
ছত্তীসগঢ়-এর উপর তথ্যাবলী |
|
---|---|
আধিকারিক ওয়েবসাইট | www.chhattisgarh.nic.in |
স্থাপনের তারিখ | 1 নভেম্বর, 2000 |
আয়তন | 135,191 বর্গ কলোমিটার |
ঘনত্ব | 189/ বর্গ কলোমিটার |
জনসংখ্যা(2011) | 25,545,198 |
পুরুষ জনসংখ্যা(2011) | 12,832,895 |
মহিলা জনসংখ্যা(2011) | 12,712,303 |
জেলার সংখ্যা | 27 |
রাজধানী | রায়পুর |
নদীসমূহ | মহানদী, ইন্দ্রাবতী, শোণ, পৈরি, হাসদো, সব্র |
অরণ্য ও জাতীয় উদ্যান | কাঙ্গেরঘাটি জাতীয় উদ্যান, ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যান, কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যান |
ভাষা | হিন্দি, ওড়িয়া, মারাঠি, ছত্তীসগঢ়ী, গোন্ডি, কোরকূ |
প্রতিবেশী রাজ্য | মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ, তেলেঙ্গানা |
রাষ্ট্রীয় পশু | বন্য মহিষ |
রাষ্ট্রীয় পাখি | পাহাড়ী ময়না |
রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ | শাল |
রাজ্যের অভ্যন্তরীণ মূল উৎপাদন (2011) | 41167 |
সাক্ষরতার হার (2011) | 71.04% |
প্রতি 1000 জন পুরুষে মহিলার সংখ্যা | 991 |
বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র | 90 |
সংসদীয় নির্বাচনক্ষেত্র | 11 |
২০০০ সালের ১-লা নভেম্বর, ভারত, ছত্তীসগঢ় নামে একটি নতুন রাজ্যের জন্ম দেয় যা মধ্যপ্রদেশের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ। ছত্তীসগঢ় রাজ্য ১৩৫,১৯১ বর্গকিলোমিটার জায়গা নিয়ে গঠিত, যা মধ্যপ্রদেশের মোট এলাকার মাত্র ৩০ শতাংশ। নতুন রাজ্যের জন্য দাবির প্রস্তাবটি ১৯২৪ সালে রায়পুর জেলা কংগ্রেসের একটি সভা থেকে জানা যায়, সেখানে একটি পৃথক সত্ত্বা হিসাবে ছত্তীসগঢ়-এর সম্বন্ধে প্রস্তাব করা হয়েছিল। যে সমস্ত নেতারা সেই বৈঠকে অংশ নেন তাদের মতে, ছত্তীসগঢ় অঞ্চলটি সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক দিক দিয়ে মধ্যপ্রদেশের বাকি অংশ থেকে স্বতন্ত্র।
এই রাজ্যের রাজধানী হল রায়পুর এবং উচ্চ আদালতটি রয়েছে বিলাসপুরে। এই রাজ্যে ২৭টি জেলা রয়েছে।
ছত্তীসগঢ়-এর বিধানসভা ৯০জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এই রাজ্য থেকে ১১জন সদস্য লোকসভায় এবং ৫জন সদস্য রাজ্য সভায় পাঠানো হয়।
ছত্তীসগঢ়-এর ইতিহাস, পূর্বে এটি দক্ষিণ কোশল নামে পরিচিত ছিল যা চতুর্থ শতাব্দীর সময়কালে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। রামায়ণ ও মহাভারতের পুরনো দিনগুলি থেকে, এই রাজ্যের পৌরাণিক ইতিহাস জানা যায়। চতুর্দশ শতাব্দীর সময়কালে ছয় শতাব্দীর জন্য ছত্তীসগঢ় হৈহয় রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়। মধ্যযুগে বস্তারে চালুক্য বংশ তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। অন্নদেব প্রথম চালুক্য শাসক ছিলেন যিনি ১৩২০ খ্রীষ্টাব্দে বস্তারে এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৪১ খ্রীষ্টাব্দে মারাঠারা এই রাজত্ব, হৈহয় রাজবংশের কাছ থেকে দখল করে। ১৭৪৫ খ্রীষ্টাব্দে রাজ্য দখলের পর, রতনপুর মহলের শেষ বংশধর, রঘুনাথসিংজী, এই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। অবশেষে ১৭৫৮ সালে ছত্তীসগঢ় সম্পূর্ণরূপে মারাঠাদের দখলে চলে আসে এবং বিম্বাজী ভোঁসলে-কে শাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়। বিম্বাজী ভোঁসলের মৃত্যুর পর মারাঠারা সুবা প্রথা অনুসরণ করে। এটি একটি অস্থিরতা এবং অপশাসনের যুগ ছিল। মারাঠা সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে লুঠতরাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ছত্তীসগঢ় রাজ্যটি মধ্যপ্রদেশের ১৬টি জেলাকে একত্রিত করে গড়ে তোলা হয়েছে যার মধ্যে একটি শক্তিশালী ভাষাগত বিভেদ রয়েছে। তবে, এই রাজ্যের মধ্যে আরো জেলা যুক্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে এখানে ২৭টি জেলা রয়েছে। নতুন সহস্রাব্দের ২০০০ সালের ১-লা নভেম্বর এই রাজ্যটির সূচনা হয়েছিল। ছত্তীসগঢ়-এর আনুমানিক আয়তন হল ১৩৫,১৯১ বর্গকিলোমিটার। ছত্তীসগঢ় একদিকে ১৭ডিগ্রী ৪৬” উত্তর থেকে ২৪ডিগ্রী ০৫” উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং অন্যদিকে ৮০ডিগ্রী ১৫”পূর্ব থেকে ৮৪ডিগ্রী ২০” পূর্ব দ্রাঘিমাংশের রেখা জুড়ে প্রসারিত। রাজ্যের ৪৪ শতাংশ ঘন বন দ্বারা আবৃত যা রাজ্যের বিভিন্ন ভূ-সংস্থানকে চিহ্নিত করে। ভারতের মোট অরণ্য এলাকার ১২ শতাংশের কাছাকাছি ছত্তীসগঢ় দাবি করে, যা অসাধারণ জীব বৈচিত্র্য, সেইসঙ্গে দামী কাঠ এবং বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর জন্যও প্রসিদ্ধ।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ছত্তিশগঢ়ের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২.৫৫ কোটি। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৮৯ জন মানুষ সহ এই রাজ্য ঘনবসতিপূর্ণ। রাজ্যের চারটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা রায়পুর, দুর্গ, সুরগুজা এবং বিলাসপুর-এ সর্ব্বোচ্চ জনসংখ্যা দেখা যায়। ছত্তীসগঢ়-এর গ্রামীণ এলাকায়, শহর এলাকার তুলনায় জনসংখ্যা বেশি। যদিও, বর্তমান কিছু বছরে, ছত্তীসগঢ়-এর গ্রামীণ এলাকার বেশিরভাগ লোকজন ভালো কাজের খোঁজে এবং উন্নত জীবনযাপনের জন্য শহরের দিকে প্রস্থান করছে। ছত্তীসগঢ়-এর বেশিরভাগ জেলা কৃষির উপর নির্ভরশীল কারন হল এখানকার নিম্ন স্তরের শিল্পায়ন।
নবগঠিত রাজ্য প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। রাজ্যের মোট অরণ্য সংক্রান্ত রাজস্বের ৪৪ শতাংশ রাজস্ব শুধু এখানেই পাওয়া যায়। এখানে চুনাপাথর, আকরিক লোহা, আকরিক তামা, রক ফসফেট, ম্যাঙ্গানিজ আকরিক, বক্সাইট, কয়লা, আ্যসবেসটাস এবং অভ্র-র ভান্ডার সমৃদ্ধ রয়েছে। এই ভূমিবেষ্টিত বা সীমাবদ্ধ রাজ্যের, যা মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং অবশ্যই মধ্যপ্রদেশ দ্বারা বেষ্টিত, জনংখ্যার প্রধান জীবিকা হল কৃষি। রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিতে নিযুক্ত আছেন। ছত্তীসগঢ়, ভারতের “ধান্যভান্ডার” (রাইস বোল) হিসাবে পরিচিত এবং ৬০০টি চালকলে খাদ্য শস্য সরবরাহ করা হয়। ইস্পাত এবং বিদ্যুৎ হল এই রাজ্যের প্রধান শিল্প। দেশের মোট ইস্পাত উৎপাদনের ১৫ শতাংশ ছত্তীসগঢ়-এই প্রাপ্ত।
মধ্যপ্রদেশ নামক বৃহৎ রাজ্যের দ্বিখন্ডন এবং ছত্তীসগঢ় রাজ্যের জন্ম যদিও একটি শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া ছিল তথাপি এখানকার মানুষ তার জাতিগত পরিচয় সংরক্ষনের তাগিদে, একটি নতুন রাজ্যের দাবি করে, নিজেরাই ভারতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিল। নতুন রাজ্য গঠন, গোটা জাতির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্তের সৃষ্টি করে। ছত্তীসগঢ় সরকারের কার্যনির্বাহী প্রধান হলেন রাজ্যপাল এবং বিধানসভার প্রধান হলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ছত্তিশগঢ়ের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলি, ভারতের পর্যটন মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ গন্থব্যস্থল হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে। ছত্তীসগঢ় রাজ্যের ৩টি জাতীয় উদ্যান এবং ১১টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে যা এখানকার অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল দ্বারা সমৃ্দ্ধ। ছত্তীসগঢ় রাজ্যের ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যান সবচেয়ে বিখ্যাত বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এখানে নিরাপদ এলাকায় অনেক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে- যেমন বারনাওয়াপাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, টামোর পিঙ্গলা, কাঙ্গেরঘাটি জাতীয় উদ্যান, পামেড়, সঞ্জয় জাতীয় উদ্যান, সেমারসট, সীতানদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, উড়ান্তি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, অচানকমার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বাদলখোল, বৈরামগড়, গোমার্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ইত্যাদি।
চিত্রবৎ ছত্তীসগঢ়, প্রাকৃতিক জাঁকজমকে সমৃদ্ধ এবং গ্রাম ও শহরের এক মনোরম মিশ্রণ। এই রাজ্য মধ্য ভারতের সাংস্কৃতিক উন্মত্ততার কেন্দ্রস্থল এবং তা এখানকার বন্ধু্ত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত মানুষ, সংস্কৃতি এবং ছত্তীসগঢ়-এর উৎসবের দ্বারা প্রমাণিত। এটি একটি নবীন রাজ্য যা মধ্য প্রদেশের কিছু জেলাকে একত্রিত করে গড়ে তোলা হয়েছে, যা ছত্তিশগঢ়ীয় স্হানীয়ভাষা দ্বারা সুক্ষ সুতোয় গাঁথা। এখানকার মানুষ প্রধানত আদিবাসী, যারা হিন্দি এবং ছত্তিশগঢ়ীয় ভাষায় কথা বলে এবং একসঙ্গে মিলিত ভাবে বসবাস করে। তারা খুবই কঠোর পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী এবং তারা প্রধানত এই রাজ্যের বিভিন্ন খনি এবং কারখানায় কাজ করে। এখানকার উপজাতীয় মানুষগুলি খুবই প্রতিভাবান এবং সৃষ্টিশীল এবং তাদের দক্ষতা, সূক্ষ ঐতিহ্যপূর্ণ হস্তশিল্পের মধ্যে দিয়ে উদ্ভাসিত হয়।
এই রাজ্যের সরকারি ভাষা হল হিন্দি। তবে, এই রাজ্যের জনসংখ্যর অধিকাংশই ছত্তিশগঢ়ীয় ভাষায় কথা বলে যা হিন্দি ভাষার উপভাষা৷ ছত্তিশগঢ়ীয় ভাষায় কিছু ভাষাগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এর শব্দভান্ডার তৈরী হয়েছে মুন্ডা এবং দ্রাভাড়িয়ান ভাষা থেকে। রাজ্যের কিছু অংশের মানুষ তেলেগু ভাষাতেও কথা বলে। কিছু কিছু এলাকায়, বেশ কিছু মানুষ ওড়িয়া, ভোজপুরি, কোশালী ভাষাতেও কথা বলে।
এই রাজ্যের সাক্ষরতার হার হল প্রায় ৭১ শতাংশ। রাজ্য সরকার এই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার তাগিদে অনেক কার্যক্রম চালু করেছেন। এখানে অনেক সরকারি এবং সেইসঙ্গে বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে যা ছত্তীসগঢ় মধ্য শিক্ষা পর্ষদ, কেন্দ্রীয় মধ্য শিক্ষা পর্ষদ (সি.বি.এস.ই) বা কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশন (সি.আই.এস.সি.ই) দ্বারা অনুমোদিত। এখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা প্রদান করে যেমন- ছত্তীসগঢ় স্বামী বিবেকানন্দ প্রযু্ক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়, গুরু ঘাসিদাস বিশ্ববিদ্যালয়, সরগুজা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে প্রকাশিত, ছত্তীসগঢ় প্রচুর পর্যটকদের আকর্ষণ স্থল। এই রাজ্যের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলি হল অমরকন্টক, বানজারি বাবা, ব্রহ্মদেব, চম্পারণ্য, চিত্রকূট, দুধ-আহারী মঠ, ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যান, কাঙ্গেরঘাটি জাতীয় উদ্যান, জগদলপুর, বস্তার, দান্তেশ্বরী মন্দির, এবং আরো অনেক কিছু।
