দিল্লী পর্যটন
এক ঐতিহাসিক অতীত সহ এক আধুনিক মহানগরী দিল্লীতে ভ্রমণের সময় একজনের কি মনে হতে পারে? দিল্লী শহরের ইতিহাস, এক দীর্ঘ ও সুখ-দুঃখে মিশ্রিত এক ছককাটা ইতিহাস। দিল্লী, বহু সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন দেখেছে। দিল্লী সাতটি শহরের ধ্বংসাবশেষের উপর বিকশিত রয়েছে। হিন্দু রাজপুত শাসক থেকে শুরু করে মুঘল এবং অবশেষে ব্রিটিশদের দ্বারা এই দিল্লী নির্মিত হয়েছিল। দিল্লী একটি সত্যিকারের বিশ্বজনীন শহর যা সমস্ত জাতিগত সমষ্টির মানুষের আলিঙ্গনের মধ্যে দিয়ে তা উপনীত হয়েছে এবং সেখানকার বৈচিত্র্যময় শিল্পকলা, চারুকলা, রন্ধনপ্রণালী ও জীবনধারার মধ্য দিয়ে তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রতিফলিত হয়।
দিল্লী তার নিজস্ব অনন্য উপায়ে ঐতিহ্যগত ও আধুনিকতার এক সম্মেলন। দিল্লী ভ্রমণের সময় যে কেউ এক বিশাল পরিসর পর্যটন আকর্ষণ; যেমন – ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ থেকে আধুনিক স্থাপত্যের বিস্ময়, ঐতিহ্যময় বাজার থেকে মেগা মল এবং উদ্যান থেকে ধর্মীয় কেন্দ্রস্থল দেখতে পেতে পারেন। দিল্লীতে অনেক প্রধান প্রধান ঐতিহাসিক পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে যেগুলি দিল্লীতে কেউ ভ্রমণে গেলে অবশ্যই ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়; সেই আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কুতুব মিনার, হুমায়ুনের সমাধিসৌধ, লাল কেল্লা এবং পুরনো কেল্লা। দিল্লীর ঔপনিবেশিক পর্যটন আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন এবং ইন্ডিয়া গেট। দিল্লীতে আধুনিক পর্যটন আকর্ষণও রয়েছে; যেমন – লোটাস মন্দির ও দিল্লী হাট। দিল্লীতে বেশ কিছু স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর রয়েছে; যেমন – ন্যাশনাল মিউজিয়াম, রাজ ঘাট, শান্তি বন, যন্তর মন্তর এবং আরোও অনেক কিছু।
দিল্লী হল প্রসিদ্ধ স্বর্ণ ত্রিভূজ আবর্তনীর এক অংশ, যার মধ্যে অন্য দুটি হল আগ্রা এবং জয়পুর। প্রচুর পর্যটক তাদের ভারত সফরে দিল্লীতে ভ্রমণে গেলে সকলে দিল্লী থেকে এই সমস্ত পর্যটন স্থলে ঘুরতে যায়। আগ্রা হল মার্বেল পাথরের বিশ্ব বিখ্যাত স্থাপত্যের এক বিস্ময়, তাজমহলের আবাসস্থল।
দিল্লী ক্রেতাদের স্বর্গোদ্যান হিসাবে পরিচিত। দিল্লীতে কেনাকাটা করতে গেলে, পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন দ্রব্য বেছে নেওয়ার বিস্তৃত বিকল্প রয়েছে; সেগুলি হল অসাধারণ ভারতীয় কার্পেট, রেশম, গহনা, চর্ম ও রূপোর পরিধেয় বস্তু, হস্তশিল্প ও হাতে মুদ্রিত সূতি বা তৈরি পোশাক ইত্যাদি। আপনি যদি নকশাকার দামী দ্রব্য, নামী সংস্থার পণ্য বা স্থানীয় জামাকাপড়ের কেনাকাটা করতে চান, তাহলে আপনি দিল্লীতে ভ্রমণের সময়ে এই সমস্ত কিছুই দিল্লীর যে কোনও শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত মল্ বা রাস্তা ধারের দোকানগুলিতে আপনার সেরা দর-কষাকষির ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে কিনতে পারেন। কোনও একটি শহরকে বোঝার চিত্তাকর্ষক উপায় হল