free_shipping_English_728x90

মিজোরাম মানচিত্র

Store-banner

Mizoram Map in Bengali

মিজোরাম মানচিত্র
* প্রধান সড়ক, রেলপথ, নদী, জাতীয় সড়ক ইত্যাদি সহ মিজোরামের মানচিত্র৷

মিজোরামের উপর তথ্যাবলী

আধিকারিক ওয়েবসাইট www.mizoram.gov.in
স্থাপনের তারিখ 20 ফেব্রুয়ারী, 1987
আয়তন 21081 বর্গ কিলোমিটার
ঘনত্ব 52/ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা (2011) 1,097,206
পুরুষ জনসংখ্যা (2011) 555,339
মহিলা জনসংখ্যা (2011) 541,867
জেলার সংখ্যা 8
রাজধানী দিসপুর
নদীসমুহ ছিমতুইপুই নদী, ত্লায়াং, তুতিস, তুইরিয়াল
অরণ্য ও জাতীয় উদ্যান ফাওয়াংপুই ব্লু মাউন্টেন জাতীয় উদ্যান, মার্লেন জাতীয় উদ্যান, ডাম্পা ব্যার্ঘ্র সংরক্ষণ, তাওয়ই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
ভাষা মিজো, হিন্দি, ইংরাজী
প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরা, আসাম, মণিপুর
রাষ্ট্রীয় পশু পার্বত্য গিবন
রাষ্ট্রীয় পাখি মিসেস. হিউম’স ফেসান্ট
রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ নাগকেশর
রাষ্ট্রীয় ফুল থার শেন্হরি
রাজ্যের অভ্যন্তরীণ মূল উৎপাদন (2011) 48591
সাক্ষরতার হার (2011) 80.11%
প্রতি 1000 জন পুরুষে মহিলার সংখ্যা 975
বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র 40
সংসদীয় নির্বাচনক্ষেত্র 1

মিজোরাম সম্পর্কে

মিজোরাম ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির মধ্যে একটি, এর পূর্বে এবং দক্ষিণে মায়ানমার (পূর্বে বার্মা নামে পরিচিত), পশ্চিমে বাংলাদেশ এবং উত্তরদিকে মণিপুর, আসাম ও ত্রিপুরার রাজ্য দ্বারা সীমান্তবর্তী রয়েছে।

মিজোরাম কথার অর্থ হল “উচ্চভূমির দেশ” এবং স্থানীয় ভাষায় হল মিজো। মায়ানমার সীমান্তের কাছে ২০০০ মিটারেরও (৬৫৬০ ফুট) বেশি উঁচু হয়ে ওঠা মিজো পর্বত, যা এই রাজ্যের ভূ-সংস্থানকে আয়ত্ত করে আছে। রাজ্যের রাজধানী আইজল, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২২০ মিটার (৪০০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।

মিজোরাম- উত্তর ও দক্ষিণ লুসাই পার্বত্য জেলাগুলির মিশ্রণে গঠিত, বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল সমৃদ্ধ, বিশাল পাইনের গুচ্ছ সহ অসীম সূ্ন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, বাঁশের উপর নির্মিত গৃহসহ গ্রাম সমৃদ্ধ এক রাজ্য।

কর্কট রেখা মিজোরামের মধ্যে দিয়ে যাওয়ায় এখানে সারা বছর ধরে এক মনোরম নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অনুভূত হয়। খাড়া পর্বত এবং গভীর গিরিখাত পূর্ণ রাজ্য মিজোরামের সর্ব্বোচ্চ শৃঙ্গ ‘দ্য ব্লু মাউন্টেন’ ২১৬৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই পার্বত্য রাজ্যটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলি হল তালেং, সোনাই, টুইভাওয়াল, কোলোডাইন এবং কামাফুলি।

