free_shipping_English_728x90

দিল্লী পর্যটন

Store-banner

Travel to Delhi in Bengali

দিল্লী পর্যটন




এক ঐতিহাসিক অতীত সহ এক আধুনিক মহানগরী দিল্লীতে ভ্রমণের সময় একজনের কি মনে হতে পারে? দিল্লী শহরের ইতিহাস, এক দীর্ঘ ও সুখ-দুঃখে মিশ্রিত এক ছককাটা ইতিহাস। দিল্লী, বহু সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন দেখেছে। দিল্লী সাতটি শহরের ধ্বংসাবশেষের উপর বিকশিত রয়েছে। হিন্দু রাজপুত শাসক থেকে শুরু করে মুঘল এবং অবশেষে ব্রিটিশদের দ্বারা এই দিল্লী নির্মিত হয়েছিল। দিল্লী একটি সত্যিকারের বিশ্বজনীন শহর যা সমস্ত জাতিগত সমষ্টির মানুষের আলিঙ্গনের মধ্যে দিয়ে তা উপনীত হয়েছে এবং সেখানকার বৈচিত্র্যময় শিল্পকলা, চারুকলা, রন্ধনপ্রণালী ও জীবনধারার মধ্য দিয়ে তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রতিফলিত হয়।


দিল্লী তার নিজস্ব অনন্য উপায়ে ঐতিহ্যগত ও আধুনিকতার এক সম্মেলন। দিল্লী ভ্রমণের সময় যে কেউ এক বিশাল পরিসর পর্যটন আকর্ষণ; যেমন – ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ থেকে আধুনিক স্থাপত্যের বিস্ময়, ঐতিহ্যময় বাজার থেকে মেগা মল এবং উদ্যান থেকে ধর্মীয় কেন্দ্রস্থল দেখতে পেতে পারেন। দিল্লীতে অনেক প্রধান প্রধান ঐতিহাসিক পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে যেগুলি দিল্লীতে কেউ ভ্রমণে গেলে অবশ্যই ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়; সেই আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কুতুব মিনার, হুমায়ুনের সমাধিসৌধ, লাল কেল্লা এবং পুরনো কেল্লা। দিল্লীর ঔপনিবেশিক পর্যটন আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন এবং ইন্ডিয়া গেট। দিল্লীতে আধুনিক পর্যটন আকর্ষণও রয়েছে; যেমন – লোটাস মন্দির ও দিল্লী হাট। দিল্লীতে বেশ কিছু স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর রয়েছে; যেমন – ন্যাশনাল মিউজিয়াম, রাজ ঘাট, শান্তি বন, যন্তর মন্তর এবং আরোও অনেক কিছু।


দিল্লী হল প্রসিদ্ধ স্বর্ণ ত্রিভূজ আবর্তনীর এক অংশ, যার মধ্যে অন্য দুটি হল আগ্রা এবং জয়পুর। প্রচুর পর্যটক তাদের ভারত সফরে দিল্লীতে ভ্রমণে গেলে সকলে দিল্লী থেকে এই সমস্ত পর্যটন স্থলে ঘুরতে যায়। আগ্রা হল মার্বেল পাথরের বিশ্ব বিখ্যাত স্থাপত্যের এক বিস্ময়, তাজমহলের আবাসস্থল।


দিল্লী ক্রেতাদের স্বর্গোদ্যান হিসাবে পরিচিত। দিল্লীতে কেনাকাটা করতে গেলে, পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন দ্রব্য বেছে নেওয়ার বিস্তৃত বিকল্প রয়েছে; সেগুলি হল অসাধারণ ভারতীয় কার্পেট, রেশম, গহনা, চর্ম ও রূপোর পরিধেয় বস্তু, হস্তশিল্প ও হাতে মুদ্রিত সূতি বা তৈরি পোশাক ইত্যাদি। আপনি যদি নকশাকার দামী দ্রব্য, নামী সংস্থার পণ্য বা স্থানীয় জামাকাপড়ের কেনাকাটা করতে চান, তাহলে আপনি দিল্লীতে ভ্রমণের সময়ে এই সমস্ত কিছুই দিল্লীর যে কোনও শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত মল্ বা রাস্তা ধারের দোকানগুলিতে আপনার সেরা দর-কষাকষির ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে কিনতে পারেন। কোনও একটি শহরকে বোঝার চিত্তাকর্ষক উপায় হল সেখানকার হাট-বাজারগুলিতে বিচরণ করা। সুতরাং, দিল্লীতে ভ্রমণ করতে গেলে আপনি অবশ্যই পুরনো দিল্লীর বাজারগুলিতে ভ্রমণ করুন; যেমন – চাঁদনী চৌক ও চাওড়ি বাজার। বাজার, যার মধ্যে একটি স্বতন্ত্র্য ভারতীয় বাতাবরণ রয়েছে, দিল্লীতে কেনাকাটা করার অভিজ্ঞতা এক অনন্য আস্বাদন যোগ করে। এখানে কারোল বাগ ও হৌজখাসে যে কেউ বাজার দোকান দেখতে পেতে পারেন। দিল্লী পর্যটন, দিল্লী হাটে কারুশিল্পীদের জন্য একটি স্থায়ী আউটলেট নির্মাণ করেছে, যেটি বছরের পর বছর ধরে এক জনপ্রিয় কেনাকাটার বাণিজ্য স্থল হয়ে উঠেছে।


দিল্লী হল অন্য পার থেকে আগত যাত্রীদের জন্য ভারতের প্রধান প্রবেশ কেন্দ্র। দিল্লী হল খুবই সু-সংযুক্ত, বিদেশী পর্যটকদের বিমান, রেল বা সড়ক মাধ্যমে দিল্লীতে পৌঁছানো খুবই সহজ ব্যাপার।

দিল্লী ভ্রমণের সেরা সময়




দিল্লীতে ভ্রমণের সেরা সময় হল অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাস, এইসময় আবহাওয়া খুবই মনোরম থাকে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের জন্য পর্যটকদের সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালের সময় দিল্লীর তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যায় এবং সেইজন্য গ্রীষ্মের সময়ে দিল্লী ভ্রমণ না করার উপদেশ দেওয়া হয়, কারণ এতে সর্দিগর্মির দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার যথেষ্ট উচ্চ সম্ভাবনা থাকে।

দিল্লীতে পৌঁছানোর উপায়




ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লীতে সারা বছর ধরে এক বিশাল সংখ্যায় পর্যটকেরা এখানে ভ্রমণে আসে। এই শহরে পৌঁছানো খুব একটা বিশাল কঠিন কাজ নয়, দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম মহানগরী হিসাবে এটিকে মর্য্যাদা দেওয়া হয়েছে। এখানে অনেক অবিরত বিমান, রেল ও বাস রয়েছে যেগুলি দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই শহরে যাতায়াত করে।


দিল্লী যদি আপনার গন্তব্যস্থল হয়, তবে অন্য কোনও দিকে তাকাবার প্রয়োজন নেই। এখানে আপনার জন্য এই লাল কেল্লা, কুতুব মিনার, লোটাস মন্দির ও আরোও অন্যান্য আকর্ষণের এই শহর দিল্লীতে পৌঁছানোর উপায় সম্বন্ধে এক সহজ নির্দেশিকা (গাইডলাইন্) রয়েছে।

