free_shipping_English_728x90

নাগাল্যান্ড পর্যটন

Store-banner

Travel to Nagaland in Bengali

নাগাল্যান্ড পর্যটন
* নাগাল্যান্ড পর্যটন মানচিত্রে, নাগাল্যান্ডের অভয়ারণ্য, শহর, মিউজিয়াম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থানগুলি দেখানো হয়েছে।

নাগাল্যান্ড পর্যটন




শান্তি ও নির্মলতার জন্য নাগাল্যান্ড ভ্রমণ পর্যটন প্রেমীদের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। হিমালয়ের পাদদেশের অভ্যন্তরে প্রতিপালিত নাগাল্যান্ড ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এক সবচেয়ে সুন্দর রাজ্য। নাগাল্যান্ড পর্যটন বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যস্থল জুড়ে পর্যটকদের একটি বিস্ময়কর সফরের জন্য আহ্বান জানায়।


নাগাল্যান্ডের সংস্কৃতি কিংবদন্তী এবং ইতিহাসের একটি সংমিশ্রন। নাগাল্যান্ডে পর্যটকরা ভারতীয় নাগা সম্প্রদায়ের জাতিগত সংস্কৃতির একটি ঝলক পেতে পারেন। নাগাল্যান্ড ২৫ ডিগ্রী ০৬ মিনিট থেকে ২৭ ডিগ্রী ০৪ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট থেকে ৯৫ ডিগ্রী ১৫ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ১৬.৫২৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দ্বারা আচ্ছাদিত নাগাল্যান্ড একটি স্বাস্থ্যপ্রদ জলবায়ুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত। নাগাল্যাণ্ড পর্যটনের ক্ষেত্রে নাগাল্যাণ্ডের মনোরম জলবায়ুর ব্যাপক অবদান রয়েছে।


এই প্রসঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থলের একটি বিশেষ উল্লেখ দেওয়া হল –

  • শংগন্যু গ্রাম।
  • কোহিমা গ্রাম।
  • বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্র।
  • জাপফু চূড়া।



এছাড়াও নাগাল্যাণ্ড একটি উন্নত সড়ক ব্যবস্থা দ্বারা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সাথে সুসংযুক্ত। সড়ক যোগাযোগ ছাড়াও নাগাল্যাণ্ডে বিমানপথ ও রেলপথের একটি চমৎকার সংযোগ রয়েছে। নাগাল্যাণ্ডের নিজস্ব বিমানবন্দর রয়েছে ডিমাপুরে যা ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন গন্তব্যের সাথে নিয়মিত বিমান দ্বারা সংযুক্ত। এছাড়াও নাগাল্যান্ডের রেল স্টেশন ডিমাপুরে অবস্থিত। ডিমাপুরের মধ্যে রেলপথ গুয়াহাটির সঙ্গে সংযুক্ত যা ভারতের সকল প্রধান শহরের সাথে সংযুক্ত।

নাগাল্যাণ্ডের জনপরিসংখ্যান
অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বের শেষপ্রান্ত,

পূর্বে মায়ানমার, পশ্চিমে আসাম;

উত্তরে অরুণাচল প্রদেশ ও আসাম, দক্ষিণে মনিপুর
অক্ষাংশ 25 ডিগ্রী 06 মিনিট এবং 27 ডিগ্রী 04 মিনিট উত্তরের মধ্যে
দ্রাঘিমাংশ 93 ডিগ্রী 20 মিনিট এবং 95 ডিগ্রী 15 মিনিট পূর্বের মধ্যে
আয়তন 16,527 বর্গ কিলোমিটার
জলবায়ু গ্রীষ্মকাল – গরম, শীতকাল – ঠান্ডা
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 31 ডিগ্রী সেলসিয়াস
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 4 ডিগ্রী সেলসিয়াস
বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 200 সেন্টিমিটার
রাজধানী কোহিমা
জনসংখ্যা 19,88,636
ভাষা অঙ্গমি, আও, চাখেসাং, চ্যাং, খিয়ামনুজ্ঞন, কুকি, ইংরেজি
ধর্ম খ্রীষ্টান এবং আদিবাসী
পরিদর্শনের সেরা সময় অক্টোবর থেকে মে
পরিধান গ্রীষ্মকালে – ক্রান্তীয়, শীতকালে – পশমী