মিজোরামে ৪০-টি আসনের একক কক্ষবিশিষ্ট একটি বিধানসভা পরিষদ রয়েছে। এই রাজ্য থেকে দুইজন সদস্য ভারতীয় সংসদে পাঠানো হয়ঃ একজন রাজ্যসভায়(উচ্চ কক্ষে) এবং একজন লোকসভায় (নিম্ন কক্ষে)। রাজ্যে ৮-টি জেলা রয়েছে।

মিজোরামের পর্যটন

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত, পার্বত্য শহর আইজল, মিজোরামের একটি ধর্মীয় ও সংস্কৃতির কেন্দ্র যেখানে নিজেদের হাতে তৈরী হস্তশিল্প উপলব্ধ হয়। মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত চম্ফাই একটি সুন্দর রিসর্ট। আইজল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং সাইচুয়্যাল পর্যটক রিসর্ট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তামডিল ঘন বনলতা সমৃ্দ্ধ এক প্রাকৃতিক হ্রদ এবং পার্বত্য এলাকা থেজাওয়াল থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভানটাওয়াং জলপ্রপাত হল মিজোরামের সর্ব্বোচ্চ এবং সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত। পর্যটন বিভাগ পর্যটকদের থাকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় লজ খুলেছেন যেমন আইজল, লুঙ্গলেই, চম্ফাই-তে এবং রাস্তার ধারে রেস্তোঁরা রয়েছে থিঙ্গডাওয়াল, নাহথিয়াল-এ, বিনোনমূলক কেন্দ্র রয়েছে যেমন জোবাওয়াকের কাছে ডিস্ট্রিক্ট পার্কে অবস্থিত বেরাওয়া তিয়াং এবং আ্যলপাইন পিকনিক হাট।

ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থান

মিজোরামের পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে খুব কম জানা গেছে। খ্রীষ্টীয় ১৭৫০ থেকে ১৮৫০-এর মধ্যে মিজো (পূর্বে লূশাই নামে পরিচিত) উপজাতিরা নিকটবর্তী চীন পর্বত থেকে এসে স্থানীয় আদিবাসীদের পরাজিত করে বসতি স্থাপন করে; এই উপজাতিগুলি একত্রিত হয়ে সেখানে তাদের একটি নিজস্ব সমাজ গড়ে তোলে। মিজোরা তাদের ৩০০ জন বংশগত মুখ্য নেতাদের উপর ভিত্তি করে একটি স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের উত্থাপন করে। ১৮২৬ সালে ইয়ান্দাবো-র চুক্তির অধীনে আসাম ব্রিটিশ শাসনের সংযুক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত মিজোরাম উপজাতিরা কিন্তু কোনও বিদেশী রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত ছিল না। পরবর্তী দশকে মিজোরা ব্রিটিশ অঞ্চলের মধ্যে অভিযান শুরু করার কারণে, ব্রিটীশরাও তাদের উপর শাস্তিমূলক আক্রমণ চালায়। ১৮৯০ সালের শুরু পর্যন্ত আনুষ্ঠনিকভাবে মিজোরাম ব্রিটিশদের দখলে সংযুক্ত না হলেও, এই অঞ্চলটি দুই দশক আগেই তাদের নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছিল।

সমাজ ও সংস্কৃতি

মিজোরা বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত ছিল যেমন- লূশাই, পাওয়ই, পৈতে, রালতে, পাঁগ, হিমার, কূকি ইত্যাদি। মূলত উপজাতি গ্রামগুলির উপর ভিত্তি করে সমাজ গড়ে উঠেছিল। প্রধানের গৃহ এবং জওয়ালবাক (যুবক, অবিবাহিত পুরুষদের জন্য নির্মিত সম্প্রদায় ভবন) হল গ্রাম্য জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। মিজো এবং ইংরাজী হল এখানকার সরকারি ভাষা। মিজোরামের সাক্ষরতার হার হল প্রায় ৯২ শতাংশ, যা ভারতের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ। এখানে মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত; যাদের অধিকাংশই ঊনবিংশ শতাব্দীর সময়কালে মিশনারীদের দ্বারা পরিবর্তিত প্রোটেস্ট্যান্ট হয়েছিল। এখানে কিছু সংখ্যালঘু মুসলিম, বৌদ্ধ এবং হিন্দু সম্প্রদায় রয়েছে। চাকমা যাযাবরেরা হিন্দু, বৌদ্ধ এবং সর্বপ্রাণবাদী (প্রকৃতি দেবদেবীর উপাসনা এবং অন্যান্য রীতিনীতি)-ধর্মের মিশ্রনকে অনুশীলন করে।