সেখানকার হাট-বাজারগুলিতে বিচরণ করা। সুতরাং, দিল্লীতে ভ্রমণ করতে গেলে আপনি অবশ্যই পুরনো দিল্লীর বাজারগুলিতে ভ্রমণ করুন; যেমন – চাঁদনী চৌক ও চাওড়ি বাজার। বাজার, যার মধ্যে একটি স্বতন্ত্র্য ভারতীয় বাতাবরণ রয়েছে, দিল্লীতে কেনাকাটা করার অভিজ্ঞতা এক অনন্য আস্বাদন যোগ করে। এখানে কারোল বাগ ও হৌজখাসে যে কেউ বাজার দোকান দেখতে পেতে পারেন। দিল্লী পর্যটন, দিল্লী হাটে কারুশিল্পীদের জন্য একটি স্থায়ী আউটলেট নির্মাণ করেছে, যেটি বছরের পর বছর ধরে এক জনপ্রিয় কেনাকাটার বাণিজ্য স্থল হয়ে উঠেছে।
দিল্লী হল অন্য পার থেকে আগত যাত্রীদের জন্য ভারতের প্রধান প্রবেশ কেন্দ্র। দিল্লী হল খুবই সু-সংযুক্ত, বিদেশী পর্যটকদের বিমান, রেল বা সড়ক মাধ্যমে দিল্লীতে পৌঁছানো খুবই সহজ ব্যাপার।
দিল্লী ভ্রমণের সেরা সময়
দিল্লীতে ভ্রমণের সেরা সময় হল অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাস, এইসময় আবহাওয়া খুবই মনোরম থাকে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের জন্য পর্যটকদের সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালের সময় দিল্লীর তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যায় এবং সেইজন্য গ্রীষ্মের সময়ে দিল্লী ভ্রমণ না করার উপদেশ দেওয়া হয়, কারণ এতে সর্দিগর্মির দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার যথেষ্ট উচ্চ সম্ভাবনা থাকে।
দিল্লীতে পৌঁছানোর উপায়
ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লীতে সারা বছর ধরে এক বিশাল সংখ্যায় পর্যটকেরা এখানে ভ্রমণে আসে। এই শহরে পৌঁছানো খুব একটা বিশাল কঠিন কাজ নয়, দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম মহানগরী হিসাবে এটিকে মর্য্যাদা দেওয়া হয়েছে। এখানে অনেক অবিরত বিমান, রেল ও বাস রয়েছে যেগুলি দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই শহরে যাতায়াত করে।
দিল্লী যদি আপনার গন্তব্যস্থল হয়, তবে অন্য কোনও দিকে তাকাবার প্রয়োজন নেই। এখানে আপনার জন্য এই লাল কেল্লা, কুতুব মিনার, লোটাস মন্দির ও আরোও অন্যান্য আকর্ষণের এই শহর দিল্লীতে পৌঁছানোর উপায় সম্বন্ধে এক সহজ নির্দেশিকা (গাইডলাইন্) রয়েছে।
বিমান মাধ্যমে
দিল্লীর ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রায় সমস্ত প্রধান বিমান সংস্থাগুলি সহ, বিশ্বের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সঙ্গে সু-সংযুক্ত রয়েছে। পালাম অন্তর্দেশীয় বিমানবন্দরটি ভারতের প্রধান শহরগুলির সঙ্গে দিল্লীকে সংযুক্ত করে রেখেছে।
* দিল্লীর সঙ্গে বিশ্বের বাকিদের সু-সংযুক্ত প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলি হল –
- ব্রিটিশ এয়্যারওয়েস – লন্ডন থেকে (হ্যাথরো বিমানবন্দর)।
- এয়্যার ফ্রান্স – প্যারিস থেকে (চার্লস দি গৌল্যে বিমানবন্দর)।
- চীন্ এয়্যারলাইনস – রোম – ফিউমিসিনো।
- জাপান এয়্যারলাইনস – টোকিও।
- শ্রীলঙ্কা এয়্যারলাইনস – কলম্বো।
* নতুন দিল্লী ও ভারতের অন্যান্য শহরগুলির সাথে যুক্ত অন্তর্দেশীয় বিমান সংস্থাগুলি হল –