বিমান মাধ্যমে




দিল্লীর ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রায় সমস্ত প্রধান বিমান সংস্থাগুলি সহ, বিশ্বের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সঙ্গে সু-সংযুক্ত রয়েছে। পালাম অন্তর্দেশীয় বিমানবন্দরটি ভারতের প্রধান শহরগুলির সঙ্গে দিল্লীকে সংযুক্ত করে রেখেছে।


* দিল্লীর সঙ্গে বিশ্বের বাকিদের সু-সংযুক্ত প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলি হল -

  • ব্রিটিশ এয়্যারওয়েস – লন্ডন থেকে (হ্যাথরো বিমানবন্দর)।
  • এয়্যার ফ্রান্স – প্যারিস থেকে (চার্লস দি গৌল্যে বিমানবন্দর)।
  • চীন্ এয়্যারলাইনস – রোম – ফিউমিসিনো।
  • জাপান এয়্যারলাইনস – টোকিও।
  • শ্রীলঙ্কা এয়্যারলাইনস – কলম্বো।



* নতুন দিল্লী ও ভারতের অন্যান্য শহরগুলির সাথে যুক্ত অন্তর্দেশীয় বিমান সংস্থাগুলি হল -






মুম্বাই থেকে
  • এয়্যার ইন্ডিয়া
  • জেট লাইট
  • জেট এয়্যারওয়েস কানেক্ট
  • ইন্ডিগো এয়্যারলাইনস

কলকাতা থেকে
  • গো এয়্যার
  • ইন্ডিগো এয়্যারলাইনস
  • স্পাইস জেট

ব্যাঙ্গালুরু থেকে
  • ইন্ডিগো
  • স্পাইস জেট
  • গো এয়্যার




রেলপথ মাধ্যমে




দ্য ইন্ডিয়্যান রেলওয়ে (ভারতীয় রেল) তার আধুনিক ও সুসংগঠিত সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দিল্লীকে ভারতের সমস্ত প্রধান ও অপ্রধান গন্তব্যস্থলগুলির সাথে সুসংযুক্ত করে রেখেছে। এই শহরের নতুন দিল্লী, পুরনো দিল্লী ও নিজামুদ্দিনে – তিনটি প্রধান রেলওয়ে স্টেশন বর্তমান। নিউ দিল্লী ক্যান্টনম্যান্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিলাসবহুল রেল যেমন – প্যালেস-অন-হুইলস, ফেয়্যারী ক্যুইন ও রয়্যাল ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস-ও পেতে পারেন। রাজধানী এক্সপ্রেস রেল রাজ্যের রাজধানীগুলির সাথে নতুন দিল্লীকে যুক্ত করেছে। শতাব্দী এক্সপ্রেস রেল নতুন দিল্লীকে প্রতিবেশী শহরগুলির সাথে যুক্ত করে রেখেছে।


* নীচে ভারতের প্রধান শহরগুলি থেকে দিল্লী-গামী রেলগুলির তালিকা দেওয়া হল –






মুম্বাই থেকে
  • এর্নাকুলাম – হজরত নিজামুদ্দিন দূরন্ত এক্সপ্রেস
  • পশ্চিম এক্সপ্রেস
  • কেরালা সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস

কলকাতা থেকে
  • কালকা মেল
  • জনতা এক্সপ্রেস
  • নতুন দিল্লী- হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেস

ব্যাঙ্গালুরু থেকে
  • কর্ণাটক সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস
  • ব্যাঙ্গালোর হজরত নিজামুদ্দিন দূরন্ত এক্সপ্রেস
  • কংগু এক্সপ্রেস




সড়ক মাধ্যমে




সড়ক ও মহাসড়ক সংযোগের মাধ্যমে দিল্লী, ভারতের সমস্ত প্রধান শহরগুলির সাথে সু-সংযুক্ত রয়েছে। এই রাজ্যের প্রধান তিনটি বাস স্টপ হল কাশ্মীরি গেট-এ অবস্থিত ইন্ট্যার স্টেট বাস টার্মিনাস (আন্তঃ রাজ্য বাস টার্মিনাস বা আই.এস.বি.টি), সরাই কেল্লা ও আনন্দ বিহার। এই শহরে আরোও অন্যান্য বেশ কিছু কেন্দ্র রয়েছে যেখানে প্রচুর রাজ্য-চালিত এবং বেসরকারি পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা যেমন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত, শোভনীয় ও সাধারণ কোচের বাস পরিচালিত হয়।

দিল্লীতে ভ্রমণের উপায়




দিল্লীতে ভ্রমণের জন্য সেখানে প্রচুর বাস, মেট্রো রেল, অটো-রিকশা এবং সাইকেল-রিকশা রয়েছে। রাজ্যের অভ্যন্তরে পর্যটন ট্যাক্সি চলাচল করে। অন্যদিকে হলুদ ও কালো ট্যাক্সিগুলি দিল্লী শহরের যেকোনও জায়গায় যোগাোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। এগুলি যদিও নিরাপদ তবে তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। দিল্লী পরিবহন নিগম (দিল্লী ট্র্যান্সপোর্ট কর্পোরেশন্ বা ডি.টি.সি)-এর বাসগুলি শহরের যেকোনও স্থানে যায় এবং এগুলি পরিবহনের সবচেয়ে সস্তার মাধ্যম। অটো-রিকশা হল অন্য আরেকটি বিকল্প, কিন্তু একটি যুক্তিসঙ্গত ভাড়ার জন্য দরকষাকষি করা সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ।


দিল্লীর সমস্ত পর্যটন আকর্ষণের জন্য প্যাকেজ সফর সহ বিলাসবহুল বৈশিষ্ট্যের পর্যটন বাসগুলিও উপলব্ধ রয়েছে। সম্প্রতি এখানে দিল্লী মেট্রো রেলপথ চালু করা হয়েছে। এটি পরিবহনের এক সুবিধাজনক ও কার্যকরী মাধ্যম যা দিল্লী শহরের অভ্যন্তরীণ সমস্ত প্রধান স্থানগুলিকে সংযুক্ত করেছে।

দিল্লীতে পরিদর্শনযোগ্য স্থান



দিল্লীতে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে –

  • ইন্ডিয়া গেট
  • রাষ্ট্রপতি ভবন
  • রেড ফোর্ট (লাল কেল্লা)
  • জামা মসজিদ
  • গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব
  • যন্তর মন্তর
  • কুতুব মিনার
  • বাহাই মন্দির (লোটাস মন্দির)
  • রাজ ঘাট
  • পুরনো কেল্লা (ওল্ড ফোর্ট)
  • লোধি গার্ডেন
  • হুমায়ূনের সমাধিসৌধ
  • সফদরজঙ্গ সমাধিসৌধ
  • অক্ষরধাম মন্দির
  • কনৌট প্লেস
  • দিল্লী হাট
  • লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির (বিড়লা মন্দির)
  • ঈশকন্ মন্দির
  • দ্য ন্যাশনাল জুওলোজিক্যাল পার্ক
  • নিজামুদ্দিন দরগাহ
  • বিজয় মন্ডল
  • সুনেহরি মসজিদ
  • ইন্দিরা গান্ধি ন্যাশনাল সেন্টার
  • জামালি কামালি মসজিদ
  • লাল কোট
  • মাটিনী মেমোরিয়্যাল
  • কালকা জি মন্দির
  • ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার
  • দিগম্বর জৈন মন্দির
  • দ্য গার্ডেন অফ ফাইভ সেন্সেস
  • ন্যাশনাল রেল মিউজিয়াম, ইত্যাদি।