মিজোরামের সরকার

রাজনৈতিক বিষয়ে আগ্রহী মানুষদের জন্য, মিজোরাম সরকারের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত অধ্যয়ন খুবই রুচিময় হতে পারে। অন্যান্য ভারতীয় রাজ্যগুলির ন্যায়, মিজোরাম সরকারেরও প্রধান ব্যাক্তি হলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইনি মন্ত্রী পরিষদের নেতৃত্বে থাকেন যিনি নির্বাচিত বিধায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত। মিজোরামের রাজ্যপাল হলেন এই রাজ্যের সর্বপ্রধান ব্যাক্তি। মিজোরামের বিধানসভা পরিষদে ৪০ জন সদস্য রয়েছেন। তারা প্রত্যেকে প্রতি পাঁচ বছরে রাজ্যের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হন। মিজোরামের উচ্চ আদালতটি গুয়াহাটি-তে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী, আইজল-এ, মিজোরাম উচ্চ আদালতের একটি ন্যায়াসন রয়েছে।

অর্থনীতি ও পরিকাঠামো

মিজোরামের জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ কৃষি থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। ধাপ ও ঝুম (যা জমির কোন অংশ জ্বালিয়ে মিশ্র ফসল রোপণ করা হয়)- উভয় প্রকার চাষই এখানে হয়। বিশাল সংখ্যক মানুষ কৃষিতে নিযুক্ত হওয়ার দরুণ ঐতিহ্যগত আট-বছরের ঝুম চাষের চক্র অনেক কমে গেছে। অর্থাৎ সঙ্গত কারণেই এখানে উৎপাদনও অনেক কমে গেছে।

মিজোরাম, এখানে উৎপাদিত তন্ত্তু-বিহীন আদার জন্য বিখ্যাত। ধান, ভূট্টা, সরিষা, আখ, তিল এবং আলু হল এই এলাকায় উৎপাদিত প্রধান ফসল। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখানে কিছু ক্ষুদ্র-মাপের সেচ প্রকল্প করা হয়েছে।

রাজ্যে বড়রকমের প্রধান শিল্প কিছু গড়ে ওঠেনি। এখানে ছোট-মাপের কিছু শিল্প রয়েছে যেমন- রেশম, তাঁত ও হস্তশিল্প, কাঠ কাটাই ও আসবাবপত্রের কর্মশালা, তৈল শোধন, শস্য গুদাম এবং আদা উৎপাদন প্র্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদি।

মিজোরামের হোটেল

মিজোরামে ঘুরতে আসা পর্যটকদের খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য এই রাজ্যে বিভিন্ন তারকা এবং অ-তারকা হোটেল রয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রিসর্ট, রেস্তোঁরা এবং ক্যাফে রয়েছে যেগুলি ভ্রমণার্থীদের সমস্ত রকমের চাহিদা পূরণ করে। মিজোরাম হল উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সাতটি ভগিনী রাজ্য’-এর মধ্যে একটি। রাজ্যটিকে মিজো সম্প্রদায়ের একটি অঞ্চল হিসাবে গণ্য করা হয় যা লুশাই, হমার, লাই, পৈতে, গাঙ্গতে, মারা এবং অন্যান্য কিছু সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত। ভারতীয় রাজ্য আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুরের সঙ্গে মিজোরাম রাজ্যের একই সাধারণ সীমা রয়েছে। বার্মা (মায়ানমার) ও বাংলাদেশের সঙ্গে এর আন্তর্জাতিক সীমা রয়েছে। ১৯৮৭ সালের ২০-শে ফেব্রুয়ারী, এটি দেশের ২৩-তম রাজ্য হিসাবে পূর্ণ রাজ্যের মর্য্যাদা অর্জন করে।

