free_shipping_English_728x90

তামিলনাড়ু মানচিত্র

Store-banner

Tamilnadu Map in Bengali

তামিলনাড়ু মানচিত্র
* প্রধান সড়ক, রেলপথ, নদী, জাতীয় সড়ক ইত্যাদি সহ তামিলনাড়ুর মানচিত্র৷

তামিলনাড়ুর উপর তথ্যাবলী

আধিকারিক ওয়েবসাইট www.tn.gov.in
স্থাপনের তারিখ 26 জানুয়ারি, 1950
আয়তন 130,058 বর্গ কিলোমিটার
ঘনত্ব 555/ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা(2011) 72,147,030
পুরুষ জনসংখ্যা(2011) 36,137,975
মহিলা জনসংখ্যা(2011) 36,009,055
জেলার সংখ্যা 32
রাজধানী চেন্নাই
নদীসমূহ কাবেরী, থামিরাবরনি, ভইগই, চিত্তর, মণিমুথার ইত্যাদি।
অরণ্য ও জাতীয় উদ্যান মুদুমালাই জাতীয় উদ্যান, মুকুর্থি জাতীয় উদ্যান, আন্নামালাই জাতীয় উদ্যান, ইন্দিরা গান্ধি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জাতীয় উদ্যান
ভাষা তামিল, তেলেগু, মালায়ালম, কন্নড়, উর্দূ, ইংরাজী
প্রতিবেশী রাজ্য কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ
রাষ্ট্রীয় পশু নীলগিরি তহর
রাষ্ট্রীয় পাখি রাজ ঘুঘু
রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ তাল গাছ
রাষ্ট্রীয় ফুল গ্লোরি লিলি
রাজ্যের অভ্যন্তরীণ মূল উৎপাদন (2011) 72993
সাক্ষরতার হার (2011) 69.72%
প্রতি 1000 জন পুরুষে মহিলার সংখ্যা 995
বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র 234
সংসদীয় নির্বাচনক্ষেত্র 39

তামিলনাড়ু সম্পর্কে

দেশের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত, তামিলনাড়ু ভারতের সবচেয়ে সুপরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মধ্যে একটি। অন্ধ্রপ্রদেশ উত্তর দিকের সীমানা রূপে অবস্থান করছে, অন্যদিকে এর উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম অংশে যথাক্রমে কর্ণাটক ও কেরালা আচ্ছাদিত রয়েছে। রাজ্যের দক্ষিণ ও পূর্বদিকে যথাক্রমে ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর নামে এই দুটি জলাশয় রাজ্যটিকে ঘিরে রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, জ্যামিতিকগত দিক দিয়ে, তামিলনাড়ু ভারতীয় উপদ্বীপের সুদর দক্ষিণ প্রান্তকে স্পর্শ করে আছে। রাজ্যের মোট আয়তন হল প্রায় ১,৩০,০৫৮ বর্গ কিলোমিটার। তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই, যা পূর্বে মাদ্রাজ নামে পরিচিত ছিল, মোট ১৭৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনসহ ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম শহর হিসাবে সুপরিচিত। অসংখ্য নারিকেল গাছ, মহিমাম্বিত মন্দির, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সহ সুন্দর উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থিত তামিলনাড়ু, পর্যটকদের কাছে একটি প্রিয় গন্তব্যস্থল হিসাবে গড়ে উঠেছে।

তামিলনাড়ুর ইতিহাস

মূলত তামিলহাম হিসাবে পরিচিত, তামিলনাড়ুর ৬,০০০ বছরের পুরনো প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে এবং এটি দ্রাবিড়-দের উৎস স্হল মনে করা হয়। ঐতিহাসিকবিদেরা প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক এই তিনটি পৃথক বিভাজনের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর ইতিহাসকে বিভক্ত করেছেন। সবচেয়ে প্রাচীনতম সভ্যতা হওয়ার দরুণ, কেউ কেউ মনে করেন যে উত্তরদিকে আর্যদের উপস্থিতির কারণে দ্রাবিড়-রা(তামিল)দক্ষিণদিকে সরে আসে ও সেখানে বসবাস করতে শুরু করে। এই রাজ্য চোল, পল্লব, পাণ্ডব থেকে শুরু করে অন্যান্য বেশ কিছু রাজবংশের দ্বারা শাসিত হয়। তাদের প্রসিদ্ধ ইতিহাস প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ধারার অধীনে পড়ে। চতুর্থ শতাব্দীর সময়কালে বেশ কিছু বছর ধরে রাজত্ব করে এবং সমসাময়িক বেশ কিছু রাজাদের সঙ্গে আক্রমণ ও যুদ্ধের পর নবম শতাব্দীতে চোল রাজারা তাদের আধিপত্য পুনুরুদ্ধার করে। কিন্তু চতুর্দশ শতাব্দীতে তারা মুসলিম সুলতানদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং মুসলিম সুলতানরা বিভিন্ন আক্রমণের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের প্রধান অংশগুলি দখল করে নেয়।

