free_shipping_English_728x90

ত্রিপুরা পর্যটন মানচিত্র

Store-banner

Travel to Tripura in Bengali

ত্রিপুরা পর্যটন মানচিত্র
* মানচিত্রে ত্রিপুরার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থানগুলি দেখানো হয়েছে।

ত্রিপুরা পর্যটন




ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ত্রিপুরা তার শান্ত সরল ও মনোরম পরিবেশের জন্য ভ্রমনের একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ত্রিপুরা ভ্রমণকালে ঘূর্ণায়মান সবুজ উপত্যকা, ঘন অরণ্য, সুস্পষ্ট প্রাসাদ এবং প্রাচীন বৌদ্ধস্থল আপনার দৈনন্দিন জীবনের উদ্বেগকে ভুলিয়ে দেবে।


ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য হল ত্রিপুরা। এই রাজ্যের ইতিহাস মহাভারতের সময় কাল থেকে সূচনা হয়েছে। জনপ্রিয় ধারনা অনুযায়ী বলা হয়ে থাকে যে ভুমি অধিষ্ঠাত্রী দেবী “ত্রিপুরা সুন্দরী”র নামানুসারে এই নামটি নামাঙ্কিত করা হয়েছিল।


ত্রিপুরা পূর্বে মাণিক্য রাজবংশের মহারাজাদের দ্বারা শাসিত ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই রাজ্যেটি ভারতের সঙ্গে মিলিত হয় এবং ১৯৭২ সালে ত্রিপুরা একটি রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করে।

ত্রিপুরার জনপরিসংখ্যান
অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অংশ

উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ,

পূর্বে আসাম এবং মিজোরাম
অক্ষাংশ 22 ডিগ্রী 56 মিনিট থেকে 24 ডিগ্রী 32 মিনিট উত্তর
দ্রাঘিমাংশ 90 ডিগ্রী 09 মিনিট থেকে 92 ডিগ্রী 20 মিনিট পূর্ব
আয়তন 10492 বর্গ কিলোমিটার
জলবায়ু গ্রীষ্মকাল – গরম, শীতকাল – ঠান্ডা
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 36 ডিগ্রী সেলসিয়াস
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 7 ডিগ্রী সেলসিয়াস
বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 210 সেন্টিমিটার
রাজধানী আগরতলা
জনসংখ্যা 3191168
ভাষা বাংলা,কক্বরক্, চাকমা, মণিপুরী, হিন্দি ও ইংরেজি
ধর্ম হিন্দু, বৌদ্ধ, উপজাতীয় ধর্ম
পরিদর্শনের সেরা সময় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ
পরিধান গ্রীষ্মকালে – সূতি, শীতকালে – পশমী

ত্রিপুরায় পৌঁছানোর উপায়




ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে দূরর্বতী স্থান হিসাবে গন্য করা হয়ে থাকে। ছোট হলেও এটি অতীব সুন্দর একটি রাজ্য। পুরাতন বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থান ও হিন্দু মন্দির, বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন উপজাতিদের স্পন্দনশীল গঠনের সমন্বয়ে ত্রিপুরা অনাবিষ্কৃত সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে।

বিমান মাধ্যমে

প্রধান বিমানবন্দরটি রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত। আগরতলা থেকে অনেক সরকারি ও বেসরকারি বিমানসংস্থা নিয়মিত বিমান চালনা করে থাকে। কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে উড়ানের মাধ্যমে ত্রিপুরা পৌঁছতে মাত্র ৪৫ মিনিট সময় লাগে। এই রাজ্যে আরও ৩-টি বিমানবন্দর আছে যথা খোয়াই, কমলপুর এবং কৈলাশহর যেখানে ছোট নিজস্ব বিমান সহজেই অবতরণ করতে পারে।

সড়ক মাধ্যমে

৪৪-নং জাতীয় সড়কের সাহায্যে আগরতলা থেকে শিলং এর মাধ্যমে গুয়াহাটি পৌঁছানো যায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে। অবস্থানগত সুবিধার কারনে বাংলাদেশ থেকে সড়ক মাধ্যমে ত্রিপুরা পৌঁছানো সহজ।