রাজধানী

ভারতীয় রাজ্য মিজোরামের রাজধানী হল আইজল এবং সেইসঙ্গে এটি রাজ্যের বৃহত্তম শহর।

আয়তন

রাজ্যটি প্রায় ৮,১৩৯ বর্গ মাইল বা ২১,০৮১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্হিত।

জনসংখ্যা

২০১১ সালের সম্পাদিত জনগণনা অনুযায়ী, রাজ্যের জনসংখ্যা হল প্রায় ১০,৯৭,২০৬ জন।

আবহাওয়া

মিজোরাম রাজ্যের আবহাওয়া মনোরম প্রকৃতির। গ্রীষ্মকালে এখানকার তাপমাত্রা আরামদায়ক থাকে এবং তাপমাত্রার পরিমাণ ৬৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে ৮৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ২০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে ২৯ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড-এর মধ্যে থাকে। শীতকালে, এখানকার আবহাওয়া খুব একটা শীতল হয় না এবং তাপমাত্রার পরিমাণ ৫২ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে ৭০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ১১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে ২১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড-এর মধ্যে থাকে। রাজ্যের জলবায়ু মুষলাধার বৃষ্টির দরুণ নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই অঞ্চলে মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বেশী পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। শীতের মাসগুলিতে এখানে খুবই কম পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। মিজোরামের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হল প্রায় ১০০ ইঞ্চি বা ২৫৪ সেন্টিমিটার। আইজল শহরে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হল প্রায় ৮২ ইঞ্চি বা ২০৮ সেন্টিমিটার। রাজ্যের অন্য আরোও একটি বৃহৎ স্থান লুঙ্গলেই-তে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হল প্রায় ১৩৮ ইঞ্চি বা ৩৫০ সেন্টিমিটার।

মিজোরামের নদীসমূহ

রাজ্যের দীর্ঘতম নদীটির নাম হল ছিমতুইপুই এবং এই নদীটির অন্য আরেক নাম হল কালাডান। এই নদীটি মায়ানমারের চিন রাজ্যে উৎপত্তি হয়ে রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্তের লঙ্গৎলাই ও সইহা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরবর্তীকালে এটি মায়ানমারের রাখিনে প্রদেশের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়ে অবশেষে মায়ানমারের শিত্তে-তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অকিয়াব-এর পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। রাজ্যের পার্বত্য এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদীগুলি থাকা সত্ত্বেও মিজোরাম রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক নদীগুলি হল নিম্নরূপঃ-

  • তূত
  • ত্লায়াং
  • তুইভাওয়ল
  • তুইরিয়াল

এই নদীগুলি রাজ্যের উত্তরাংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং অবশেষে বরাক নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে, যা কাছার জেলার এক গুরুত্বপূর্ণ নদী।

রাজ্যের দক্ষিণাংশের প্রধান নদী ছিমতুইপুই-এর উৎপত্তিস্থল হল মায়ানমার। এই নদীটির চারটি শাখা রয়েছে এবং অনিয়মিত আকারে প্রবাহিত হয়েছে। রাজ্যের পশ্চিম অংশটি খাওয়াথলাং তুইপুই নদী ও তার শাখাগুলি দ্বারা সেচিত হয়। বিভিন্ন শহরাঞ্চল যেমন বাংলাদেশের চিটাগাঁও এই প্রবাহের মুখেই অবস্থিত। স্বাধীনতা অর্জনের পূর্বে, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলগুলিতে কেবলমাত্র নদীপথের মাধ্যমে দক্ষিণে চিটাগাঁও এবং উত্তরে কাছার হয়ে পৌঁছানো যেত। পরবর্তীকালে, যখন সেটি বিভাজিত করে উপমহাদেশ ও পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) তৈরি করা হয় তখন এই প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