* দিল্লীর দর্শনীয় স্থানগুলির বিষয়ে নীচে বিস্তারিত আলোচনা করা রয়েছে –


ইন্ডিয়া গেট




India Gate

  • শ্রেণী: ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • ইন্ডিয়া গেট হল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যে সমস্ত ভারতীয় সৈন্যরা লড়াই করেছিল ও প্রাণ ত্যাগ করেছিল, তাদের উৎসর্গে নির্মিত এটি একটি প্রস্তর স্মৃতি-স্তম্ভ। এটি দিল্লীর প্রাথমিক আকর্ষণীয় স্থান হিসাবে এক অন্যতম মর্য্যাদায় উন্নীত হয়েছে। সে সময় ভারতীয় সৈন্যরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি অংশ ছিল এবং তার ক্ষমতার শিখরে থাকা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সামরিক বাহিনীর যথাসাধ্য প্রতিনিধিত্ব করত। ইন্ডিয়া গেট এডওয়ার্ড লিডটাইনস-এর দ্বারা সু-পরিকল্পিত ছিল এবং এটির নির্মাণ সম্পূর্ণ হতে দীর্ঘ ১০ বছর সময় নিয়েছিল। ইন্ডিয়া গেটের গঠন একটি বিজয়ী ধনুকের মতন, যেটির উচ্চতা ৪২ মিটার।


    রাষ্ট্রপতি ভবন



    Rashtrapati Bhawan

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • রাষ্ট্রপতি ভবন, দিল্লীর এক প্রখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভ। এটি ভারতের তৎকালীন ভাইসরয়ের প্রাসাদ বলে আখ্যা দেওয়া হত। সাম্প্রতিককালে, এই রাষ্ট্রপতি ভবন হল ভারতের রাষ্ট্রপতির আবাসস্থল। ভবনটি এডউইন্ লিডটাইনস-এর দ্বারা সু-পরিকল্পিত ছিল। এটির নির্মাণ কার্য ১৯১১ সালে শুরু হয় এবং নির্মাণ কার্য সম্পূর্ণ হতে দীর্ঘ ১৯ বছর সময় লেগেছিল। এখানে রাষ্ট্রপতি ভবনের পশ্চিমদিকে এক অভূতপূর্ব মুঘল বাগিচা রয়েছে। প্রতি বছর বসন্তের সময় এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। রাষ্ট্রপতি ভবন ও মুঘল উদ্যান ভ্রমণে নিবন্ধীকরণের জন্য নামমাত্র ২৫ টাকা মূল্য ধার্য রয়েছে। ৩০ জন বা তারও বেশী সমষ্টির ভ্রমণার্থীরা একসঙ্গে গেলে কিছু ছাড় দেওয়া হয় এবং ১২ বছরের নিম্ন শিশুদের জন্য কোনও মূল্য ধার্য করা হয় না।


    রেড ফোর্ট (লাল কেল্লা)



    Red Fort

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • এই লাল বালিপাথরের দূর্গটি সমুদ্রের দিক থেকে ১৮ মিটার ও শহরের দিক থেকে ৩৩ মিটার উচ্চতায় এবং বিস্তৃত ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রসারিত রয়েছে। ১৬৩৮ সালে শাহ জাহানের দ্বারা এই দূর্গটির নির্মাণ হয়েছিল এবং এটির সম্পূর্ণ নির্মাণ হয় ১৬৪৮ সালে। এই ভবনটির অন্দরমহলে জনসাধারণের জন্য সভাগৃহ, ড্রাম হাউস, সমস্ত খাস প্রতিনিধিদের জন্য সাদা মার্বেলের কক্ষ, পার্ল মসজিদ, বর্ণময় প্রাসাদ ও রাজকীয় স্নানাগার রয়েছে। ফরাসি, ইউরোপীয় ও ভারতীয় শিল্পকলার সমন্বয়ে সুসজ্জিত এই দূর্গটি স্থাপত্যকলার এক অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন।


    জামা মসজিদ



    Jama Masjid

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • পুরনো দিল্লীতে অবস্থিত জামা মসজিদ হল দিল্লীর এক অন্যতম প্রধান মসজিদ। সম্রাট শাহজাহানের এক অন্যতম চূড়ান্ত স্থাপত্যকলার অত্যাধিক্যের ফলস্বরূপ এটি ভারতের এক অন্যতম বৃহৎ মসজিদ এবং এর প্রাঙ্গনে একসঙ্গে প্রায় ২৫০০০ মানুষের জমায়েতের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। এই মসজিদটির নির্মাণ কার্য ১৬৪৪ সালে আরম্ভ হয়েছিল এবং ৫০০০ কারিগরের দ্বারা এটি ১৬৫৮ সালে সম্পূর্ণ হয়। জামা মসজিদের তিনটি মহান প্রবেশদ্বার রয়েছে এবং চারটি কোণাকার স্তম্ভ ও ৪০ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন দুটি মিনার রয়েছে। এটি পর্যায়ক্রমিকভাবে লাল বালিপাথর ও সাদা মার্বেলের দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছিল।


    গুরুদুয়ারা শিস গঞ্জ সাহেব



    Shish Ganj

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • “যদি না একজন পবিত্র ব্যাক্তি, গরীব ব্রাম্ভনের অনুরোধে মাথা নত না করেন, তবে সেখানে সাম্রাজ্যের অত্যাচার থেকে তাদের অব্যাহতি পাওয়ার কোনওরকম আশা নেই”। এগুলি এক দয়ালু পবিত্র মানুষের বাণী ছিল যিনি হিন্দুদের উপর মুঘলদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে তীব্রভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন। ইনি গুরু তেঘ বাহাদূর সাহেব জী, শিখদের নবম গুরু হয়ে উঠেছিলেন। সাহসী গুরু, ইনি বীরত্ব ও প্রতিবাদের এক প্রতীক ছিলেন। ভারতে অ-মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে রক্ষা করার সময় মুঘল শাসক ঔরঙ্গজেবের দ্বারা এঁনার শিরোচ্ছেদ করা হয়। এই গুরুদুয়ারা শিস গঞ্জ সাহেব, এই সাহসী গুরুর শহীদের যন্ত্রণামূলক আত্মবলিদানের এক পদচিহ্ন হয়ে রয়েছে।


    গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব



    Gurudwara Bangla Sahib

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • গুরু নানক জয়ন্তী ও সমস্ত গুরু পরবগুলির উপলক্ষের সময় দিল্লীর গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেবের দৃশ্য অতীব সুন্দর। এই উপলক্ষের সময় গুরুদুয়ারাটি সুন্দরভাবে আলোকিত হয়ে ওঠে এবং বিশেষ কীর্ত্তন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয় যা দুই দিন ব্যাপী অখন্ড পাঠ চরম সীমায় পৌঁছে যায়। এই স্থানের সমগ্র বাতাবরণ একেবারে নির্মল প্রকৃতির। কোনও সময় আপনি যদি দিল্লীতে আসেন, তবে এই স্থানটি পরিদর্শন করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।