রেল মাধ্যমে

আগরতলা থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কুমারঘাট হল নিকটস্হ রেলপ্রান্ত। কুমারঘাট রেলপথ দ্বারা গুয়াহাটির সাথে সংযুক্ত, যা দেশের বাকি অংশের সাথেও যুক্ত।ভারতের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনগুলি থেকে যে কেউ গুয়াহাটি পৌঁছাতে পারে।

tripura-tourist-map
ত্রিপুরার বিস্তৃত পর্যটন মানচিত্র দেখতে ক্লিক করুন


ত্রিপুরার পরিদর্শনযোগ্য স্থান





ত্রিপুরার চিত্রবৎ পরিবেশ সবুজ উপত্যকা, পাহাড়ী স্রোত, পাহাড় এবং উপত্যকা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। ত্রিপুরার জনপ্রিয় আকর্ষণ স্থলগুলি হল কমলাসাগর হ্রদ, ডামবুর হ্রদ, উজ্জায়ান্তা প্রাসাদ, নীড়মহল, কুঞ্জবন প্রাসাদ, ত্রিপুরা সরকারী যাদুঘর, জাম্পুই পাহাড় ইত্যাদি। এই রাজ্যটি ২২ ডিগ্রী ৫৬ মিনিট থেকে ২৪ ডিগ্রী ৩২ মিনিট উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯১ ডিগ্রী ১০ মিনিট থেকে ৯২ ডিগ্রী ২১ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই রাজ্যটি পূর্বে মিজোরাম, উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম এবং উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিকে বাংলাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত।


আপনি যদি ত্রিপুরার সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীর সাক্ষী হতে চান তাহলে গোমতী অভয়ারণ্য, তৃষ্ণা অভয়ারণ্য, রোয়া অভয়ারণ্য এবং সিপাহিজলা অভয়ারণ্যগুলি পরিদর্শন করতে পারেন। যে সমস্ত ব্যাক্তিরা ধর্মীয় স্থান ভ্রমন করতে চান তাদের জন্যও এখানে অনেক মন্দির এবং বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে যেমন ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, কমলাসাগর কালী মন্দির, ভুবনেশ্বরী মন্দির, দক্ষিণ ত্রিপুরার মনু বকুল বৌদ্ধ মন্দির, আগরতলার বেণুবন বিহার বৌদ্ধ মন্দির, উত্তর ত্রিপুরার পেচারথাল বৌদ্ধ মন্দির।


ত্রিপুরায় বহু সংখ্যক আকর্ষণীয় এবং সুশোভিত পর্যটক স্থান রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা, তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সুন্দর প্রাসাদ, অভয়ারণ্য, পবিত্র মন্দির এবং জাদুঘরের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এই শহরে ভ্রমন করার জন্য অনেক আকর্ষনীয় পর্যটনস্থল রয়েছে।

ত্রিপুরার দর্শনীয় স্থান





ত্রিপুরার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য





ত্রিপুরার অভয়ারণ্য স্পষ্টভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে ব্যাখ্যা করে। এই রাজ্যে চারটি অভয়ারণ্য রয়েছে যেগুলি বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থল হিসাবে এবং প্রকৃতির একটি অত্যাশ্চর্য আলো-আঁধারি নিয়ে অবস্থিত।


গোমতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

গোমতী অভয়ারণ্য এই রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তসীমায় অবস্থিত এবং এটি ত্রিপুরার বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্যে একটি। এই অভয়ারণ্যটি ৩৮৯,৫৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বেষ্ঠিত এবং এর মধ্যে ৩০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে একটি অরণ্যময় জলাশয় রয়েছে। এই অভয়ারণ্যটি প্রাথমিকভাবে হাতি, হরিণ, সম্বর, বাইসন-এর জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ এবং পরিযায়ী বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন প্রজাতির আশ্রয়স্থল হিসাবেও এটি কাজ করে থাকে।


রৌয়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

ত্রিপুরার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত রোয়া অভয়ারণ্যটি হল এই রাজ্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত অঞ্চল। এই ছোট অভয়ারণ্যটি ৮৫,৮৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং প্রাকৃতিক অরন্য ও ঘন বনমধ্যস্থ মাঠ দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই অভয়ারণ্যটির মধ্যে অসংখ্য প্রজাতির বন্য প্রাণী, স্তন্যপায়ী প্রানী, পাখি এবং ঘন গাছপালা রয়েছে যা উদ্ভিদবিজ্ঞানী, পক্ষীবিদ এবং কীটবিজ্ঞানীদের কাছে একটি আকর্ষনীয় গন্তব্যস্থল হিসাবে পরিচিত। এই রোয়া অভয়ারণ্যটি তার সমৃদ্ধ ঔষধি, পশুখাদ্য, অর্কিড এবং অন্যান্য উদ্যানজাত গাছপালার জন্য সুবিখ্যাত।


সিপাহিজলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

সিপাহিজলা অভয়ারণ্যটি রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহর থেকে 35 কিমি দূরত্বে অবস্থিত। এই অভয়ারণ্যটি ১৮৫,৫৩ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং বন্যপ্রাণী, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রানীদের আশ্রয়স্থল হিসাবে সুবিখ্যাত। জীব বৈচিত্র্যের মূর্তিস্বরূপ এই সিপাহিজলা অভয়ারণ্যটি আদর্শ পশ্চাদপসরণ এবং ত্রিপুরা রাজ্যের ইকো পর্যটনকে উৎসাহিত করে।



ত্রিপুরার সরকারী যাদুঘর





ত্রিপুরার সরকারী যাদুঘর হল একটি সংগ্রহস্থল যেখানে হস্তনির্মিত এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে যা উত্তর-পূর্বের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। বস্তুত, এই যাদুঘটি রাজ্যের সাংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গন্য। ১৯৭০ সালের ২২ জুন এই যাদুঘর, উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রাজ্যস্তরের মিউজিয়ামে উপনীত হয়েছে।


ত্রিপুরার সরকারী যাদুঘর হলো একটি সংগ্রহস্থল যেখানে বিশুদ্ধ চারু ও কারুশিল্প জড়িত সৌন্দর্যের অমূল্য টুকরো সংগৃহীত রয়েছে। যাদুঘরটি রাজধানী আগরতলার, চোওমোহানি ডাকঘরের নিকটে অবস্থিত এবং চারটি গ্যালারীর সমন্বয়ে গঠিত;যথা :

  • প্রত্নতাত্ত্বিক গ্যালারী।
  • উপজাতীয় সংস্কৃতি গ্যালারী।
  • পেন্টিং গ্যালারী।
  • বিভিন্ন যুগের ভারতীয় ভাস্কর্য গ্যালারী।



গ্যালারীগুলিতে ১৬৪৫-এর বেশী বিস্ময়কর ঐতিহাসিক স্মারক রয়েছে। পণ্ডিত এবং ঐতিহাসিকদের দ্বারা প্রত্নতাত্ত্বিক খননকালে অনেক সোনা, রূপা ও তামার মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে যা সেই সময়ের মুদ্রাসংক্রান্ত প্রাগৈতিহাসিক গুরুত্বকে প্রমানিত করে। অনেক মৃৎশিল্প টুকরো, ভাস্কর্য এবং পোড়ামাটি, ব্রোঞ্জ মূর্তি এবং আদিম তাম্র শিলালিপিও পাওয়া গিয়েছে। চমৎকার তৈল চিত্র, ছবি এবং অলঙ্করণ, বস্ত্র সেইসাথে অলঙ্কার এখানকার গ্যালারীগুলিকে উজ্বল করেছে।


এই মিউজিয়ামের সংরক্ষণাগারে রয়েছে কিছু মূল্যবান পান্ডুলিপি যেগুলি বাংলা কাহিনী ও সংস্কৃত মহাকাব্যের অংশ। এই মিউজিয়ামের মধ্যে একটি লাইব্রেরি রয়েছে যেখান থেকে ত্রিপুরার ইতিহাস, পুরাতত্ত্ব, স্থাপত্য ও নৃবিদ্যা সম্বন্ধে জানতে পারা যায়।



ত্রিপুরার মন্দির





ত্রিপুরার মন্দিরগুলি হল এই রাজ্যের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ত্রিপুরার মন্দিরগুলি তাদের স্থাপত্য এবং ভাস্কর্য-এর জন্য সুপরিচিত এবং সারা বিশ্বের হাজার হাজার পর্যটকদের আকর্ষিত করে।


ভুবনেশ্বরী মন্দির

ভুবনেশ্বরী মন্দিরটি গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত যা ত্রিপুরার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্দির। ১৬৬০-১৬৭৫ সালে মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য দ্বারা ত্রিপুরার ভুবনেশ্বরী মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরটি তার নিদারুণ স্থাপত্যকর্মের জন্য সুপরিচিত। মন্দিরের ছাদ, কেন্দ্রস্থলের চূড়া এবং প্রবেশপথ চার চালা শৈলী বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। নোবেল জয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রাজর্ষি’ এবং ‘বিসর্জন’ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে এই মন্দিরটি ব্যবহৃত হয়েছিল।


ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির

হিন্দুদের ৫১ টি পীঠস্থানের একটি হল এই ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির। বাংলা-কুটির শৈলীতে নির্মিত ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরটি আগরতলা থেকে প্রায় 55 কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। মন্দিরগৃহে দুটি একরূপী দেবী রয়েছে, যারা ত্রিপুরা সুন্দরী এবং ছোটি মা নামে পরিচিত। এছাড়াও ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরটি ‘কূর্ম পিঠ’ নামে পরিচিত, যেহেতু মন্দির প্রাঙ্গণটি অবিকল ‘কূর্ম'(কচ্ছপ)-এর মতন।