সরকার ও রাষ্ট্রনীতি

রাজনীতির বিষয়ে তামিলনাড়ু বেশ সক্রিয় এবং রাজ্যপাল ও অন্যান্য মন্ত্রী সহ রাজ্যটি মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত হয়। রাজ্যের বিভিন্ন পরিচালনার কাজে দেশের প্রায় সবকটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। এগুলি ছাড়াও, এখানে বেশ কিছু আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলও রয়েছে যারা রাজ্যের অভ্যন্তরে খুব নমনীয়তার সাথে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। যদিও, এতে রাজ্যর সামগ্রিক রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বেশ জটিল ও আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে। এটি খুবই স্পন্দনশীল এবং বৈচিত্র্যময় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি দেশের কেন্দ্রীয় রাজনীতিকেও বেশ ভালোও রকম প্রভাবিত করে। তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি বিধানসভা সমাবেশ এবং প্রায় ৪০টি লোকসভা সমাবেশ রয়েছে। কংগ্রেস ও বিজেপি-র ন্যায় জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির শক্তিশালী উপস্থিতি এবং প্রভাবের দরুন, রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থান

তামিলনাড়ু রাজ্যটি ভূমিগত ভাবে উত্তরদিকে কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমদিকে কেরালা দ্বারা বেষ্টিত, অন্যদিকে জলাশয় হিসাবে দক্ষিণ ও পূর্বদিকে যথাক্রমে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত। সুদূর উত্তরে রয়েছে পূলিকট হ্রদ এবং এর দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে কন্যাকুমারী বা কেপ কমোরিন। তামিলনাড়ুর পশ্চিম সীমায় মুদুমালাই এবং পূর্ব সীমায় ক্যালিমেয়ার পয়েন্ট। পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা রাজ্যের সীমানা বরাবর চলতে চলতে নীলগিরি পর্বতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এখানে তিনটি প্রধান অঞ্চলে রয়েছে যা নিয়ে রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান গঠিত: পার্বত্য অঞ্চল বা কূরিঞ্জি, শুষ্ক অঞ্চল বা পালাই এবং অরণ্য অঞ্চল বা মূল্লাই, উপকূলীয় অঞ্চল বা নৈঢাল এবং উর্বর সমভূমি বা মারুধাম। কর্ণাটক রাজ্য থেকে উৎপন্ন কাবেরী নদী তামিলনাড়ুর মধ্যে প্রবেশ করে রাজ্যের জীবনরেখা হিসাবে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীটিই এখানে ঘন উর্বর করমন্ডল সমভূমি গঠনের মূলে রয়েছে এবং এটি তাঞ্জাভুর ও নাগপত্তিনমে ব-দ্বীপ গঠন করেছে।

তামিলনাড়ুর জলবায়ু

তামিলনাড়ু বর্ষার বৃষ্টিপাতের উপর তীব্ররূপে নির্ভরশীল, তাই এখানে কখনও কখনও বৃষ্টি না হলে বা বর্ষা ব্যর্থ হলে এই রাজ্যকে খরার সম্মুখীন হতে হয়। এখানকার জলবায়ু শুষ্ক উপ-আর্দ্রীয় থেকে আধা-শুষ্ক পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়। তামিলনাড়ুতে বৃষ্টিপাতের তিনটি স্বতন্ত্র সময় রয়েছে যেমন জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম বায়ুপ্রবাহের দরুণ দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ষাকাল; অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব বায়ুপ্রবাহের দরুণ উত্তর-পূর্ব বর্ষাকাল এবং জানুয়ারী মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত এখনে শুষ্ক আবহাওয়া অনুভূত হয়। রাজ্যের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হল প্রায় ৯৪৫ মিলিমিটার (৩৭.২’’), যার মধ্যে ৩২ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমী বর্ষা ও ৪৮ শতাংশ উত্তর-পূর্ব বর্ষার দরুণ প্রাপ্ত হয়। রাজ্যটিকে ৭টি কৃষিভিত্তিক-জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারেঃ উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণী, পশ্চিমী, উচ্চতর পার্বত্য, অধিক বৃষ্টিপাত এবং কাবেরী ব-দ্বীপ।