|
|
|
রেলপথ মাধ্যমে
দ্য ইন্ডিয়্যান রেলওয়ে (ভারতীয় রেল) তার আধুনিক ও সুসংগঠিত সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দিল্লীকে ভারতের সমস্ত প্রধান ও অপ্রধান গন্তব্যস্থলগুলির সাথে সুসংযুক্ত করে রেখেছে। এই শহরের নতুন দিল্লী, পুরনো দিল্লী ও নিজামুদ্দিনে – তিনটি প্রধান রেলওয়ে স্টেশন বর্তমান। নিউ দিল্লী ক্যান্টনম্যান্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিলাসবহুল রেল যেমন – প্যালেস-অন-হুইলস, ফেয়্যারী ক্যুইন ও রয়্যাল ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস-ও পেতে পারেন। রাজধানী এক্সপ্রেস রেল রাজ্যের রাজধানীগুলির সাথে নতুন দিল্লীকে যুক্ত করেছে। শতাব্দী এক্সপ্রেস রেল নতুন দিল্লীকে প্রতিবেশী শহরগুলির সাথে যুক্ত করে রেখেছে।
* নীচে ভারতের প্রধান শহরগুলি থেকে দিল্লী-গামী রেলগুলির তালিকা দেওয়া হল –
|
|
|
সড়ক মাধ্যমে
সড়ক ও মহাসড়ক সংযোগের মাধ্যমে দিল্লী, ভারতের সমস্ত প্রধান শহরগুলির সাথে সু-সংযুক্ত রয়েছে। এই রাজ্যের প্রধান তিনটি বাস স্টপ হল কাশ্মীরি গেট-এ অবস্থিত ইন্ট্যার স্টেট বাস টার্মিনাস (আন্তঃ রাজ্য বাস টার্মিনাস বা আই.এস.বি.টি), সরাই কেল্লা ও আনন্দ বিহার। এই শহরে আরোও অন্যান্য বেশ কিছু কেন্দ্র রয়েছে যেখানে প্রচুর রাজ্য-চালিত এবং বেসরকারি পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা যেমন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত, শোভনীয় ও সাধারণ কোচের বাস পরিচালিত হয়।
দিল্লীতে ভ্রমণের উপায়
দিল্লীতে ভ্রমণের জন্য সেখানে প্রচুর বাস, মেট্রো রেল, অটো-রিকশা এবং সাইকেল-রিকশা রয়েছে। রাজ্যের অভ্যন্তরে পর্যটন ট্যাক্সি চলাচল করে। অন্যদিকে হলুদ ও কালো ট্যাক্সিগুলি দিল্লী শহরের যেকোনও জায়গায় যোগাোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। এগুলি যদিও নিরাপদ তবে তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। দিল্লী পরিবহন নিগম (দিল্লী ট্র্যান্সপোর্ট কর্পোরেশন্ বা ডি.টি.সি)-এর বাসগুলি শহরের যেকোনও স্থানে যায় এবং এগুলি পরিবহনের সবচেয়ে সস্তার মাধ্যম। অটো-রিকশা হল অন্য আরেকটি বিকল্প, কিন্তু একটি যুক্তিসঙ্গত ভাড়ার জন্য দরকষাকষি করা সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ।
দিল্লীর সমস্ত পর্যটন আকর্ষণের জন্য প্যাকেজ সফর সহ বিলাসবহুল বৈশিষ্ট্যের পর্যটন বাসগুলিও উপলব্ধ রয়েছে। সম্প্রতি এখানে দিল্লী মেট্রো রেলপথ চালু করা হয়েছে। এটি পরিবহনের এক সুবিধাজনক ও কার্যকরী মাধ্যম যা দিল্লী শহরের অভ্যন্তরীণ সমস্ত প্রধান স্থানগুলিকে সংযুক্ত করেছে।
দিল্লীতে পরিদর্শনযোগ্য স্থান
দিল্লীতে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে –
- ইন্ডিয়া গেট
- রাষ্ট্রপতি ভবন
- রেড ফোর্ট (লাল কেল্লা)
- জামা মসজিদ
- গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব
- যন্তর মন্তর
- কুতুব মিনার
- বাহাই মন্দির (লোটাস মন্দির)
- রাজ ঘাট
- পুরনো কেল্লা (ওল্ড ফোর্ট)
- লোধি গার্ডেন
- হুমায়ূনের সমাধিসৌধ
- সফদরজঙ্গ সমাধিসৌধ