কমলাসাগর কালী মন্দির


কমলাসাগর কালী মন্দিরটি কসবা কালী বাড়ি নামেও পরিচিত এবং এটি আগরতলা থেকে প্রায় 27 কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ত্রিপুরার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থানের একটি হল কমলাসাগর কালী মন্দির যা বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। মন্দিরগৃহে অবস্থিত দেবীর ভাবমূর্তিকে মহিষমর্দিনীর অনুরূপ হিসাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। কমলাসাগর কালী মন্দিরটি ১৭ শতাব্দীর পূর্বে গঠিত হয়েছিল এবং এটি কমলাসাগর নামক ক্ষুদ্র পাহাড়ের উপর অবস্থিত।

ত্রিপুরার নিকটবর্তী পর্যটন গন্তব্যস্থল




উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরায় কিছু উত্তেজনাপূর্ণ অনাবিষ্কৃত গন্তব্যস্থল রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি প্রত্যন্ত কোণে অবস্থিত ত্রিপুরা তার প্রাচীন ইতিহাস, ঘটনাস্থলের সামগ্রিক দৃশ্য এবং ঐশ্বর্যশালী প্রাসাদ এবং স্থাপত্যকীর্তির জন্য বিখ্যাত।


রাজধানী আগরতলা হল ত্রিপুরার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। এই শহরটি দর্শনীয় স্থানে পরিপূর্ণ এবং ১৮৩৮ খ্রীস্টাব্দে মহারাজা কৃষ্ণ কিশোর মাণিক্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগরতলায় জনপ্রিয় পর্যটক গন্তব্যস্থল যেগুলি দর্শনকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেইগুলি হল :

  • পুরাতন আগরতলা।
  • উজ্জায়ান্তা প্রাসাদ।
  • উমামহেশ্বর মন্দির।
  • জগন্নাথ মন্দির।
  • বেণুবন বিহার।
  • রবীন্দ্র কানন।
  • বুদ্ধ মন্দির।


ত্রিপুরায় কেনাকাটা




উপজাতি অধ্যুষিত ত্রিপুরার গর্ব হল সুবিশাল বনভূমি যেখানে বাঁশ ও বেতের প্রাচুর্য দেখা যায়। এই রাজ্যের চমৎকার হস্তশিল্পের ঐতিহ্য গঠনে এই দুটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা ত্রিপুরায় কেনাকাটা করতে আপনাকে আনন্দ দেবে।


ত্রিপুরার কেতাদুরস্ত গোষ্ঠীগুলি বেত থেকে বিভিন্ন উপযোগী জিনিস ও বস্তুসামগ্রী তৈরী করে, পাশাপাশি মাটি, কাঠ, তাল পাতা হস্তশিল্পের অন্যতম মাধ্যম হিসাবেও বিবেচিত হয়। ত্রিপুরার কারিগরদের চারুতা এবং সূক্ষ্ম ডিজাইন দ্বারা তৈরি হস্তনির্মিত জিনিস এবং আসবাবপত্র, তাদের সৌন্দর্যের জন্য দেশের মধ্যে সেরা স্থান দখল করে।


ত্রিপুরায় কেনাকাটার জন্য সবচেয়ে ভাল জায়গা হল রাজ্যের রাজধানী আগরতলা। আপনি আদিবাসী গ্রামগুলি পরিদর্শনের মাধ্যমে সেখানকার কারিগরদের কর্মযজ্ঞ দেখতে পারেন এবং তাদের কাছ থেকে কেনাকাটাও করতে পারেন।


অন্যান্য রাজ্যের ন্যায় ত্রিপুরাতেও আপনি কেনাকাটার জন্য সরকার পরিচালিত দোকান এবং ব্যক্তিগত দোকান খুঁজে পাবেন। এখানে বিচিত্র হস্তনির্মিত ভাণ্ডারের সঙ্গে আনন্দময় বাজার দর্শন করে আপনি আনন্দ লাভ করতে পারেন। একটি মিশ্র ব্যাগ জুড়ে যদি মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়-এর বৈশিষ্ট্য সামগ্রী থাকে তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই কারণ এই উত্তর-পূর্ব রাজ্যের শিল্প ও কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।

* সর্বশেষ সংযোজন : ২৯ - শে জুলাই, ২০১৫