চিত্রকূট জলপ্রপাতঃ
চিত্রকূট জলপ্রপাত হল একটি প্রধান আকর্ষণ, যা ছত্তীসগঢ়-এর বস্তার জেলার মধ্যে অবস্থিত। জলপ্রপাতটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯মিটার। এই জলপ্রপাতটির বিশেষত্ব হল- ঋতু পরিবর্তন অনুযায়ী, জলপ্রপাতের জলের রং-এর পরিবর্তন।
কাঁকেরঃ
কাঁকের ছত্তীসগঢ়-এর মুকুটের একটি আসল রত্ন। কাঁকের, একটি চিত্রবৎ পুরনো ছোট শহর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের প্রাচুর্য্যের জন্য গর্বিত। শহরটি প্রায় হাজার বছরের পুরনো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণার্থীরা আকর্ষণীয় অরণ্য, জলপ্রপাত এবং অপরিসীম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখবার জন্য এখানে ভিড় করে। কাঁকের-এর প্রাচীন প্রাসাদটি একসময় রাজ্যের কোনও রাজপরিবারের ছিল।
ব্রহ্মদেবঃ
খাজুরাহো-এর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের সাদৃশ্যের জন্য, এটি ছত্তীসগঢ়-এর খাজুরাহো নামেও পরিচিত। ব্রহ্মদেব মন্দিরটি এই রাজ্যের কবীরধাম জেলার মধ্যে অবস্থিত। মন্দিরটি ভগবান শিবকে উৎসর্গীকৃত এবং এর বহির্গাত্রে সূক্ষ ভাস্কর্য্য রয়েছে।
উষ্ণ প্রস্রবণ, তাত পানি নামে পরিচিতঃ
তাত পানি, ছত্তীসগঢ়-এর সরগুজা জেলার একটি জনপ্রিয় উষ্ণ প্রস্রবণ। এই উষ্ণ প্রস্রবণটি ঔষধি বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং সারা বছর ধরে অনবরত প্রবাহিত হয়।
ছত্তীসগঢ় – রেলপথ, সড়ক ও বিমান দ্বারা সুসংযুক্ত।
রেলপথ মাধ্যম
ছত্তীসগঢ়-এ রেলপথে ভ্রমণ তুলনামূলকভাবে সহজ। বিলাসপুর, দূর্গ এবং রায়পুর, ছত্তীসগঢ়-কে ভারতের প্রায় সমস্ত প্রধান শহর এবং নগরগুলির সঙ্গে যুক্ত করেছে। বস্তুত, এই রাজ্যের রেল সংযোগের কেন্দ্র হল বিলাসপুর- যেটি ভারতীয় রেলপথের, দক্ষিণ পূর্ব কেন্দ্রীয় রেলের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসাবেও গড়ে উঠেছে।
সড়ক মাধ্যম
গত কয়েক বছরে ছত্তীসগঢ়-এর সড়ক সংযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। এখানে অসংখ্য জাতীয় এবং রাজ্য সড়ক রয়েছে, যা ছত্তীসগঢ়-কে ভারতের শহর ও নগরগুলির সাথে যুক্ত করেছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক যা ছত্তীসগঢ়-এর মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, সেগুলি হল ৬নং জাতীয় সড়ক, ৪৩নং জাতীয় সড়ক, ৭৮নং জাতীয় সড়ক। এই রাজ্যের মধ্যে ১১টি জাতীয় সড়ক রয়েছে।
বিমান মাধ্যম
যেহেতু ছত্তীসগঢ় রাজ্যটি অপেক্ষাকৃত নতুন তাই এখনও সেখানে সুসংহত বিমান সংযোগ গড়ে ওঠেনি। রাজ্যের রাজধানী রায়পুরই হল, ছত্তীসগঢ়-এর একমাত্র শহর, যেখানে বিমান সংযোগ আছে। রায়পুরের উন্নত বিমান সংযোগ বিভিন্ন শহর, যেমন- জয়পুর, নাগপুর, ভুবনেশ্বর, কলকাতা, ভূপাল, ইন্দোর, আহমেদাবাদ, গোয়ালিয়র, বিশাখাপত্তনম, হায়দরাবাদ এবং ব্যাঙ্গালোরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
ছত্তীসগঢ় দেশের উঠতি পর্যটনস্থলের মধ্যে পড়ে। গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে প্রচুর হোটেল স্থাপিত হয়েছে। সমস্ত ভ্রমণার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী তারা তাদের আতিথেয়তা এবং সেবার জন্য বিখ্যাত।
সর্বশেষ সংযোজন : ০৬ই জানুয়ারী , ২০১৫
|