- অক্ষরধাম মন্দির
- কনৌট প্লেস
- দিল্লী হাট
- লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির (বিড়লা মন্দির)
- ঈশকন্ মন্দির
- দ্য ন্যাশনাল জুওলোজিক্যাল পার্ক
- নিজামুদ্দিন দরগাহ
- বিজয় মন্ডল
- সুনেহরি মসজিদ
- ইন্দিরা গান্ধি ন্যাশনাল সেন্টার
- জামালি কামালি মসজিদ
- লাল কোট
- মাটিনী মেমোরিয়্যাল
- কালকা জি মন্দির
- ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার
- দিগম্বর জৈন মন্দির
- দ্য গার্ডেন অফ ফাইভ সেন্সেস
- ন্যাশনাল রেল মিউজিয়াম, ইত্যাদি।
* দিল্লীর দর্শনীয় স্থানগুলির বিষয়ে নীচে বিস্তারিত আলোচনা করা রয়েছে –
ইন্ডিয়া গেট
রাষ্ট্রপতি ভবন
রেড ফোর্ট (লাল কেল্লা)
জামা মসজিদ
গুরুদুয়ারা শিস গঞ্জ সাহেব
গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব
যন্তর মন্তর
কুতুব মিনার
বাহাই মন্দির (লোটাস টেম্পল)
বিজয় মন্ডল
সুনেহরি মসজিদ
ইন্দিরা গান্ধি ন্যাশনাল সেন্টার
জামালি কামালি মসজিদ
লাল কোট
মাটিনী মেমোরিয়্যাল
শান্ত ও নির্মল – বেগমপুরী মসজিদ
দ্য ন্যাশনাল জুওলোজিক্যাল পার্ক
মির্জা গালিব-এর স্মরণাতীত সমাধি
কালকা জি টেম্পল
ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার
দিগম্বর জৈন মন্দির
নিজামূদ্দীন দরগাহ
দ্য গার্ডেন অফ ফাইভ সেন্স
অক্ষরধাম মন্দির
রাজ ঘাট
পুরনো কেল্লা (ওল্ড ফোর্ট)
পুরনো কেল্লা একটি আয়াতাকার আকৃতির দূর্গ যেটি প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। প্রধান দ্বারের একটু ভেতরেই একটি ছোট যাদুঘর বা মিউজিয়াম রয়েছে। দ্বারের উপর থেকে নতুন দিল্লীর এক দারুণ দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় এখানে একটি আলোক ও শব্দ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
লোধি গার্ডেন
একসময় লেডী উইলিংটন পার্ক নামে অভিহিত, লোধি গার্ডেন – সুরিচর্যিত তৃণভূমি ও গাছপালা সহ, মুবারক শাহ, ইব্রাহিম লোদি ও শিকন্দর লোদির সমাধির সমন্বয়ে গঠিত। যারা নির্জনতা চাইছেন, তাদের জন্য এই বাগানটি সকালে শরীরচর্চার খামখেয়ালিপনার জন্য একটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত জায়গা।
হুমায়ুনের সমাধি
মথুরা রোডের নিকটে অবস্থিত, এই বিস্তীর্ণ চমৎকার সমাধি-বাগানটি ভারতের মুঘল স্থাপত্য পরিকল্পনার একটি সূক্ষ্ম উদাহরণ। হুমায়ুনের মৃ্ত্যুর পর, ১৫৬৫ সালে তাঁর বিধবা স্ত্রী হামিদা বানু বেগম দ্বারা এটি নির্মিত হয়েছিল। এই বাগান চত্বরের ঘেরাওয়ের মধ্যে সরু পথ ও জলের ক্যানেল রয়েছে।
সফদরজঙ্গ সমাধি
হুমায়ুনের সমাধির ঐতিহ্য সহ এটি দিল্লীর শেষ বেষ্টিত সমাধি-বাগ। ১৭৫৪ সালে নির্মিত এই সফদরজঙ্গ সমাধি দৈর্ঘ্য ও আকৃতিতে কম অভিজাত। এটিতে বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়ন বা পট-শিবির রয়েছে; যেমন – জংলি মহল, মোতি মহল, বাদশা পসন্দ এবং মাদ্রাসা।
কনৌট প্লেস
দিল্লীর সবচেয়ে এক অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, কনৌট প্লেস-এ প্রত্যেক আস্বাদন ও বাজেটের বেশ কিছু বিভিন্ন প্রকারের দোকান, ব্যবসা, রেস্তোঁরা ও এম্পোরিয়্যাম রয়েছে।