    যন্তর মন্তর



    Jantar Mantar

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • কনৌট প্লেসের সংসদ মার্গের উপর অবস্থিত, এই পরিকাঠামোটি মহারাজা দ্বিতীয় জয় সিংহের এক অন্যতম মান-মন্দির। ১৭২৫ সালে জয়পুরের এই শাসক এই মান-মন্দিরটির নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি ডায়ালের রাজকুমার নামে পরিচিত এক সুবিশাল সানডায়ালের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। এই মানমন্দিরটিতে অন্যান্য উপকরণগুলি স্বর্গীয় অবয়ব ও গ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী বিষয়গুলিকে অনুসরণ করত। এটি ১৭২৪ সালে দিল্লীতে, জয়পুরের রাজা দ্বিতীয় জয় সিংহের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। দিল্লীর যন্তর মন্তর হল রাজমিস্ত্রীর উপকরণ সহ এক জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত মানমন্দির। এই যন্তর মন্তরে এমন অনেক উপকরণ রয়েছে যেগুলি জ্যোর্তিবিজ্ঞানের মহাবিশ্বের পথকে সূচিত করতে পারে।


    কুতুব মিনার



    Qutab Minar
    দিল্লীতে অবস্থিত কুতুব মিনার বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ইঁটের তৈরী মিনার। এটি ৭২.৫ মিটার উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১১৯৩ সালে, দিল্লীর প্রথম মুসলিম শাসক কুতুব-উদ-দীন-আঈবক-এর অনুমতিতে এটি স্থাপিত হয়, তবে সেইসময় এটির কেবলমাত্র একটি ভিত ছিল। পরবর্তীকালে তার উত্তরাধিকারী ও জামাতা শামসু’দ-দীন ইলতূৎমিশ এই গঠনের উপর আরোও তিনটি স্তম্ভ সংযুক্ত করেন। কুতুব মিনার ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হিসাবে পরিচিত। এটি আরোও বেশ কিছু অন্যান্য প্রাচীন কাঠামো দিয়ে বেষ্টিত রয়েছে, যা সামগ্রীকভাবে কুতুব কমপ্লেক্স নামে পরিচিত।


    বাহাই মন্দির (লোটাস টেম্পল)



    Lotus Temple

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • দিল্লীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাহাই মন্দির বা লোটাস টেম্পল তার ফুলের ন্যায় আকৃতির জন্য জনপ্রিয় রূপে পরিচিত। ১৯৮৬ সালে ইরানিয়ান-কানাডিয়ান স্থপতি ফরিবুর্জ সাহেবার পরিকল্পনায় এটি নির্মিত হয়েছিল, এটিতে ২৭-টি পবিত্র সাদা পাপড়ি রয়েছে। এই মন্দির হল পূজার্চনার এক বাহাই স্থল এবং সেইসঙ্গে এটি দিল্লীর এক জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ; এটি অনেক স্থাপত্য পুরস্কার অর্জন করেছে এবং অনেক পত্রিকা ও সংবাদপত্রেও এর সুগঠন বৈশিষ্ট্যকে দেখানো হয়েছে। লোটাস টেম্পল-এ ভ্রমণের সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে, দিল্লীর চারপাশের দৃশ্য দেখার জন্য বছরর এই মাসগুলিতে দিল্লীর আবহাওয়া খুবই মনোরম থাকে।


    বিজয় মন্ডল



    Bijay Mandal

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • দিল্লীর প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের পাঠোদ্ধার করা সত্যিই এক কঠিন কাজ। আপনি কখনও জানতেও পারবেন না যে শতাব্দীরও আগে নির্মিত, নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই কাঠামোগুলি কি রহস্যময় ছদ্মবেশে রয়েছে? কিছুদিন আগে, আমি কোনওপ্রকারে এরকমই একটি হতবুদ্ধিকর নির্মাণে পদস্থলিত করেছিলাম যার সম্পর্কে কারোও কোনও স্পষ্ট ধারণা-জ্ঞান ছিল না। কয়েক ঘন্টা ধরে খোঁজার পর, আমি এটি ধারণা করতে পারলাম যে এটি সবচেয়ে অদ্ভূত-স্বভাবের শাসক, মহম্মদ বিন তুঘলকের “হাজার স্তম্ভ” সমন্বিত প্রাসাদ ছিল। দূর্গের সুবিশাল ভবনটি, দিল্লী সুলতানের চারটি শহরের মধ্যে এক অন্যতম জাহাঁপনাহ-র একটি অংশ ছিল।


    সুনেহরি মসজিদ



    Sunheri Masjid

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • প্রাচীনকালের সোনার চড়ুই পাখির গল্প শোনা যায়, ভারতবর্ষ বরাবরই বেশ কিছু শাসক গোষ্ঠীর দ্বারা আক্রান্ত ছিল। ইতিহাস সেই সমস্ত নির্দয় শাসকদের নৃশংস পাশবিকতার এক বিশাল সাক্ষী হয়ে আছে, তারা শুধুমাত্র দেশের সম্পদকেই লুঠ করেনি, তাদের নেতৃত্ব ব্যাপক রক্ত ক্ষরণেরও উৎসাহ জুগিয়েছে। এইরকমই একটি অত্যাচারী শাসক দিল্লীর একটি ছোট মসজিদের মধ্যে নথিভূক্ত রয়ে গেছে। রোশন-ঊদ দৌলা জফর খান নামে এক দয়ালু মুঘলীয় কর্তৃক নির্মিত মসজিদটি চাঁদনি চৌক অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি সুনেহরি মসজিদ নামেও জনপ্রিয় রূপে পরিচিত রয়েছে।


    ইন্দিরা গান্ধি ন্যাশনাল সেন্টার



    Indira Gandhi National Centre
    শিল্পকলা মানব প্রকৃতির এক অপরিহার্য অংশ, এটি সম্ভবত মানুষের শুদ্ধ চিন্তাশক্তির মুক্ত বহিঃপ্রকাশ উন্মোচনের এক ক্রিয়াকলাপ মাত্র। শিল্পকলার জন্য এই ইন্দিরা গান্ধি সেন্টারটি এক প্রাথমিক সরকার-নিহিত প্রতিষ্ঠান, যা কেবলমাত্র দেশের শিল্পকলার সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৮৭ সালের ২৪-শে মার্চ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির প্রবর্তনে, এটি তিনি তাঁর মা, ইন্দিরা গান্ধির স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন।


    জামালি কামালি মসজিদ



    Jamali Kamali Mosque

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • আমার মতো যেকোনও একজন ইতিহাস প্রেমীকে কখনই পরিত্যক্ত কাঠমোর ভিতরে লোভনীয় গোপনীয়তা ও রহস্যময়তার উদ্ঘাটনের বিষয়ে তৃপ্ত করতে পারেনা। এটিই সম্ভবত কারণ যে আমি সবসময় আমার চারপাশের এমনকি সবচেয়ে আবৃত দূর্গ ও সমাধিগুলির সঠিক অবস্থান খুঁজে বের করে নিই, আর এখানে রাজধানী শহরে পুনরায় অন্য আরেকটি খুঁজে পেয়েছি। মেহরৌলির আর্কিওলোজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া পার্কে অবস্থিত, জামালি কামালি মসজিদ ও সমাধি হল এখনো দিল্লীর সান্নিধ্যে আরেকটি প্রাচীনতম নির্মাণ। ইতিহাসের এই টুকরোর অস্বাভাবিক নামটি খুঁজে পাওয়া গেছে। এই নামকরণটি হয়েছে সেই দুইজন ব্যাক্তি – যাদের জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছিল, শেখ জামালি কাম্বোহ এবং তার সঙ্গীনি কামালি।