নাগাল্যান্ড পৌঁছানোর উপায়




নাগাল্যাণ্ড আসতে ইচ্ছুক পর্যটকরা কিভাবে এখানে পৌঁছবেন সেটা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে, এটা উল্লিখিত যে নাগাল্যাণ্ড পরিবহনের একটি চমৎকার মাধ্যম দ্বারা সংযুক্ত। যদিও নাগাল্যাণ্ড হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত, তবে নাগাল্যান্ডে ভ্রমণ সমতলভূমিতে ভ্রমণ করার মতই সহজ।


বস্তুত, নাগাল্যান্ডের বিমানপথ, রেলপথ এবং সড়কপথ এই অঞ্চলে একটি অতুলনীয় পরিষেবা প্রদানের জন্য সুপরিচিত। নাগাল্যাণ্ড পর্যটন একটি উত্তম ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের সুবিধাযুক্ত। নাগাল্যাণ্ডের নিজস্ব বিমানবন্দর ডিমাপুরে রয়েছে যা কোহিমা থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ডিমাপুর বিমানবন্দর ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন গন্তব্যের সাথে নিয়মিত বিমান দ্বারা সংযুক্ত। ভারতীয় বিমানসংস্থা (ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স) এই অঞ্চলে পরিষেবা প্রদান করে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স কলকাতা থেকে কোহিমা পর্যন্ত দৈনিক বিমান পরিচালনা করে। এছাড়াও নাগাল্যান্ডের রেল স্টেশন ডিমাপুরে অবস্থিত। নাগাল্যাণ্ড ভারতীয় রেলওয়ের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলপথের আওতায় পড়ে।গুয়াহাটি পরিভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকরা ডিমাপুর থেকে দৈনিক ট্রেন সুবিধা পেতে পারেন। নাগাল্যাণ্ড রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে পরিচালিত সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন পরিষেবা প্রদান করে শতাব্দী এক্সপ্রেস যা নাগাল্যাণ্ড পৌঁছানোর সমস্যার সমাধান করে।


নাগাল্যাণ্ড এছাড়াও একটি ব্যাপক সড়ক সংযোগের অধিকারী। ডিমাপুর থেকে চলাচলকারী নাগাল্যাণ্ড রাজ্য পরিবহন নাগাল্যাণ্ডের এক সবচেয়ে জনপ্রিয় বাস পরিষেবা। ব্লু হিলস ও ভলভো বাস নাগাল্যান্ডে চলমান কিছু প্রধান বাস পরিষেবা। এই বাসগুলি ছাড়াও সড়ক পরিবহনের অন্যান্য মাধ্যমগুলি হল – মিনি কোচ ও ট্যাক্সি, যা ভ্রমণকারীদের নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সাহায্য করে।


বিমান মাধ্যমে

একটি পর্যটন গন্তব্য হিসাবে নাগাল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বিমান দ্বারা নাগাল্যান্ড পৌঁছনোর বিকল্পও বেড়ে চলেছে। ডিমাপুর বিমানবন্দর নাগাল্যান্ডের প্রধান বিমানবন্দর যা ডিমাপুর শহরের কেন্দ্র থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ডিমাপুরে বিমানবন্দরের উপস্থিতির জন্য বিমান দ্বারা নাগাল্যান্ড ভ্রমণ অত্যন্ত সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। ডিমাপুর বহু বিমানের আগমন এবং প্রস্থান বিন্দু এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও নাগাল্যান্ডের অন্যান্য পর্যটন গন্তব্যগুলির সাথে সুসংযুক্ত। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এবং এয়ার ডেকানের মত প্রধান বিমানসংস্থা গুলি নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত বিমান পরিচালনা করে। কলকাতা ও গুয়াহাটি হল এমন দুটি জায়গা যেখান থেকে বিমান দ্বারা নাগাল্যান্ডে পৌঁছানো সবচেয়ে সহজ।