দিল্লী হাট
এটি একরকম ঐতিহ্যপূর্ণ বাজারের বাতাবরণ প্রদান করে, তবে এটি আধুনিক প্রয়োজনীয়তার সাথে আরও মানানসই। এখানে যে কেউ কারুশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের একটি মিশ্রণ দেখতে পেতে পারেন। এটি এমন একটি স্থান যেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি ও জাতিগত রন্ধনপ্রণালী একসাথে এসে মিলিত হয়েছে। এটি এক অনন্য বাজার যেখানে ভারতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকে প্রদর্শিত করে।
লক্ষীনারায়ণ মন্দির
১৯৩৮ সালে, শিল্পপতি জি.ডি.বিড়লা-র দ্বারা নির্মিত, এটি দিল্লীর এক অন্যতম প্রধান মন্দির। এটি কনৌট প্লেস-এর নিকটে অবস্থিত। এই মন্দিরটি দেবী লক্ষ্মী ও তাঁর পতিদেব নারায়ণের প্রতি উৎসর্গীকৃত। এই মন্দিরটি মহাত্মা গান্ধির এই চুক্তির ভিত্তিতে প্রবর্তিত করেন যে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এই মন্দিরে প্রবেশ করার অনুমতি থাকবে।
ঈশকন্ মন্দির
হরে কৃষ্ণ মন্দির নামে জনপ্রিয়, এটি শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ সহ এক বিখ্যাত মন্দির। দক্ষিণ দিল্লীতে অবস্থিত, এই মন্দিরটি প্রধানত লাল পাথর দিয়ে নির্মিত যা তাঁর স্বাতন্ত্রসূচক স্থাপত্যের জন্য স্বীকৃত। এটি ঐতিহ্যপূর্ণ বৈদিক শৈলী ও আধুনিক শৈলীর এক অনন্য মিশ্রণ।
তুঘলকাবাদ দূ্র্গ
১৩২১ সালে, তুঘলকের গাজী মল্লিক তাঁর চার বছরের শাসনকালের মধ্যে তুঘলকাবাদে দিল্লীর সবচেয়ে শক্তিশালী দূর্গটির নির্মাণ করেন। এটি এমনকি তার ছন্নছাড়া রাজ্যের সবচেয়ে ব্যাপক ও দর্শনীয় দূর্গ। এর অভ্যন্তরে রয়েছে দেওয়াল, কেল্লা ও বিশাল স্তম্ভগুলি সহ এক চিত্তাকর্ষক প্রাসাদ, চমৎকার মসজিদ এবং মহীয়ান সভাগৃহ।
চাঁদনী চৌক
এটি দিল্লীর সবচেয়ে এক অন্যতম প্রাচীন ও ব্যস্ততম বাজার এবং এশিয়ার সবচেয়ে পাইকারী বাজার। শাহ জাহানের দ্বারা নির্মিত, ওল্ড সিটির বাজারটি লাল কেল্লা থেকে জামা মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
ন্যাশনাল এগ্রিকালচার্যাল সায়েন্স মিউজিয়াম
আই.সি.এ.আর চত্বরে অবস্থিত ন্যাশনাল এগ্রিকালচার্যাল সায়েন্স মিউজিয়ামটি হল ভারতের মধ্যে প্রথম এই ধরনের মিউজিয়াম। প্রায় ২৩,০০০ বর্গ ফুট তল এলাকাযুক্ত এক বিশেষভাবে পরিকল্পিত দ্বিতল ভবনটি প্রাচীনকাল থেকে ভারতে কৃষির উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাগুলির সঙ্গে আমাদের দেশের কৃষিতে বর্তমান রাষ্ট্রীয় অত্যাধুনিক প্রযু্ক্তির জন্য এটি রচিত হয়েছিল।
ন্যাশনাল রেল মিউজিয়াম
মৌলানা আজাদ রোডে নির্মিত, এটি ভারতের এক অন্যতম বৃহৎ মিউজিয়াম। এটি প্রাক-ঐতিহাসিক যুগ থেকে শিল্পের সমসাময়িক যুগের কার্যক্রমের বিভিন্ন নিবন্ধগুলিকে এটি ধরে রেখেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দ্বারা পরিচালিত, এটি ভারত সরকারের একটি অংশ।
দিল্লীর নিকটবর্তী পর্যটন গন্তব্যস্থল
দিল্লীর নিকটবর্তী পর্যটন গন্তব্যস্থলগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল –
হরিদ্বার