    লাল কোট



    Lal Kot

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • লাল কোট, আক্ষরিক অর্থে ‘রেড ফোর্ট’ বা ‘লাল দূর্গ’ হল দক্ষিণ দিল্লীতে অবস্থিত দেওয়াল দিয়ে ঘেরা কোনও কেল্লা বা সামরিক গ্যারিসোন্ (সৈন্য সরবরাহের স্থান)। এটি দিল্লীর প্রথম কোনও দূর্গ ছিল যেটি লাল পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল।
    শহরের ঐতিহাসিক মহিমার একটি আভাস পেতে এই দূর্গটিকে পরিদর্শন করা অতি আবশ্যক। ৭৩১ খ্রীষ্টাব্দে তোমরের শাসক, প্রথম অনঙ্গপাল এটি স্থাপন করেছিলেন, লাল কোট ছিল সেই সময়ের সর্বপ্রথম আত্মরক্ষামূলক নির্মাণ। এটি আয়াতাকার আকৃতির নির্মাণ এবং এটি ২.২৫ কিলোমিটার পরিধি নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে।


    মাটিনী মেমোরিয়্যাল



    Mutiny Memorial

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


  • প্রায় এক শতক আগে, ভারতবর্ষ যখন ব্রিটিশ রাজের শাসনে সংগ্রাম করছিল, সেইসময় বেশ কিছু সাহসী সহৃদয় সংগ্রামী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে ও সংগ্রাম শুরু হয়, যেটিকেই কিনা এখন “স্বাধীনতার প্রথম সংগ্রাম” (ফার্স্ট ব্যাটেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স) বলা হয়। এটি সহজ ছিল না; হাজার হাজার সৈন্য এই নিষ্ঠুর ব্রিটিশদের সঙ্গে সংগ্রামে তাদের জীবন হারিয়েছে। তাদের বীরত্ব ও আত্মবলিদানের স্মৃতিকে এই মাটিনী মেমোরিয়্যাল আজও স্মরণ করিয়ে দেয়।


    শান্ত ও নির্মল – বেগমপুরী মসজিদ



    Begumpuri Masjid

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • দিল্লী, অতীতে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের রাজধানী থাকায়, এখানে বিভিন্ন রাজবংশের একাত্মতায় স্থাপত্যের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। এমন অনেক গঠন-নির্মাণ আছে যেগুলি আমাদের অধিকাংশেরই এখনও অজানা। আমি এরকমই একটি নির্মাণ শহর থেকে এক বিচ্ছিন্ন গ্রামকে খুঁজে পেয়েছিলাম। দক্ষিণ দিল্লীতে বেগমপুর গ্রামে, বেগমপুরী মসজিদ হল একটি প্রাচীন মসজিদ যেটি তার ইতিহাসে অতীতের তুঘলক যুগের পদচিহ্নকে ধরা দেয়। চতুর্দশ শতাব্দীর সময়কালে ফিরৌজ শাহ তুঘলকের দরবারের প্রধানমন্ত্রী খান-ই-জাহাঁ-জুনান শাহ-এর দ্বারা নির্মিত এই মসজিদটি সাতটি প্রসিদ্ধ মসজিদের মাঝে জায়গা করে নিয়েছে।


    দ্য ন্যাশনাল জুওলোজিক্যাল পার্ক



    The National Zoological Park

    শৈশবের সেই অতি-আকর্ষণীয় “চিড়িয়া-ঘর” পরিদর্শনকে কেই বা ভুলে যেতে পারে? এটি একটি অনস্বীকার্য বাস্তব ঘটনা যে শিশুরা পশু ও চিড়িয়াখানা ভালোবাসে যা এই সমস্ত জায়গায় যেতে সকলেই আরাধনা করে। প্রায় প্রত্যেক দিল্লীবাসীই অন্তত জীবনে একবার হলেও এই ন্যাশনাল জুওলোজিক্যাল পার্ক বা যেটিকে আমরা “চিড়িয়াখানা” বলি, তা পরিদর্শন করেছে। এই শহরে চিড়িয়াখানা সবচেয়ে এক অন্যতম আকর্ষণীয় পিকনিক স্থল এবং বছরের যে কোনও সময় এখানে ঘুরতে যাওয়া যেতে পারে।


    মির্জা গালিব-এর স্মরণাতীত সমাধি



    Mirza Ghalib Tomb

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • এমন অনেক কম জনই আছেন যারা সবচেয়ে এক অন্যতম সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ কবি, মির্জা গালিবের হৃদয়স্পর্শী স্তবক ও কবিতা শুনতে ভালোবাসেন না। বরাবরই এঁনাকে উর্দূ সাহিত্যের শেক্সপীয়ার বলে বিবেচিত, মির্জা গালিব তাঁর অতুলনীয় কবিতা ও ছোট-গল্পের কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি মুঘল দরবারের সার্বভৌম দরবারে এক সুপরিচিত কবি ছিলেন এবং সম্রাট বাহাদুর শাহ জফরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। গালিব তাঁর হৃদয়ের খুবই গভীরে দিল্লীকে ধরে রেখেছিলেন এবং এই শহরকে পৃথিবীর আত্মা বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।


    কালকা জি টেম্পল



    Kalka Ji Temple

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • ভারতীয় ঐতিহ্যের এক প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্য হল এখানে অগণ্য মন্দিরের উপস্থিতি যা সমগ্র দেশে হিন্দুদের পরম গুরুত্বকে ধরে রাখে। এছাড়াও আমাদের রজধানী শহর বেশ কিছু সংখ্যক প্রাচীন হিন্দু মন্দিরেও গর্বিত রয়েছে যেগুলির শত-শত বছর আগে নির্মাণ হয়েছিল। দিল্লীর প্রাচীন মন্দির প্রসঙ্গে কথা উঠলে, প্রথমেই যে মন্দিরটি খেয়ালে আসে, তা হল কালকা জি মন্দির।


    ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার



    National Science Center

    আমাদের মধ্যে কতজন, আমাদের পান্ডিত্যপূর্ণ জীবনে বিজ্ঞান প্রেমী রয়েছেন? অবশ্যই খুব বেশি নয়। বিজ্ঞান সর্বদাই একটি সর্বোচ্চ ধারণার বিষয় হয়ে রয়েছে যা কেবলমাত্র বুদ্ধিমান বিচক্ষণতার সঙ্গেই মানানসই। কিন্তু এখানে এমন একটি স্থান রয়েছে যেটি যে কোনও কাউকে এই জটীল বিষয়টির প্রেমে পড়তে বাধ্য করতে পারে। এটি হল দিল্লীর ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার। ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার হল একটি বিজ্ঞানসম্মত যাদুঘর বা মিউজিয়াম, মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান সচেতনতা ও মানুষের মনের মধ্যে বিজ্ঞান ক্ষেত্রকে আবির্ভূত করার লক্ষ্যেই এটির নির্মাণ করা হয়েছিল।


    দিগম্বর জৈন মন্দির



    Digambar Jain Temple

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • লাল মন্দির নামেও জনপ্রিয়, এই দিগম্বর জৈন মন্দিরটি হল দিল্লীর প্রাচীনতম মন্দির। এই মন্দিরটির মুঘল যুগের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। সেই তখন থেকেই, এটির পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষনের মাধ্যমে এইভাবেই এটি আজকের দিনেও তেমনি দেখায়। পারশ্বনাথের উৎসর্গে, এই মন্দির ভবনে সম্মানের একটি স্তম্ভ, মানস্তম্ভ রয়েছে। মন্দিরটি লাল বালিপাথর দিয়ে নির্মিত ও এটির অন্দরমহলের সাজসজ্জা সুন্দর ভাস্কর্য্য, নিখাদ সোনার কারুকার্য ও অঙ্কন কীর্তি সহ অলঙ্কৃত রয়েছে। এখানে মন্দিরের দ্বিতীয় তলে একটি ভক্তিমূলক কক্ষ রয়েছে। এছাড়াও এই মন্দির ভবনে একটি বই-য়ের দোকানও রয়েছে যেখানে জৈন সাহিত্যের একটি ব্যাপক সংগ্রহ উপলব্ধ রয়েছে।