জনসংখ্যা

২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, পুরুষ ও মহিলার ঠিকঠাক অনুপাত সহ তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা প্রায় ৭,২১,৪৭,০৩০ জন। জাতীয় পর্যায়ের হিসাবে উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির হার ১৫.৬ শতাংশ সহ সীমার মধ্যেই রয়েছে। তামিল সমাজের একটি প্রধান অংশ হিন্দুরা দখল করে আছে এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশই হল সামাজিক ও ধার্মিক বিশ্বাস সহ গোঁড়া ব্রাহ্মণ। এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আধুনিক ও মধ্যযুগীয় হিন্দুদের এক উপযু্ক্ত মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায় যাদের মধ্যে হিন্দুত্বের সমস্ত কিছু প্রচলিত রয়েছে। মুসলিম বা খ্রীস্টানরা পরস্পর একটি শালীন অনুপাত সহ জনসংখ্যার পরবর্তী বিভাগ গঠন করে রয়েছে, কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের তুলনায় তা নেহাতই কম। রাজধানী এবং এই রাজ্যের প্রধান শহরগুলিতে নির্মিত অনেক মসজিদ ও গির্জাগুলি থেকে প্রমাণিত হয় যে এই ধর্মীয় সম্প্রদায় দুটি রাজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি যেমন বৌদ্ধ, শিখ ইত্যাদি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছেন যারা এই তামিল সমাজের এক বিশিষ্ট অংশ জুড়ে আছেন। তামিল জৈন বা সমানার, এরা রাজ্যের সাহিত্য ও স্থাপত্যে এক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। পাশাপাশি এই রাজ্যে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতিও রয়েছে এবং তারা নিজেদেরকে হিন্দু বলে পরিচয় দেয়। যদিও, আদমশুমারি অনুযায়ী, তাদেরকে হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

সমাজ, শিল্প ও সংস্কৃতি

তামিলনাড়ুর মানুষেরা এক সুন্দর, আরামপ্রদ জীবনযাপন করে। তামিলদের সঙ্গীত, নৃত্য এবং সাহিত্যে গভীর আগ্রহ রয়েছে। সহস্র শতাব্দী ধরে এখানকার বিভিন্ন নাট্য শৈলী যেমন ভারতনাট্যম এবং সঙ্গীতের বিভিন্ন ধরন যেমন কর্ণাটকী সঙ্গীত সুপ্রসিদ্ধ। উৎসব এই অঞ্চলের এক দৈনন্দিন বৈশিষ্ট্য। এগুলির মধ্যে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত দশেরা, অক্টোবর/নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত দীপাবলি, নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কার্ত্তিকা এবং জানুয়রীতে অনুষ্ঠিত পোঙ্গল বিশেষ জনপ্রিয়। বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও কবি ত্যাগরাজ-এর জন্মস্থান তিরুভিয়ারে প্রতি বছর জানুয়ারী মাসে কর্ণাটক সঙ্গীতের এক অনন্য উৎসব ত্যাগরাজ উৎসব আয়োজিত হয়, এতে যে কেউ বিভিন্ন তাল ও লয়ের সংযোগে এক সংঘবদ্ধ কার্যকলাপের আশ্চর্য্যজনক প্রতিভার সাক্ষী হতে পারেন। এখানকার হস্তশিল্পে কাঠ, পাথর এবং ধাতুর খোদাইয়ের কারুকার্যই বেশি নজর কাড়ে। নিদারুণ খোদাইয়ের কারুকার্যময় কাঁসা ও পিতলের থালাও উল্লেখযোগ্য।