উত্তরাখন্ডে অবস্থিত এই শহরটি সবচেয়ে এক অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান্। গঙ্গা নদীর তীরে এর অবস্থানের দরুণ, ভারতের এই তীর্থ শহরটি সাতটি পবিত্র হিন্দু স্থলের মধ্যে এক অন্যতম। এছাড়াও সারা বছর ব্যাপী ভারতীয় তথা বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে এক প্রসিদ্ধ গন্তব্যস্থল হয়ে উঠেছে, হরিদ্বার এমনকি কুম্ভমেলার অবস্থানের জন্যও মানুষের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এই মেলা প্রতি বারো বছর অন্তর এখানে অনুষ্ঠিত হয়।
মথুরা
যমুনা নদীর পশ্চিমে, উত্তর প্রদেশে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান এই মথুরা অবস্থিত। একটি হিন্দু তীর্থস্থান হওয়ার পাশাপাশি, এই উত্তর ভারতীয় শহরটি হল মথুরা জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। মথুরার মোট আয়তন প্রায় ৩,৮০০ বর্গ কিলোমিটার। এই মথুরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র ভূমি ‘ব্রজভূমি’-নামেও পরিচিত। শহরটি, দিল্লীর ১৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং উত্তর প্রদেশের আগ্রা থেকে ৫৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে আচ্ছাদিত রয়েছে। মথুরা সারা বছর ধরে বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদেরকে আকৃষ্ট করে। শহরের প্রতিটি ঘুপচি ও কোণা বাঁশির সুরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর যৌবন বয়সে এই বাঁশিই বাজাতেন। এই মথুরার সঙ্গে জড়িত অনেক কাল্পনিক ও ঐতিহাসিক গল্প রয়েছে যা এই স্থানটিকে আরোও বেশি করে বিশেষত্ব করে তুলেছে।
আগ্রা
যমুনা নদর তীরে, উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত, আগ্রা শহরটি, তার সৌন্দর্য্য ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য্যের জন্য বিশ্বের সাতটি আশ্চর্য্যের মধ্যে এক অন্যতম তাজ মহলের সমার্থক। আগ্রা, রাজ্যের রাজধানী লখনউ থেকে ৩৬৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি সমস্ত অন্তর্দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভ্রমণ গন্তব্যপথ।
দিল্লীতে কেনাকাটা
দিল্লীর স্থানীয় বাজার ও কেনাকাটাঃ দিল্লী ক্রেতাদেরকে আনন্দিত করে ও এখানে আপনি প্রায় সমস্ত কিছু যেমন দারুণ জামাকাপড়, পিতলের সামগ্রী, কাঠের কাজ, গহনা, চর্মজাতীয় পণ্যের কাজ, ধাতুর জিনিসপত্র থেকে সুবাসিত তেল ইত্যাদি পেয়ে যাবেন। কেবলমাত্র দিল্লীতে আপনি সমস্ত কিছু হাতের সামনে পেয়ে যাবেন, তা সে সর্বোৎকৃষ্ট সুউচ্চ শপিং মল থেকে স্থানীয় বাজার – সমস্ত কিছুই এই ব্যস্তবহুল শহরের কেন্দ্রে অবস্থান করে আছে।
- গভর্নমেন্ট আ্যন্ড স্টেট এম্পোরিয়াম : কনৌট প্লেস-এর নিকটে বাবা খড়ক সিং মার্গে অবস্থিত এগুলি রাজ্যের দ্বারা পরিচালিত এম্পোরিয়াম, এখানে এই রাজ্যের অকৃত্রিম হস্তশিল্পের ভান্ডার রয়েছে। যেহেতু এখানে জিনিসের দাম ন্যস্ত করা আছে তাই কোনও দর কষাকষি হয় না।
- কনৌট প্লেস : ক্রেতাদের এক চৌম্বকীয় আকর্ষণ, কনৌট প্লেস দোকান ও ফুটপাত বিক্রেতাদের দ্বারা উদ্বেলিত। এখানে গহনা, চর্মজাতীয় পরিধেয় সামগ্রী, বস্ত্র, জামা-কাপড়, জুতো এবং অন্যান্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও বর্ণময় সামগ্রী বিক্রি হয়।