    নিজামূদ্দীন দরগাহ



    Nizamuddin Dargah

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • দিল্লীতে অবস্থিত নিজামুদ্দীন দরগাহ হল নিজামূদ্দীন আউলিয়ার দরগাহ বা সমাধিস্তম্ভ। ইনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ সূফি সন্তদের মধ্যে গণ্য হন। এটি হল দিল্লীর জনপ্রিয় আকর্ষণের মধ্যে অন্যতম এবং তারজন্যই প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ এটির পরিদর্শনে আসে। মহীয়ান হজরত নিজামূদ্দীনের সমাধিটিতে জালিস নামের জাফরি পর্দা, মার্বেলের খিলান ও প্রাঙ্গন দ্বারা সুসজ্জিত রয়েছে। ভক্তরা তাদের ইচ্ছা-কামনা পূরণ হওয়ার বিশ্বাস নিয়ে এই পর্দাগুলিতে লাল সূতোর গাঁট বাঁধে। সমাধিটির অভ্যন্তরে দেহাবশেষের পবিত্র আধারটি সুবাসিত গাঢ় সবুজ রংয়ের বসনে আবৃত করা আছে। ভক্তরা এই আধারটির সামনে প্রার্থনা করে, গোলাপের পাপড়ি ছড়ায় এবং বাতি, ধূপকাঠি নিবেদন করে।


    দ্য গার্ডেন অফ ফাইভ সেন্স



    The Garden Of Five Senses

    প্রায় ২০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, দিল্লীর এই ‘গার্ডেন অফ ফাইভ সেন্স’ উদ্যানটি শিথিলতা ও পুনুরুজ্জীবনের জন্য একটি শান্তিময় স্থান রূপে ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে প্রবর্তিত হয়। এটি দিল্লী পর্যটন পরিবহন উন্নয়ন নিগম (দিল্লী ট্যুরিশম্ ট্রান্সপোর্টেশন ডেভলোপম্যান্ট কর্পোরেশন বা ডি.টি.টি.ডি.সি.)-এর দ্বারা বিকশিত হয়। শহরের বিশৃঙ্খলা থেকে এক শোভনীয় পরিত্রাণের জন্য, উদ্যানের দীপ্তিশীল ঘন সবুজতা ও চারপাশের ঐশ্বর্য্যশালী টিলা বা প্রস্তরগুলি হল সু-পরিচর্যিত। বাগিচাটি বিভিন্ন এলাকায় বিভক্ত রয়েছে।


    অক্ষরধাম মন্দির



    Akshardham Temple

  • শ্রেণী : ধর্মীয়


  • ভারতবর্ষ মন্দিরের দেশ হওয়ায়, দিল্লীতে তার প্রকৃত প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। অক্ষরধাম হল দিল্লীর সবচেয়ে এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, যা তার ধর্মানুরাগ ও আধ্যাত্মিকতার জন্য কীর্তির দাবি রাখে। দিল্লীর সবচেয়ে এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কীর্তিস্তম্ভ, এটি ২৩৪-টি স্তম্ভ, ৯-টি অট্টালিকা ও ২০-টি চতুর্ভূজাকার শিখর সহ স্থাপত্য বিশালতার জন্যও সুপরিচিত – এই সমস্ত কিছুই সূক্ষ কারুকার্য এবং কারিগরিতাকে প্রদর্শিত করে। ভারতের স্থাপত্য শাস্ত্রের সারিতে নির্মিত, দিল্লীর অক্ষরধাম মন্দির হল পরিকল্পিত সৃজনশীলতা ও ইঞ্জিনীয়ারের উদ্ভাবনী কুশলতার এক নিখুঁত উদাহরণ।
    রাজস্থান থেকে নিয়ে আসা ৬০০০ টন গোলাপী রং-য়ের খোদাই বালি পাথরে নির্মিত, এই মন্দিরের নকশায় কারিগরিতার ছাপ রয়েছে। এর মধ্যে কোনওরম ধাতু যেমন ইস্পাত বা লোহা মিশ্রিত নেই। মন্দিরের সৌন্দর্য্যতা তার দেওয়াল ও দেবমূর্তির উপর সূক্ষ অলংকরণের মধ্যে দিয়ে ধরে রাখা আছে, এগুলিতে সাধু ও সন্তদের বিভিন্ন প্রকার ধ্যানমগ্ন ভঙ্গিমা প্রদর্শিত রয়েছে।


    রাজ ঘাট



    Raj Ghat

  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সস্কৃতি


  • দিল্লীর রাজঘাট হল এক পবিত্র স্থান যেখানে জাতির জনক, মহাত্মা গান্ধিকে দাহ করা হয়েছিল। ১৯৪৮ সালের ৩০-শে জানুয়ারী মহাত্মা গান্ধির হত্যাকান্ডের পর, পরের দিন রাজ ঘাটে তাঁর দেহকে দাহ করা হয়। যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত রাজ ঘাট তারপর থেকে মহাত্মা গান্ধির স্মৃতিসৌধের নির্মাণের জন্য এক শ্রেষ্ঠ স্থান রূপে বিবেচিত হয়।
    রাজ ঘাটকে একটি কালো স্মারক প্রস্তর সহ এক সাধারণ চর্তুভূজাকার মঞ্চ হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে। এই স্মারক প্রস্তরটিতে “হে রাম” শব্দটি খুদিত করা আছে। গান্ধিজী তাঁর শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার পূর্বে তাঁর মুখ থেকে এই শব্দগুলিই উচ্চারণ করেছিলেন। তাঁর সমাধিটি একটি কালো মার্বেলের মঞ্চ দিয়ে গঠিত, সম আকৃতির একটি ইঁটের মঞ্চও রয়েছে যেখানে গান্ধিজীর শবদেহকে দগ্ধ করা হয়েছিল। মহাত্মা গান্ধির সমাধিটি সুন্দর চারাগাছ ও বৃক্ষ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে, যা একটি শান্তিপূর্ণ বাতাবরণ প্রদান করে। এছাড়াও এটি উঁচু দেওয়াল দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে। মহাত্মা গান্ধিকে উৎসর্গ করে এর নিকটবর্তী এলাকায় দুটি মিউজিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ ঘাটের উত্তরদিকে শান্তি বনে জওহরলাল নেহেরুর সমাধিও নির্মাণ করা হয়েছে।


    পুরনো কেল্লা (ওল্ড ফোর্ট)



  • শ্রেণী : ধর্মীয়
  • পুরনো কেল্লা একটি আয়াতাকার আকৃতির দূর্গ যেটি প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। প্রধান দ্বারের একটু ভেতরেই একটি ছোট যাদুঘর বা মিউজিয়াম রয়েছে। দ্বারের উপর থেকে নতুন দিল্লীর এক দারুণ দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় এখানে একটি আলোক ও শব্দ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।