রেলপথ মাধ্যমে

রেলপথ দ্বারা নাগাল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পৌঁছানোর জন্য ডিমাপুরে রেল স্টেশন থেকে আপনি যেকোনো ট্রেনে উঠতে পারেন। ডিমাপুরের রেলওয়ে স্টেশন এই রাজ্যের প্রধান রেল স্টেশন যা নাগাল্যান্ড পর্যটনকে সহজতর করে তোলে। ট্রেন দ্বারা নাগাল্যাণ্ড ভ্রমণ পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। রাজ্যের প্রধান রেলস্টেশন হল ডিমাপুর। ডিমাপুরের এই রেলওয়ে স্টেশন, গুয়াহাটির সাথে সংযুক্ত যা ভারতীয় উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রবেশদ্বার। গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশন বিভিন্ন ট্রেন দ্বারা দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের সাথে সংযুক্ত। এই দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনে বহু সংখ্যক ট্রেন রয়েছে যা নাগাল্যান্ড রাজ্যকে দেশের বিভিন্ন অংশের সাথে সংযুক্ত করে।


সড়ক মাধ্যমে

সড়ক দ্বারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ড পৌঁছানো একটি অত্যন্ত ঝঞ্ঝামুক্ত ব্যাপার।নাগাল্যান্ড রাজ্য একটি উত্তম সড়ক সংযোগ দ্বারা আচ্ছাদিত। নাগাল্যান্ড রাজ্যের রাজধানী কোহিমা দেশের উত্তর-পূর্ব অংশের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর গুয়াহাটি ও শিলং-এর সাথে সংযুক্ত। নাগাল্যান্ডের অন্যান্য শহরগুলি সড়ক দ্বারা কোহিমার সাথে সংযুক্ত। নাগাল্যান্ড সড়ক সংযোগ নাগাল্যান্ড পর্যটনকে অত্যন্ত সুবিধাজনক করে তুলেছে। নাগাল্যান্ড সড়ক পরিবহনের অন্তর্ভুক্ত বহু বাস ডিমাপুরে থেকে কোহিমা পর্যন্ত পরিষেবা প্রদান করে। এই যাত্রায় প্রায় ৪ ঘন্টা সময়ের লাগে। গুয়াহাটি থেকে বহু সংখ্যক বিলাসবহুল এবং ব্যক্তিগত বাস পাওয়া যায় যা আপনাকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও মিনি-কোচ এবং ট্যাক্সি ডিমাপুরে থেকে সহজলভ্য।ভাড়া একটু বেশী হলেও এই যাত্রা অত্যন্ত আরামদায়ক এবং সত্বর হবে।


ডিমাপুর থেকে কোহিমা যাওয়ার অনেক ট্যাক্সি আপনি এখানে পাবেন। কিছু রাত্রিকালীন বাস ডিমাপুরে এবং কোহিমাকে গুয়াহাটি ও শিলং-এর সঙ্গে সংযোগ করে। রেলস্টেশনের নিকটেই অবস্থিত ডিমাপুর ট্যাক্সি স্ট্যান্ড পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। একসাথে কয়েকজন যাত্রী বহনকারী এক হলুদ ট্যাক্সি এখানে উপলব্ধ যা ফুল ট্যাক্সি বা একচেটিয়াভাবে শেয়ার ট্যাক্সি হিসাবে পরিচিত। পর্যটকরা এছাড়াও ট্র্যাভেল এজেন্টের মাধ্যমে গুয়াহাটির থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে কোহিমা পৌঁছতে পারেন। এই ড্রাইভ খুবই মনোরম এবং প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।সড়কের দুপাশে আপনি প্রচুর শ্যামলিমা, পাহাড় ও বনাঞ্চলের সুন্দর ব্যাপ্তি দেখতে পাবেন। পর্যটকদের এই যাত্রাটি সকাল সকাল শুরু করার উপদেশ দেওয়া হয়, যাতে সন্ধ্যাবেলার আগে গন্তব্যে পৌঁছান যায়।


ডিমাপুর বিমানবন্দর

ডিমাপুর বিমানবন্দর নাগাল্যান্ডের প্রধান বিমানবন্দর। ডিমাপুর শহরের কেন্দ্র থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ডিমাপুর বিমানবন্দর বিমান দ্বারা নাগাল্যান্ড ভ্রমণকে আরও সহজতর করে তুলেছে। ডিমাপুর বিমানবন্দর একটি সরকারি বিমানবন্দর এবং ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত। ডিমাপুর বিভাগ নাগাল্যান্ডের সমস্ত অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সুসংযুক্ত, এবং সেইজন্য ডিমাপুর বিমানবন্দর নাগাল্যান্ডের বহু দর্শক দ্বারা পরিসেবিত। ডিমাপুর বিমানবন্দর টার্মিনাল যথেষ্ট বড় এবং ২৫০ জন সহ আগমন ক্ষমতা এবং ২৫০ জন সহ প্রস্থান ক্ষমতার দাবি রাখে। এখানে বহু সংখ্যক প্রধান বিমান সংস্থা রয়েছে, যা ডিমাপুর বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত বিমান পরিচালনা করে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল – ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এবং এয়ার ডেকান।