ভাষা

তামিল এই রাজ্যের আধিকারিক এবং সবচেয়ে প্রচলিত কথ্য ভাষা হিসাবে পরিচিত। এটি দেশের শাস্ত্রীয় ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করা প্রথম ভাষা। এছাড়াও, এখানকার বাসিন্দাদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচলিত অন্যান্য আরোও বেশ কিছু দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাগুলি হল তেলেগু, কন্নড় এবং মালায়ালম। রাজ্যের কিছু কিছু স্বতন্ত্র জায়গায় স্থানীয় ভাষা হিসাবে এই ভাষাগুলির প্রতিপত্তি রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, কর্ণাটকের নিকটবর্তী, রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম অংশের অধিবাসীরা, তামিল ভাষার তুলনায় কন্নড় ভাষায় কথা বলতে বেশি পছন্দ করে। সালেম হল এখানকার এমন একটি জেলা যেখানকার মানুষ সবচেয়ে বেশি কন্নড় ভাষায় কথা বলে। ঠিক তেমন ভাবেই, কেরালার সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকার অধিবাসীরা যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে মালায়ালম ভাষা ব্যবহার করে। রাজ্যের একটি প্রধান অংশ দখল করে থাকা তামিল মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে উর্দূ ভাষায় কথা বলে। স্থানীয় খ্রীস্টান অধিবাসীরা সর্বজন-গৃহীত ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করেন। অপরিমেয় শিল্পায়ন ও উন্নতি সহ তামিলনাড়ু একটি বৈচিত্র্যময় রাজ্য, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বসতি স্থাপণ করেছে। অতঃপর, অন্যান্য আরোও কিছু অ-দক্ষিণ ভারতীয় ভাষারও প্রচলন রয়েছে যেমন হিন্দি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি এবং মারাঠী যা বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীগুলি তাদের নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে। আশ্চর্য্যজনকভাবে, অধিকাংশ শিক্ষিত তামিল ব্যাক্তিরা, তাদের নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ইংরাজী ভাষায় কথা বলতে বেশি পছন্দ করেন।

তামিলনাড়ুর উৎসব

তামিলনাড়ু রাজ্যে দ্রাবিড় সংস্কৃতির উৎপত্তি বলা যেতে পারে। এই রাজ্যের সমস্ত মন্দির ও মিনারগুলি হল দ্রাবিড় স্থাপত্যের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এটি ভারতের ভাষা, শিল্প ও সঙ্গীতে এক অমূল্য অবদান রেখেছে। ভারতীয় নৃত্য শৈলীর বিখ্যাত ভারতনাট্যম নৃত্যের উৎপত্তি এখানেই। তামিলনাড়ুতে সারা বছর ধরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মেলা ও উৎসবগুলি খুবই প্রসিদ্ধ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ এই মেলা ও উৎসবগুলি দেখার জন্য এখানে ভিড় করে। রাজ্যের সমস্ত উৎসব-অনুষ্ঠান ও মেলাগুলি চরম ধূমধাম ও উৎসাহের সাথে পালিত হয়।

শিক্ষা

তামিলনাড়ু, সেইসব ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে একটি রাজ্য যার দেশের মধ্যে সাক্ষরতার হার সর্বোচ্চ। এই রাজ্যের প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষায় ১০০ শতাংশ জি.ই.আর রয়েছে। এই রাজ্যে হাজারেরও বেশি বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলি সি.বি.এস.ই, আই.সি.এস.ই বা তামিলনাড়ু রাজ্য পর্ষদ দ্বারা অনুমোদিত। এখানে প্রতিটি শিশুদের সম্ভাব্য সেরা মৌলিক শিক্ষা প্রদানের জন্য বিদ্যালয়গুলি সরকার বা বেসরকারি সংস্থা দ্বারা নিরন্তর পরিচালিত হয়। বেশিরভাগ সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে তামিল ভাষার ব্যবহার করা হয়, অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ইংরাজী ভাষাকেই বেছে নেওয়া হয়। দরিদ্র সীমার নীচে বসবসকারী শিশুদেরকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষা দেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্ভাবনী যোজনা চালু করেছেন, যেমন শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্ন ভোজন(মিড ডে মিল), কমপিউটার প্রশিক্ষণ, শিশু বালিকা শিক্ষা, বিনামূল্যে বই-খাতা, বিদ্যালয়ের জন্য পোশাক, ভ্রমণ ইত্যদি প্রদানের ব্যাবস্থা চালু করা হয়েছে। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, এছাড়াও যারা উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে তাদের জীবনের অনেক উচুঁতে ওঠার স্বপ্ন দেখে তাদের জন্য এখানে ৪৮০টি ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজ, ৫০০০ মেডিক্যাল কলেজ, ১১০০ আর্টস কলেজ রয়েছে। টিএনডিটিই উৎসাহি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রকার ডিপ্লোমা, ডিগ্রী, পি.জি এবং পাশাপাশি গবেষণা বিষয়ক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে।