- পালিকা বাজার : এটি কনৌট প্লেসের এক ভূ-গর্ভস্থ বাজার, যা চুক্তি খরিদ্দারি পণ্যদ্রব্যের সন্ধানে স্থানীয়দেরকে আকৃষ্ট করে। বিদেশী পর্যটকেরা সাধারণত উচ্চ মূল্যে উদ্ধৃত হয়, সুতরাং এখানে দর-কষাকষি করা একান্ত বাঞ্চনীয়।
- খান মার্কেট : দিল্লীর এক সবচেয়ে অন্যতম জনপ্রিয় কেনাকাটা করার জায়গা, খান মার্কেট সাধারণত বিদেশী কূটনীতিক ও প্রবাসীদের দ্বারা ভিড় হয়। এখানে অনেক জনপ্রিয় বই-য়ের দোকান ও কফির দোকান নজরে পড়তে পারে; যেমন – দ্য ফুল সার্কেল এবং দ্য ক্যাফে টার্টেল।
- হৌজ খাস ভিলেজ : নকশাকার আসবাবপত্রের দোকান, আর্ট গ্যালারী ও বুটিক (সর্বাধুনিক ফ্যাশনের পণ্য-সামগ্রীর জন্য এখানে আসুন।
- দিল্লী হাট :আই.এন.এ মার্কেটের নিকটে, এটি একটি খোলা আকাশের নীচে খাবার ও কারুশিল্পের (ক্রাফ্ট) বাজার। এটি তার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, গহনা ও গৃহসজ্জার দ্রব্যের জন্য প্রসিদ্ধ, এছাড়াও এই স্থানে আপনি খুবই যুক্তিসঙ্গত মূল্যে দেশের সমস্ত জায়গার খাবারের নিদর্শন পেতে পারেন।
- আনসাল প্লাজা :এটি একটি আধুনিক শপিং মল যেখানে আপনি জনপ্রিয় বিদেশী খ্যাতনামা পণ্যের বস্ত্রসামগ্রী থেকে শুরু করে অকৃত্রিম প্রসাধনী দ্রব্য ও সুগন্ধি – এই সমস্ত কিছুই এখানে পেয়ে যাবেন।
দিল্লীতে হোটেল
ব্যবসা ও পর্যটনের দিক দিয়ে দিল্লী ভারতের এক সবচেয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। সারা বছর ধরে প্রচুর পর্যটক এখানে ঘুরতে আসে। নতুন দিল্লী প্রচুর উচ্চ পর্যায়ের, বিলাসবহুল ও বাজেট হোটেলের আবাসস্থল। দিল্লীর হোটেলগুলি সমস্ত ধরনের আস্বাদন ও মূল্যের সাথে মানানসই। বিলাসবহুল স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কেন্দ্র থেকে দেখতে গেলে দিল্লীতে বিশ্বের সমস্ত জায়গা থেকে আগত পর্যটকদের থাকার জন্য প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রয়েছে। দিল্লীর বেশ কিছু উচ্চ পর্যায়ের হোটেলগুলির মধ্যে রয়েছে – দ্য লীলা প্যালেস্, দ্য ইম্পেরিয়্যাল, দ্য ওবেরই, তাজ মহল হোটেল, আই.টি.সি মৌর্য্য, হিলটন্ গার্ডেন, লে মেরিডিয়্যেন্ ও সাঙ্গরি-লা’স ইরোস হোটেল ইত্যাদি। ন্যায্য বাজেটের হোটেল ও পরিমিত মূল্যের অতিথিশালা থেকে অর্থনৈতিক নবীন হোটেল ও লজ, দিল্লীতে সমস্ত ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন দিল্লী রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে পাহাড়গঞ্জ এলাকায় বাজেট হোটেল ও লজগুলির সারি রয়েছে। এই হোটেলগুলি সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়ায় অনেক বিদেশীরা এখানে থাকতে পছন্দ করে। কেবল এই হোটেলগুলিতে ঢোকার পূর্বে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হোটেল এবং রুমগুলি চেক করে নেওয়া উচিৎ। এগুলি ছাড়াও দিল্লী জুড়ে প্রচুর হোটেল রয়েছে যেগুলি সমস্ত পর্যটকদের বাজেটের মধ্যে পরিবেশন করে।
* সর্বশেষ সংযোজন : ৩ - রা জুন, ২০১৫
|