নাগাল্যান্ডের ট্যাক্সি

নাগাল্যান্ড ট্যাক্সি, সড়কপথ দ্বারা নাগাল্যান্ড পৌঁছানো এবং নাগাল্যান্ড রাজ্যের ভ্রমণে ব্যক্তিদের সাহায্য করার ব্যাপারে একটা বড় ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও নাগাল্যান্ডে জিপ এবং মিনি-কোচ হিসাবে পরিচিত গাড়িগুলি সর্বত্রই এই রাজ্যের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে পাওয়া যায়। বিপুল সংখ্যক ট্যাক্সি ডিমাপুর এবং কোহিমার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। ডিমাপুর থেকে কোহিমা পৌঁছনোর এক অত্যন্ত সহজ এবং আরামদায়ক উপায় হল একটি গাড়ি বা ট্যাক্সি ভাড়া করা। ডিমাপুর ট্যাক্সি স্ট্যান্ড রেলওয়ে স্টেশনের অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত। হলুদ রঙের ট্যাক্সি এখানে ভাড়া পাওয়া যায় এবং আপনি এখানে শেয়ার ট্যাক্সি পেতে পারেন যাতে অন্যান্য যাত্রীরাও থাকে যাকে ফুল ট্যাক্সিও বলা হয়। ফুল ট্যাক্সির ভাড়া সল্প উচ্চ হলেও এটা মাথায় রাখা উচিৎ যে যাত্রাটি অত্যন্ত আরামপ্রদ হয়।


পর্যটকরা এছাড়াও গুয়াহাটির থেকে একটি গাড়িভাড়া করে যেতে পারেন যা ট্রাভেল এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া যায়। এই যাত্রাটি খুবই মনোরম হয় এবং প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। পর্যটকদের এই যাত্রাটি সকাল সকাল শুরু করার উপদেশ দেওয়া হয়, যাতে সন্ধ্যাবেলার আগে গন্তব্যে পৌঁছান যায়।

নাগাল্যান্ডের পরিদর্শনমূলক স্থান




নাগাল্যান্ডের আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত। নাগাল্যান্ডের বেশীরভাগ পর্যটক আকর্ষণগুলি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষ এবং সেই স্থানের ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকার বহন করে। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ড পরিভ্রমণের আদর্শ সময় হল অক্টোবর থেকে মে মাস। নাগাল্যান্ডের খোনোমা দ্বার এই গ্রামের স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের নির্ভীক প্রকৃতিকে প্রতিফলিত করে, যারা ব্রিটিশ অনুপ্রবেশকারীদের থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য এই বিপুল দ্বার নির্মাণ করেছিলেন। প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের সাথে অন্বিত খোনোমা দ্বার দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন পর্যটকদের আকর্ষণ করে।


জুকৌ উপত্যকা প্রকৃতির অনুগ্রহ অনুভব করতে পর্যটকদের একটি চমৎকার সুযোগ প্রদান করে। ২৪৩৮,৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত জুকৌ উপত্যকা নাগাল্যান্ডের চিত্রানুগ দৃশ্যপটের একটি অসাধারণ দৃশ্য প্রদান করে।


জাপফু চূড়া এই অঞ্চলের উচ্চ পাহাড়ের খাড়া ঢাল স্কেলিং এবং ট্রেকিং-এর জন্য এক আদর্শ গন্তব্য। নাগাল্যান্ডের তুলি শহর তার অনন্য প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের জন্য সুপরিচিত। ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের মোককচং জেলায় অবস্থিত,তুলি শহরের নির্মল পারিপার্শ্বিক তার শান্তি ও সতেজতার সাথে দর্শকদের মনকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে।


নাগানিমোরা এই অঞ্চলের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর ক্রীড়ার মাধ্যমে পর্যটকদের তাদের সহজাত ক্রীড়া উদ্দীপনা এবং ক্রীড়াবিদ মনোভাব অন্বেষণের একটি সুযোগ প্রদান করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আশীর্বাদপ্রাপ্ত নাগানিমোরা বিভিন্ন পর্যটকদের আকর্ষণ করে যারা এখানকার মনোরম দৃশ্য দ্বারা শিহরিত হয়।