মিজোরামের হ্রদ-সমূহ

রাজ্যের সর্ব বৃহৎ হ্রদ পালাক হ্রদ সইহা জেলায় অবস্থিত। ভারতের মিজোরামের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সইহা জেলা। পালাক হ্রদটি প্রায় ৭৪ একর বা ৩০ হেক্টর এলাকা জুড়ে পরিব্যাপ্ত রয়েছে। রাজ্যের অন্য আরেকটি জনপ্রিয় হ্রদ হল তামডিল হ্রদ যা একটি প্রাকৃতিক হ্রদ। এটি আইজল থেকে প্রায় ৫৩ মাইল বা ৮৫ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত। দুর্ভাগ্যবশত, মিজোরাম রাজ্যটি একটি অত্যন্ত ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা এবং এটি পঞ্চম অঞ্চলের অধীনে পড়ে। এই অঞ্চলে প্রাপ্ত বিভিন্ন খনিজ পদার্থগুলি হলঃ-

  • বালি ও মাটিযুক্ত বেলেপাথর
  • পলিপাথর
  • শেল
  • গ্রেওয়েক
  • কাদাপাথর

রাজ্যে পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ খুবই তৎপরতার সাথে চলছে।

মিজোরামের জনসংখ্যা

রাজ্যের অধিকাংশ মানুষই ভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় থেকে উঠে এসেছে যারা জাতিগত বা ভাষাগত দিক দিয়ে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এই গোষ্ঠী এবং উপজাতিগুলিকে যৌথভাবে মিজো হিসাবে নামকরণ করা হয় যেখানে ‘মি’ শব্দটির অর্থ মানুষ এবং ‘জো’ শব্দটির অর্থ হল পর্বত। মিজোরাম ছাড়াও, এই অধিবাসীরা বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং ভারতের অন্যান্য উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতেও বসবাস করে। মিজো উপজাতিগুলি লুশলেই, হমার, লাই, পৈথে এবং মারা-দের নিয়ে গঠিত। হমার মানুষেরা আবার বিভিন্ন গোষ্ঠীতে উপবিভক্ত রয়েছে যেমন লুঙ্গতাউ, থিয়েক, খাওবাঙ্গ, দাঁরগাঁও এবং জোত।

জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক উৎসব

  • ভারতের, মিজোরামের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক উৎসবগুলি হল নিম্নরূপঃ-
  • ১. মিম কূট
    এই মিম কূট উৎসবটি সাধরণত ভূট্টা চাষের পর, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে পালন করা হয়। লোকেরা এই উৎসব পালন করে নৃত্য, সঙ্গীত, খানা-পিনা ইত্যাদির মাধ্যমে।

    ২. পোওয়াল কূট
    পোওয়াল কূট উৎসবটি ফসল কাটার উৎসবকে বোঝায় যেখানে পোওয়াল শব্দটির অর্থ খড়। এই উৎসবটি সাধরণত প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়।

    ৩. চপচার কূট
    চপচার কূট আরোও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব যেটি মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়, এবং এটি তাদের সবচেয়ে কঠিন কাজ ঝুম চাষের ব্যাবস্থাপনার পরে অনুষ্ঠিত হয়- এটি হল জঙ্গল পরিষ্কার করা (জ্বালানির উচ্ছিষ্ট অপসারণ)।

    মিজোরামের জনপ্রিয় নৃত্য শৈলী

    রাজ্যের জনপ্রিয় নৃত্য শৈলীগুলি হল নিম্নরূপঃ

    • চেরৌ – রাজ্যের সবচেয়ে অনন্য ও স্পন্দনশীল নৃত্য।
    • ছেই লাম
    • খুল্লাম

    মিজোরামের কথ্য ভাষা

    রাজ্যের সরকারি ভাষা হল মিজো। যদিও শিক্ষা ও সরকারি কাজকর্মে ইংরাজী ভাষারও ব্যাপক প্রচলন আছে। মিজো ভাষার সঙ্গে অন্যান্য ভাষার মিশ্রণ রয়েছে যেমন লাই, মারা এবং হমার।