    লোধি গার্ডেন



  • শ্রেণী : বাগিচা
  • একসময় লেডী উইলিংটন পার্ক নামে অভিহিত, লোধি গার্ডেন – সুরিচর্যিত তৃণভূমি ও গাছপালা সহ, মুবারক শাহ, ইব্রাহিম লোদি ও শিকন্দর লোদির সমাধির সমন্বয়ে গঠিত। যারা নির্জনতা চাইছেন, তাদের জন্য এই বাগানটি সকালে শরীরচর্চার খামখেয়ালিপনার জন্য একটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত জায়গা।


    হুমায়ুনের সমাধি



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • মথুরা রোডের নিকটে অবস্থিত, এই বিস্তীর্ণ চমৎকার সমাধি-বাগানটি ভারতের মুঘল স্থাপত্য পরিকল্পনার একটি সূক্ষ্ম উদাহরণ। হুমায়ুনের মৃ্ত্যুর পর, ১৫৬৫ সালে তাঁর বিধবা স্ত্রী হামিদা বানু বেগম দ্বারা এটি নির্মিত হয়েছিল। এই বাগান চত্বরের ঘেরাওয়ের মধ্যে সরু পথ ও জলের ক্যানেল রয়েছে।


    সফদরজঙ্গ সমাধি



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • হুমায়ুনের সমাধির ঐতিহ্য সহ এটি দিল্লীর শেষ বেষ্টিত সমাধি-বাগ। ১৭৫৪ সালে নির্মিত এই সফদরজঙ্গ সমাধি দৈর্ঘ্য ও আকৃতিতে কম অভিজাত। এটিতে বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়ন বা পট-শিবির রয়েছে; যেমন – জংলি মহল, মোতি মহল, বাদশা পসন্দ এবং মাদ্রাসা।


    কনৌট প্লেস



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • দিল্লীর সবচেয়ে এক অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, কনৌট প্লেস-এ প্রত্যেক আস্বাদন ও বাজেটের বেশ কিছু বিভিন্ন প্রকারের দোকান, ব্যবসা, রেস্তোঁরা ও এম্পোরিয়্যাম রয়েছে।


    দিল্লী হাট



  • শ্রেণী : কৌতুক ও বিনোদন
  • এটি একরকম ঐতিহ্যপূর্ণ বাজারের বাতাবরণ প্রদান করে, তবে এটি আধুনিক প্রয়োজনীয়তার সাথে আরও মানানসই। এখানে যে কেউ কারুশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের একটি মিশ্রণ দেখতে পেতে পারেন। এটি এমন একটি স্থান যেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি ও জাতিগত রন্ধনপ্রণালী একসাথে এসে মিলিত হয়েছে। এটি এক অনন্য বাজার যেখানে ভারতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকে প্রদর্শিত করে।


    লক্ষীনারায়ণ মন্দির



  • শ্রেণী : ধর্মীয়
  • ১৯৩৮ সালে, শিল্পপতি জি.ডি.বিড়লা-র দ্বারা নির্মিত, এটি দিল্লীর এক অন্যতম প্রধান মন্দির। এটি কনৌট প্লেস-এর নিকটে অবস্থিত। এই মন্দিরটি দেবী লক্ষ্মী ও তাঁর পতিদেব নারায়ণের প্রতি উৎসর্গীকৃত। এই মন্দিরটি মহাত্মা গান্ধির এই চুক্তির ভিত্তিতে প্রবর্তিত করেন যে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এই মন্দিরে প্রবেশ করার অনুমতি থাকবে।


    ঈশকন্ মন্দির



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • হরে কৃষ্ণ মন্দির নামে জনপ্রিয়, এটি শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ সহ এক বিখ্যাত মন্দির। দক্ষিণ দিল্লীতে অবস্থিত, এই মন্দিরটি প্রধানত লাল পাথর দিয়ে নির্মিত যা তাঁর স্বাতন্ত্রসূচক স্থাপত্যের জন্য স্বীকৃত। এটি ঐতিহ্যপূর্ণ বৈদিক শৈলী ও আধুনিক শৈলীর এক অনন্য মিশ্রণ।


    তুঘলকাবাদ দূ্র্গ



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • ১৩২১ সালে, তুঘলকের গাজী মল্লিক তাঁর চার বছরের শাসনকালের মধ্যে তুঘলকাবাদে দিল্লীর সবচেয়ে শক্তিশালী দূর্গটির নির্মাণ করেন। এটি এমনকি তার ছন্নছাড়া রাজ্যের সবচেয়ে ব্যাপক ও দর্শনীয় দূর্গ। এর অভ্যন্তরে রয়েছে দেওয়াল, কেল্লা ও বিশাল স্তম্ভগুলি সহ এক চিত্তাকর্ষক প্রাসাদ, চমৎকার মসজিদ এবং মহীয়ান সভাগৃহ।


    চাঁদনী চৌক



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • এটি দিল্লীর সবচেয়ে এক অন্যতম প্রাচীন ও ব্যস্ততম বাজার এবং এশিয়ার সবচেয়ে পাইকারী বাজার। শাহ জাহানের দ্বারা নির্মিত, ওল্ড সিটির বাজারটি লাল কেল্লা থেকে জামা মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।


    ন্যাশনাল এগ্রিকালচার‍্যাল সায়েন্স মিউজিয়াম



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • আই.সি.এ.আর চত্বরে অবস্থিত ন্যাশনাল এগ্রিকালচার‍্যাল সায়েন্স মিউজিয়ামটি হল ভারতের মধ্যে প্রথম এই ধরনের মিউজিয়াম। প্রায় ২৩,০০০ বর্গ ফুট তল এলাকাযুক্ত এক বিশেষভাবে পরিকল্পিত দ্বিতল ভবনটি প্রাচীনকাল থেকে ভারতে কৃষির উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাগুলির সঙ্গে আমাদের দেশের কৃষিতে বর্তমান রাষ্ট্রীয় অত্যাধুনিক প্রযু্ক্তির জন্য এটি রচিত হয়েছিল।


    ন্যাশনাল রেল মিউজিয়াম



  • শ্রেণী : ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • মৌলানা আজাদ রোডে নির্মিত, এটি ভারতের এক অন্যতম বৃহৎ মিউজিয়াম। এটি প্রাক-ঐতিহাসিক যুগ থেকে শিল্পের সমসাময়িক যুগের কার্যক্রমের বিভিন্ন নিবন্ধগুলিকে এটি ধরে রেখেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দ্বারা পরিচালিত, এটি ভারত সরকারের একটি অংশ।

    দিল্লীর নিকটবর্তী পর্যটন গন্তব্যস্থল




    দিল্লীর নিকটবর্তী পর্যটন গন্তব্যস্থলগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল –

    হরিদ্বার




    উত্তরাখন্ডে অবস্থিত এই শহরটি সবচেয়ে এক অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান্। গঙ্গা নদীর তীরে এর অবস্থানের দরুণ, ভারতের এই তীর্থ শহরটি সাতটি পবিত্র হিন্দু স্থলের মধ্যে এক অন্যতম। এছাড়াও সারা বছর ব্যাপী ভারতীয় তথা বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে এক প্রসিদ্ধ গন্তব্যস্থল হয়ে উঠেছে, হরিদ্বার এমনকি কুম্ভমেলার অবস্থানের জন্যও মানুষের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এই মেলা প্রতি বারো বছর অন্তর এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

