রাজ্যটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থান করে আছে। রাজ্যের পশ্চিমদিকে বিহার এবং ঝাড়খন্ড অবস্থিত। রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান হল ২৩ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। পশ্চিমবঙ্গের মোট আয়তন হল ৮৮,৭৫২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, রাজ্যের জনসংখ্যা হল প্রায় ৯,১২,৭৬,১১৫ জন। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার ঘনত্বে এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০২৯ জন লোক বাস করে। রাজ্যের মোট জনসংখ্যায়, প্রতি ১০০০ জন পুরুষের মধ্যে মহিলার অনুপাত হল ৯৪৭ জন। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার অধিাংশই বাঙালী। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলি থেকে আগত অধিবাসীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ জনসংখ্যার বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে গঠিত, যেমন ভারতীয় মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি, সি.পি.আই, অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক, বহুজন সমাজ পার্টি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি, সমাজবাদী পার্টি, জাতীয় কংগ্রেস পার্টি এবং আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে রয়েছে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস, এস.ইউ.সি.আই, সি.পি.আই.এম.এল, ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা, পি.ডি.এস, জে.ডি.এস, জে.ডি.ইউ, আর.এস.পি ইত্যাদি।

পশ্চিমবঙ্গের বিচার ব্যবস্থা

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য একটি নিয়মানুগ এবং সংগঠিত বিচার বিভাগের সঙ্গে গঠিত রয়েছে যা দ্রুত ন্যায়বিচারের প্রদানে সহায়তা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা, ভারতে সরকারের একটি ফেডারেল প্রথা অনুসরণ করা হয় না। ভারতে সরকার শাসনাধীনের এক অভেদ্য প্রথা মেনে চলে যার সুপ্রিম আদালত হল সর্ব্বোচ্চ বিচারীয় কর্তৃপক্ষ যা প্রত্যেকটি রাজ্যের উচ্চ আদালত দ্বারা সমর্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের সমাজ ও সংস্কৃতি

মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন চতুর্থাংশ গ্রামে বসবাস করে। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে, তাদের জাতির উৎপত্তির ভিন্নতা ও আদিবাসী সহ, হিন্দু, মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আনুগত্য দাবি করে আছে, বাকিদের অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। পশ্চিমবঙ্গে ৪০টি স্বীকৃত উপজাতি সম্প্রদায় রয়েছে-তাদের মধ্যে সুপরিচিত হল সাঁওতালী, ওরাওঁ, মূনা, লেপকা এবং ভূটিয়া-যারা মোট জনসংখ্যার দশ ভাগের মধ্যে প্রায় এক ভাগ নিয়ে রয়েছে। অধিকাংশ মানুষেরই ভাষা হল বাংলা, এর সঙ্গে সংখ্যালঘু ভাষা হিসাবে রয়েছে হিন্দি, উর্দূ, নেপালি এবং ইংরাজী। যদিও, ইংরাজী আন্তর্জাতিক ভাষা হিসাবে এখানকার প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন

পূর্ব ভারতের এই রাজ্যটি দেশের সমস্ত জায়গার পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এখানকার বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গকে একটি অনুকূল পর্যটন স্থল হিসাবে গড়ে তুলেছে। রাজ্যটির মধ্যে অবস্থিত তার পর্বত বা ঘন সবুজ অরণ্য, সমুদ্র সৈকত বা উপাসনার আবাসন হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য এলাকা রাজ্যের এক প্রধান আকর্ষণ। দার্জিলিং-য়ের উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যপট থেকে কিছু দূরেই শিলিগুড়ির শান্ত প্রকৃতি, অত্যাশ্চর্য্য চা বাগান থেকে অরণ্যময় বন, পশ্চিমবঙ্গ পার্বত্য এলাকায় প্রত্যেকের জন্য কিছু না কিছু আছেই। এই পার্বত্য এলাকা কিছু ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্যও বহন করে চলেছে। কিন্তু পশ্চিমঙ্গের পার্বত্য এলাকায় তার স্নিগ্ধ এবং অতীব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বের সমস্ত জায়গার পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। প্রতিটি পাহাড়ী এলাকা একে অপরের থেকে ভিন্ন এবং প্রকৃতির নির্মল ধাপে পর্যটকদের, তাদের নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলার এক মহান সুযোগ প্রদান করে। এখানে রয়েছে অনেক অরণ্য ও উপত্যকা, সুস্পষ্ট গঠন এবং প্রশান্ত পর্বত পদচারণা। পশ্চিমবঙ্গের কিছু পাহাড়ী এলাকা খুবই পুরনো এবং ভারতের ইতিহাসের সেই প্রাচীন সময়কে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। সেগুলি দর্শকদের নিখুঁত পর্বত অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ পরিদর্শন মূলক কয়েকটি স্থানের নাম হলঃ