চাংতংগ্যা এবং মেলুরি নাগাল্যান্ডের বিশিষ্ট পর্যটন গন্তব্য যা সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য দ্বারা অন্বিত। সুনির্মিত সড়ক দ্বারা রাজ্যের সকল প্রান্ত থেকে নাগাল্যান্ডের পর্যটন স্থানগুলি সহজে প্রবেশযোগ্য।

নাগাল্যান্ডের বিস্তৃত পর্যটন মানচিত্র দেখতে ক্লিক করুন

নাগাল্যান্ডের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ




নাগাল্যান্ডের প্রধান পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে –

  • বাঁশের আসবাবপত্র।
  • বেতের আসবাবপত্র।
  • চাংতংগ্যা।
  • জুকৌ।
  • ফকিম অভয়ারণ্য।
  • তাঁত বয়ন।
  • ইটাংকি বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য।
  • জাপফু চূড়া।
  • খোনোমা গেট।




বাঁশের আসবাবপত্র




goa

নাগাল্যান্ডের বাঁশের আসবাবপত্র বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। বাঁশের আসবাবপত্রের চাহিদা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাঁশের জনপ্রিয়তার পিছনে কিছু কারণ হল এটি পরিবেশ বান্ধব হয় যা গাছের তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়। বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র আড়ম্বরপূর্ণ এবং টেকসই উভয় হয়। বাঁশের তৈরি কিছু সাধারণ আসবাবপত্র এবং সাজসজ্জা সংক্রান্ত পণ্য গুলি হল – টেবিল, ছবির ফ্রেম, পর্দা, উইন্ডো শেড এবং পর্দা, চেয়ার, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, কম্বল এবং মেঝে পাতার কার্পেট, রুম ডিভাইডার, কফি টেবিল, তাক, ক্যাবিনেট এবং আরো অনেক।


নাগাল্যান্ডের বাঁশের আসবাবপত্র তার ক্রমবর্ধমান নান্দনিক আকর্ষণের কারনে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বেত এবং বাঁশের পণ্য নাগাল্যান্ডের জনগণদের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঁশের আসবাবপত্র তাদের টেকসইতার জন্য জনপ্রিয় যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী উপকরণ।



বেতের আসবাবপত্র





নাগাল্যান্ডের বেতের আসবাবপত্র এই রাজ্যের কারুশিল্পের মধ্যে জনপ্রিয় যা নাগাল্যান্ডে কেনাকাটা করার সময় সংগৃহীত করা যেতে পারে। বেতের উপাদানগুলি নাগাল্যান্ড রাজ্যের দক্ষ কারিগর দ্বারা ব্যবহার করা হয়। বেতের পাত্র এবং রান্নাঘরের পণ্যদ্রব্যসমূহ বহু বর্ণবিশিষ্ট অঙ্কন এবং নকশা দিয়ে অলংকৃত করা হয়।


নাগাল্যান্ডের দক্ষ আদিবাসী কারিগররা সিংহাসন ও বেতের টেবিল তৈরি করেন। বেতের তৈরি ছোট মগ এবং পাত্র ছাড়া, নাগাল্যান্ডের কারিগররা সোফা, আরামকেদারা এবং বহনযোগ্য সারণিবদ্ধ তাক তৈরি করেন। দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে পশ্চিমী প্রভাবের আবির্ভাবের সঙ্গে নাগাল্যান্ডের আদিবাসী কারিগররা পশ্চিমী নকশার অন্তর্ভূক্ত হয় এবং প্রাচীন আসবাবপত্রগুলিকে নতুনভাবে পুনর্নির্মাণ করে।


নাগাল্যান্ডের ছোট বেতের আসবাবপত্রগুলি শহরের দুর্লভ শিল্পপণ্যের দোকানগুলি থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আসবাবপত্র ছাড়াও অলঙ্কার, জিনিসপত্র, টুপি, ফ্রেম এবং শিরস্ত্রাণ তৈরিতে বেত অত্যন্ত ভাবে ব্যবহৃত হয়। বেতের হ্যাভারস্যাক বিদেশী পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি নাগাল্যান্ডের বেতের আসবাবপত্র আন্তর্জাতিক বাজারে খ্যাতি লাভ করেছে।