    মথুরা




    যমুনা নদীর পশ্চিমে, উত্তর প্রদেশে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান এই মথুরা অবস্থিত। একটি হিন্দু তীর্থস্থান হওয়ার পাশাপাশি, এই উত্তর ভারতীয় শহরটি হল মথুরা জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। মথুরার মোট আয়তন প্রায় ৩,৮০০ বর্গ কিলোমিটার। এই মথুরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র ভূমি ‘ব্রজভূমি’-নামেও পরিচিত। শহরটি, দিল্লীর ১৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং উত্তর প্রদেশের আগ্রা থেকে ৫৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে আচ্ছাদিত রয়েছে। মথুরা সারা বছর ধরে বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদেরকে আকৃষ্ট করে। শহরের প্রতিটি ঘুপচি ও কোণা বাঁশির সুরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর যৌবন বয়সে এই বাঁশিই বাজাতেন। এই মথুরার সঙ্গে জড়িত অনেক কাল্পনিক ও ঐতিহাসিক গল্প রয়েছে যা এই স্থানটিকে আরোও বেশি করে বিশেষত্ব করে তুলেছে।

    আগ্রা




    যমুনা নদর তীরে, উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত, আগ্রা শহরটি, তার সৌন্দর্য্য ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য্যের জন্য বিশ্বের সাতটি আশ্চর্য্যের মধ্যে এক অন্যতম তাজ মহলের সমার্থক। আগ্রা, রাজ্যের রাজধানী লখনউ থেকে ৩৬৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি সমস্ত অন্তর্দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভ্রমণ গন্তব্যপথ।

    দিল্লীতে কেনাকাটা




    দিল্লীর স্থানীয় বাজার ও কেনাকাটাঃ দিল্লী ক্রেতাদেরকে আনন্দিত করে ও এখানে আপনি প্রায় সমস্ত কিছু যেমন দারুণ জামাকাপড়, পিতলের সামগ্রী, কাঠের কাজ, গহনা, চর্মজাতীয় পণ্যের কাজ, ধাতুর জিনিসপত্র থেকে সুবাসিত তেল ইত্যাদি পেয়ে যাবেন। কেবলমাত্র দিল্লীতে আপনি সমস্ত কিছু হাতের সামনে পেয়ে যাবেন, তা সে সর্বোৎকৃষ্ট সুউচ্চ শপিং মল থেকে স্থানীয় বাজার – সমস্ত কিছুই এই ব্যস্তবহুল শহরের কেন্দ্রে অবস্থান করে আছে।

    • গভর্নমেন্ট আ্যন্ড স্টেট এম্পোরিয়াম : কনৌট প্লেস-এর নিকটে বাবা খড়ক সিং মার্গে অবস্থিত এগুলি রাজ্যের দ্বারা পরিচালিত এম্পোরিয়াম, এখানে এই রাজ্যের অকৃত্রিম হস্তশিল্পের ভান্ডার রয়েছে। যেহেতু এখানে জিনিসের দাম ন্যস্ত করা আছে তাই কোনও দর কষাকষি হয় না।

    • কনৌট প্লেস : ক্রেতাদের এক চৌম্বকীয় আকর্ষণ, কনৌট প্লেস দোকান ও ফুটপাত বিক্রেতাদের দ্বারা উদ্বেলিত। এখানে গহনা, চর্মজাতীয় পরিধেয় সামগ্রী, বস্ত্র, জামা-কাপড়, জুতো এবং অন্যান্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও বর্ণময় সামগ্রী বিক্রি হয়।

    • পালিকা বাজার : এটি কনৌট প্লেসের এক ভূ-গর্ভস্থ বাজার, যা চুক্তি খরিদ্দারি পণ্যদ্রব্যের সন্ধানে স্থানীয়দেরকে আকৃষ্ট করে। বিদেশী পর্যটকেরা সাধারণত উচ্চ মূল্যে উদ্ধৃত হয়, সুতরাং এখানে দর-কষাকষি করা একান্ত বাঞ্চনীয়।

    • খান মার্কেট : দিল্লীর এক সবচেয়ে অন্যতম জনপ্রিয় কেনাকাটা করার জায়গা, খান মার্কেট সাধারণত বিদেশী কূটনীতিক ও প্রবাসীদের দ্বারা ভিড় হয়। এখানে অনেক জনপ্রিয় বই-য়ের দোকান ও কফির দোকান নজরে পড়তে পারে; যেমন – দ্য ফুল সার্কেল এবং দ্য ক্যাফে টার্টেল।

    • হৌজ খাস ভিলেজ : নকশাকার আসবাবপত্রের দোকান, আর্ট গ্যালারী ও বুটিক (সর্বাধুনিক ফ্যাশনের পণ্য-সামগ্রীর জন্য এখানে আসুন।

    • দিল্লী হাট :আই.এন.এ মার্কেটের নিকটে, এটি একটি খোলা আকাশের নীচে খাবার ও কারুশিল্পের (ক্রাফ্ট) বাজার। এটি তার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, গহনা ও গৃহসজ্জার দ্রব্যের জন্য প্রসিদ্ধ, এছাড়াও এই স্থানে আপনি খুবই যুক্তিসঙ্গত মূল্যে দেশের সমস্ত জায়গার খাবারের নিদর্শন পেতে পারেন।

    • আনসাল প্লাজা :এটি একটি আধুনিক শপিং মল যেখানে আপনি জনপ্রিয় বিদেশী খ্যাতনামা পণ্যের বস্ত্রসামগ্রী থেকে শুরু করে অকৃত্রিম প্রসাধনী দ্রব্য ও সুগন্ধি – এই সমস্ত কিছুই এখানে পেয়ে যাবেন।


    দিল্লীতে হোটেল




    ব্যবসা ও পর্যটনের দিক দিয়ে দিল্লী ভারতের এক সবচেয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। সারা বছর ধরে প্রচুর পর্যটক এখানে ঘুরতে আসে। নতুন দিল্লী প্রচুর উচ্চ পর্যায়ের, বিলাসবহুল ও বাজেট হোটেলের আবাসস্থল। দিল্লীর হোটেলগুলি সমস্ত ধরনের আস্বাদন ও মূল্যের সাথে মানানসই। বিলাসবহুল স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কেন্দ্র থেকে দেখতে গেলে দিল্লীতে বিশ্বের সমস্ত জায়গা থেকে আগত পর্যটকদের থাকার জন্য প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রয়েছে। দিল্লীর বেশ কিছু উচ্চ পর্যায়ের হোটেলগুলির মধ্যে রয়েছে – দ্য লীলা প্যালেস্, দ্য ইম্পেরিয়্যাল, দ্য ওবেরই, তাজ মহল হোটেল, আই.টি.সি মৌর্য্য, হিলটন্ গার্ডেন, লে মেরিডিয়্যেন্ ও সাঙ্গরি-লা’স ইরোস হোটেল ইত্যাদি। ন্যায্য বাজেটের হোটেল ও পরিমিত মূল্যের অতিথিশালা থেকে অর্থনৈতিক নবীন হোটেল ও লজ, দিল্লীতে সমস্ত ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন দিল্লী রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে পাহাড়গঞ্জ এলাকায় বাজেট হোটেল ও লজগুলির সারি রয়েছে। এই হোটেলগুলি সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়ায় অনেক বিদেশীরা এখানে থাকতে পছন্দ করে। কেবল এই হোটেলগুলিতে ঢোকার পূর্বে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হোটেল এবং রুমগুলি চেক করে নেওয়া উচিৎ। এগুলি ছাড়াও দিল্লী জুড়ে প্রচুর হোটেল রয়েছে যেগুলি সমস্ত পর্যটকদের বাজেটের মধ্যে পরিবেশন করে।

    * সর্বশেষ সংযোজন : ৩ - রা জুন, ২০১৫