  • অযোধ্যা পাহাড়
  • ব্যান্ডেল গির্জা
  • কোচবিহার রাজপ্রাসাদ
  • কার্জন গেট
  • দীঘা সৈকত
  • গান্ধি ঘাট
  • ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেন
  • মায়াপুরে অবস্থিত আই.এস.কে.সি.ও.এন (ইন্টারন্যাশন্যাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণা কনশিয়াসনেশ) মন্দির।
  • কান্তানগর মন্দির
  • রায়গঞ্জ পক্ষী সংরক্ষণ
  • শান্তিনিকেতন
  • সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান

পরিবহন

পশ্চিমবঙ্গ, পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা সু-সংযুক্ত রয়েছে। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক সহযোগে রাজ্যের সড়ক মাধ্যম প্রায় ৯২,০০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই সড়কগুলি রাজ্যের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট ছোট নগর ও গ্রামগুলিকেও সংযুক্ত করেছে। রাজ্যে একটি উন্নত সুসংযুক্ত রেলপথ সংযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর, কলকাতা হল, ভারতীয় রেলের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলের রেলপথের যেমন- পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথ এবং কলকাতা মেট্রোর সদর দপ্তর। বিমানপথ দ্বারাও এই রাজ্যে পৌঁছানো খুবই সহজ। দমদমে অবস্থিত কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল রাজ্যের বৃহত্তম বিানবন্দর। এই রাজ্যে অবস্থিত অন্য কয়েকটি বিমানবন্দর হল বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই রাজ্যে সরকারি মালিকানাধীনে সংগঠিত অনেক বাস পরিষেবা রয়েছে। এই সংস্থাগুলির পাশাপাশি, অনেক বেসরকারি সংস্থাও এই রাজ্যের মধ্যে তাদের বাস পরিষেবা পরিচালনা করে।

শিক্ষা

রাজ্য সরকার বা বেসরকারি সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত রাজ্যে অনেক বিদ্যালয় রয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্যদ, কেন্দ্রীয় মধ্য শিক্ষা পর্যদ (সি.বি.এস.ই), কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশন (সি.আই.এস.সি.ই) এবং ন্যাশন্যাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুল (এন.আই.ও.এস) দ্বারা অনুমোদিত। এই রাজ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনুমোদিত মহাবিদ্যালয় রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়াশোনার সুযোগ করে দেয় যেমন কলা, বিজ্ঞান, মেডিক্যাল, প্রযুক্তি, ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বেশ কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা ন্যাশন্যাল মেডিক্যাল কলেজ এবং নর্থ বেঙ্গল ডেন্টাল কলেজ। আইন নির্দেশ বিষয়েও শিক্ষার্থীদের অনেক কলেজে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে যেমন হাজরা ল্য কলেজ, সুরেন্দ্রনাথ ল্য কলেজ এবং যোগেশচন্দ্র চৌধূরি ল্য কলেজ। এগুলির সঙ্গে সঙ্গে, এখানে ইঞ্জিনীয়ারিং এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়নের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

ভাষা

বাংলা ও ইংরাজী হল পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ভাষা। রাষ্ট্রীয় ভাষা হিন্দিতেও এই রাজ্যে অনেকে কথা বলে। দার্জিলিং জেলার তিনটি উপবিভাগে তাদের সরকারি ভাষা হিসাবে নেপালি ভাষার প্রচলন রয়েছে। উর্দূ, ওড়িয়া, সাঁওতালি হল অন্যান্য আরোও কিছু ভাষা যেগুলিতে এই রাজ্যের মানুষ কথা বলে।

পশ্চিমবঙ্গ মিডিয়া

আধুনিক দুনিয়ায়, তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ এবং সাধারণ উপায় হল সংবাদপত্র। পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন পাঁচশোর বেশি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় এবং এগুলির মধ্যে তিনশোই বাংলা ভাষায় প্রকাশিত। রাজ্যের তত্ত্বাবধানে টেলিভিশন সম্প্রচার হল দূরদর্শন এবং বেসরকারি রেডিও স্টেশন হল অল ইন্ডিয়া রেডিও। বেসরকারি এফএম স্টেশনগুলি উপলব্ধ রয়েছে একমাত্র আসানসোল, কলকাতা এবং শিলিগুড়িতে। পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্রগুলি সাধারণত রাজ্যের, দেশের এবং বিশ্বের সাম্প্রতিক খবর প্রকাশ করে। সংবাদপত্রগুলিতে রাজনীতিক, সমাজিক, অপরাধ-মুলক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসা, খেলার ঘটনাবলী সম্পর্কে খবর প্রকাশিত হয়। এগুলিতে সম্পাদকীয়, সমসাময়িক বিষয়ের উপর হাস্যকৌতুকের মাধ্যমে কার্টূন এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

Kolkata Bankura Barddhaman Birbhum Darjeeling Haora Hooghly North Dinajpur Jalpaiguri  Koch Bihar Maldah Murshidabad East Medinipur Nadia North 24-Parganas Puruliya South 24-Parganas South Dinajpur West Medinipur NEPAL SIKKIM BHUTAN BIHAR ASSAM MEGHALAYA BANGLADESH JHARKHAND ORISSA Alipurduar * সর্বশেষ সংযোজন : ২০- শে ফেব্রুয়ারী , ২০১৫