চাংতংগ্যা





নাগাল্যান্ডের পর্যটক আকর্ষণের মধ্যে চাংতংগ্যা একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে। এই ছোট শহর চাংতংগ্যা নাগাল্যান্ডের মোককচং জেলায় অবস্থিত। এই অঞ্চলে কোন-শিকারের অঞ্চল সংরক্ষিত অরণ্য না থাকায় এটি পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই শহর পক্ষী পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য। বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী ফ্যালকন মঙ্গোলিয়া এবং জার্মানি থেকে চাংতংগ্যা বনাঞ্চলে উড়ে আসে। পর্যটকরা প্রকৃতির কলুষমুক্ত সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এখানে আসে। এই সুন্দর শহর দেখার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় হল অক্টোবর মাস থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত। এছাড়াও চুচুয়িমলাং এবং পঙ্গো গ্রাম আকর্ষণীয় পরিদর্শনীয় স্থান।


নিকটতম বিমানবন্দর জোড়হাট এবং ডিব্রুগড়ে থাকায় চাংতংগ্যা শহর খুব সহজেই পৌঁছান যায়। এটি তুলি থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত যা সড়ক দ্বারা ভাল ভাবে সংযুক্ত।



জুকৌ





জুকৌ বা নাগাল্যান্ডের জুকৌ উপত্যকা ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত একটি চিত্রানুগ অঞ্চল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪৩৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই সুন্দর উপত্যকা রাজ্যের রাজধানী কোহিমা থেকে দক্ষিণে ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত। উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুলের একটি গুপ্তধন জুকৌ, একে অনেকেই ভালবেসে ফুলের উপত্যকা বলে অভিহিত করেছেন। এই শৈল শহরের বিস্ময়কর প্রাকৃতিক কাব্য বর্ষাকালে একটি চিত্তাকর্ষক দৃশ্য প্রদান করে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস নিঃসন্দেহে জুকৌ উপত্যকা পরিদর্শনের সেরা সময়।


জুকৌ উপত্যকার পাহাড়ি আঁকা বাঁকা পথ ট্রেকারদের একটি স্বর্গোদ্যান। রডোডেনড্রন, ইউফোরবিয়া, অ্যাকোনিটাম এবং লিলি গ্রীষ্মের প্রারম্ভে জুকৌ ভ্যালিকে রঙে ভরিয়ে তোলে। বন্য ফুলের স্পন্দনশীল রং এই সম্মোহিত উপত্যকাকে একটি স্বর্গীয় চেহারা প্রদান করে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ট্রেকিং সমগ্র বিশ্ব জুড়ে সেরা,যা তার প্রাকৃতিক গুহা এবং পাহাড়, নদনদী এবং সবুজ শ্যমলিমা দ্বারা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।


কোহিমা বা ডিমাপুর থেকে জুকৌ উপত্যকা একটি বাস বা ট্যাক্সি দ্বারা যাওয়া যায়। জুকৌ উপত্যকার নিকটে ডিমাপুর রেলস্টেশন ও নিকটতম বিমানবন্দর অবস্থিত। জুকৌ উপত্যকার সার্কিট হাউজ ও পি.ডব্লু.ডি বাংলোতে থাকার ব্যবস্থা উপলব্ধ।



ফকিম অভয়ারণ্য





ফকিম অভয়ারণ্য নাগাল্যাণ্ড রাজ্যের একটি সুন্দর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।এই রাজ্য প্রকৃতি সহ উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুলের বিভিন্ন বৈচিত্র্য দ্বারা প্রতিভাশালী। এই অভয়ারণ্য পরিদর্শনের আদর্শ সময় হল শীতকাল বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে। এই সুন্দর অভয়ারণ্য পাহাড়, আঁকাবাঁকা স্রোত এবং সংকীর্ণ উপত্যকা দ্বারা আবৃত যা এই স্থানে আরও সৌন্দর্য যোগ করে।