অর্থনীতি ও পরিকাঠামো

তামিলনাড়ু প্রগতিশীল, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য একটি অর্থনীতির খুব উজ্জ্বল দৃশ্য প্রদর্শণ করে। এখানে উন্নয়নশীল শিল্প, উন্নত কাঠামোগত কৃষিজ অংশ, ব্যাংক ও আর্থিক বিষয়ে ভাল সমর্থন রয়েছে যা পুরোপুরি একটি সম্পূর্ণ রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উন্নতিতে সাহায্য করেছে। দেশের বাকিদের সাথে এই রাজ্য সুসংযুক্ত হওয়ায়, পরিবহনের দিক দিয়ে কোনো সমস্যা না থাকায় মানুষের উন্নতির লক্ষ্যে এখানে প্রচুর শিল্প গড়ে উঠেছে। পাওয়ার ও শক্তির ব্যাপক সংরক্ষণের দরুণ এই রাজ্যটি ভারতের একমাত্র রাজ্য যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন অতিরিক্ত। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত হওয়ার কারণে তামিলনাড়ু দেশের এক বৃহত্তম শিল্পায়ন রাজ্য হিসাবে গড়ে উঠেছে।

পর্যটন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আশীর্বাদিত, তামিলনাড়ু সমস্ত দিক থেকে ভ্রমণার্থীদের আনন্দিত করে। নিদারুণ সৈকত, মহিমাম্বিত মন্দির, বিভিন্ন ঐতিহাসিক মিনার, উত্তেজনাপূর্ণ জলপ্রপাত, সামগ্রিক দৃশ্যপট এবং প্রকৃতির চিত্র অনুরাগী দৃশ্য-পর্যটকদের কাছে তামিলনাড়ুকে এক আদর্শ স্থান রূপে গড়ে তুলেছে। রাজধানী চেন্নাই, প্রাচীন এবং আধুনিক সংস্কৃতির একটি নিখুঁত মিশ্রন। কাঞ্চিপুরম, প্রায় সহস্র মন্দিরের তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি গন্তব্যস্হল হিসাবে গড়ে উঠেছে। এছাড়াও এটি পশমের শাড়ির জন্যও বিখ্যাত। পর্যটকদের খুবই জনপ্রিয় কয়েকটি স্থানের মধ্যে ইয়েলাগিরি, কোদাইকানাল এবং উটি হল উল্লেখযোগ্য শৈলশহর। পর্যটকেরা ভারতীয় উপ-দ্বীপের সবথেকে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কন্যাকুমারী-তে বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর এবং আরব সাগর, এই তিনটি সাগরের মিলনস্থল দেখতেও খুবই পছন্দ করে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্বর্গীয় দৃশ্যও সকলকে প্রলু্ব্ধ করে। রামেশ্বরম, মাদুরাই-য়ের মীণাক্ষী মন্দির, তিরুচিরাপল্লি, রামনাথস্বামী ইত্যাদির মতো বেশ কিছু স্থান রয়েছে যা দেখার জন্য ধর্মীয় ভ্রমণার্থীরা এখানে ভিড় করে। সুন্দর মারীনা সৈকত (এটি ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ হওয়ায়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সৈকত হিসাবে পরিচিত) এবং কোভালম সৈকতও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পরিবহন

নিজস্ব ভৌগোলিক অবস্থানের দরুণ, তামিলনাড়ু জনসাধারণ ও ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য উপযুক্ত ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে সক্ষম হয়েছে। জাতীয়, রাজ্য এবং গ্রামীণ সড়কগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং সংযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন ও রক্ষণাবক্ষনের যাবতীয় কাজ সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়। দক্ষিণ রেলপথের মাধ্যমে রাজ্যটি, দেশের বাকিদের সাথে সুসংযুক্ত রয়েছে। চেন্নাই বিমনবন্দর, বেশ কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিমানপথের কেন্দ্রস্থল হিসাবে গড়ে উঠেছে। সারা পৃথিবীর সাথে রাজ্যটির সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য এখানে অন্যান্য আরোও পাঁচটি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিমানবন্দর রয়েছে। তামিলনাড়ুতে জলপথও রয়েছে যার মাধ্যমে কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই মালপত্রের আমদানি ও রপ্তানী সম্ভব। শহরের অভ্যন্তরে, যাত্রীরা তামিলনাড়ু পরিবহন নিগমের উদ্যোগে বাস পরিষেবার দ্বারা সহজেই রাজ্যের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করে। চেন্নাই মেট্রো রেলও দৈনন্দিন যাত্রীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি করেছে। স্থানীয়দের জন্য, এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে ট্যাক্সি, অটো রিকশা, সাইকেল রিকশা এবং ব্যাক্তিগত গাড়ির ব্যবস্হাও রয়েছে।

* সর্বশেষ সংযোজন : ২৩- শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৫