    মিজোরামের প্রধান ধর্মসমূহ

    রাজ্যের অধিকাংশ মানুষই খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত। রাজ্যে প্রচুর গির্জা রয়েছে এবং সেগুলির মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হল নিম্নরূপঃ

    • ব্যাপটিস্ট চার্চ অফ মিজোরাম
    • মিজোরাম প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ
    • দ্য স্যালভেশন আর্মি
    • ইউনাইটেড পেন্টেকোস্টাল চার্চ
    • কোহরান থিয়াংঘলিম
    • দ্য সেভেন্ত-ডে এডভেনটিস্ট চার্চ
    • লৈরাম জেসাস ক্রাইষ্ট ব্যাপটিস্ট চার্চ (এল.আই.কে.বি.কে)
    • রোমান ক্যাথলিক
    • ইন্ডিপেনডেন্ট চার্চ অফ ইন্ডিয়া (আই.সি.আই)
    • ইভাঙ্গজেলিক্যাল চার্চ অফ মারাল্যান্ড
    • ইভাঙ্গজেলিক্যাল চার্চ অফ ইন্ডিয়া (ই.এফ.সি.আই)

    কিছু সংখ্যালঘু মানুষ ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ ও ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে।

    শিক্ষা

    মিজোরামের শিক্ষা ব্যবস্হায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষন থেকে প্রযুক্তিগত দিক পর্যন্ত রয়েছে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই রাজ্যটি দেশের সর্ব্বোচ্চ সাক্ষরতা হিসাবে ৯১.৫৮ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখানে প্রায় ৩৯০০টি বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলি হয় ব্যক্তিগত মালিকানাধীনে নয়তো বা পূর্ণ বা আংশিকভাবে সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রালয় রাজ্যের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দেখভাল করেন। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়, মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ তথা দুটি পেশাদারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাজ্যের বেশ কিছু জনপ্রিয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হল ইকফাই (আই.সি.এফ.এ.আই) বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলোজি মিজোরাম এবং আইজল-এ অবস্থিত রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ প্যারামেডিক্যাল আ্যন্ড নার্সিং।

    পরিবহন

    অপর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে এই রাজ্যে সহজে পৌঁছানো যায় না। রাজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা সংকীর্ণ পর্বত দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ায়, সড়ক নির্মাণ করা কর্তৃপক্ষের কাছে এক কঠিন ও দুঃসাধ্য কাজ। এই রাজ্যে প্রায় ৮,৫০০ কিলোমিটার ভালো সড়ক সংযোগ রয়েছে যেগুলি জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকাই জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং জেলা সড়ক ঘিরে রয়েছে। রাজধানী শহর আইজলের নিকটবর্তী, লেঙ্গপেই বিমানবন্দর রয়েছে যেটি কলকাতা বিমানবন্দরের সাথে যুক্ত রয়েছে। এটি আইজল থেকে ২০০ কিলোমটার দূরে অবস্থিত আসামের শিলচর বিমানবন্দরের সাথেও যুক্ত রয়েছে। রাজ্যের নিকটতম রেলস্টেশনও হল আসামের শিলচর যা এই রাজ্যের রাজধানী থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে একটি হেলিকোপ্টার পরিষেবাও রয়েছে যার মাধ্যমে রাজধানী শহরটি অন্যান্য রাজ্যের শহরগুলির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যেমন লুঙ্গলেই, সেরছিপ, কোলসিব, হাঁথিয়াল, ছাঙ্গতে ইত্যাদি।

    * সর্বশেষ সংযোজন : ১৩-ই ফেব্রুয়ারী , ২০১৫