নাগাল্যান্ডের ফকিম অভয়ারণ্য মায়ানমার সীমান্তের খুব নিকটে অবস্থিত। এটি নাগাল্যান্ড রাজ্যের পাংগ্রো অঞ্চলের সদর দপ্তরের আওতায় পরে। এই অভয়ারণ্য ৬৪২ হেক্টর জমির অন্তর্ভুক্ত। ফকিম অভয়ারণ্য রেল, সড়ক ও বিমানপথ দ্বারা খুব সহজেই সুসংযুক্ত। এটি নিকটতম বিমানবন্দর কোহিমা এবং ৩৯ নং-জাতীয় সড়ক দ্বারা রাজধানী শহর গুয়াহাটি (আসাম)-এর সাথে সংযুক্ত। ফকিম অভয়ারণ্য থেকে নিকটতম রেলস্টেশন হল নাগাল্যান্ড রাজ্যের ডিমাপুর।


ফকিম অভয়ারণ্য বিপুল সংখ্যক উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুলের আবাস্থল। উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুলের কিছু বিরল প্রজাতি এখানে দেখা যায়। এই অভয়ারণ্যের কিছু প্রধান আকর্ষণ হল – বাঘ, স্লেন্ডার লোরি, উল্লুক, চিতাবাঘ, বন্য শূকর, হিমালয়ান ভল্লুক, জংলী বিড়াল, বুনো মোষ, সাম্বর, খেঁক হরিণ ইত্যাদি। এখানে উপলব্ধ কিছু বিরল প্রজাতির পাখি হল – ভারতীয় হর্ন বিল, ট্রাগোপান ফিসান্ট, ধূসর ফিসান্ট, জংলী ফাউল, সবুজ পায়রা, ঘুঘু ইত্যাদি।



তাঁত বয়ন




goa

নাগাল্যাণ্ড তাঁত রঙিন এবং উচ্চ মানের বয়ন বস্ত্র উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয়। নাগাল্যান্ড রাজ্যের তাঁত বয়ন মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং রাজ্যের সাতটি জেলায় ব্যপক ভাবে এর চর্চা করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবের সঙ্গে সরকার আগেকার দিনের হস্ত বুনন তাঁত ব্যবহারকে মেশিনে বোনা তাঁতে রূপান্তরিত করেছেন।


নাগাল্যান্ড রাজ্যের তাঁত বয়ন মোককচং, ওহকা, তুয়েনসাং, জুনহেবোতো, মন, ফেক এবং কোহিমা জেলায় ব্যপকভাবে চর্চা করা হয়। এখানকার তাঁতীরা শাল, শার্ট, জ্যাকেট, বিছানার চাদর, বিছানার কভার, ব্যাগ, টেবিল মাদুর এবং টিকোজি ইত্যাদি উৎপাদন করে। বয়নের নকশা ও অঙ্কন উপজাতি অনুসারে পৃথক পৃথক হয়। এই বয়ন শৈলী বা নকশা গুলি উপজাতির নামানুসারে নামাঙ্কিত হয়। এখানকার কিছু জনপ্রিয় রঙিন নকশা হল – রেঙ্গামা, জিলিয়াং সিমা, লালথা এবং অঙ্গমি।এই রঙ্গিন নকশা এবং অলঙ্করণ বেশীরভাগই তাঁতীদের সামাজিক অবস্থাকে প্রতীকায়িত করে। এই উপকরণগুলিতে ব্যবহৃত প্রাথমিক রং গুলি হল – নীল, সবুজ, লাল, কালো এবং সাদা। এই তাঁতে বোনা কাপড়গুলিকে সুশোভিত করার জন্য তাঁতীরা অনেক সময় পুঁতি, ছাগলের লোম এবং কড়ি ব্যবহার করে যা সম্পদশালী তাঁতিদের প্রতিনিধিত্ব করে। গোড়ার দিকে, আদিবাসী মানুষরা গাছের বাকল থেকে নিষ্কাশিত উপাদান ব্যবহার করে কাপড়ে রং এবং তার সংশ্লেষণ করত। তবে, প্রযুক্তির অগ্রগতি এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করে দিয়েছে।


নাগাল্যান্ডের তাঁত শিল্প থেকে আনুমানিক মোট বার্ষিক উৎপাদন হয় ৪০ লক্ষ, যেখানে বাণিজ্যিক উৎপাদন হয় বছরে ১৮ লক্ষ। নাগাল্যাণ্ড তাঁত এবং হস্তশিল্প উন্নয়ন সংস্থা এই রাজ্যের সাতটি জেলায় এবং ভারতের অন্যান্য রাজ্যে তাঁত বিক্রয় করে। এই সংস্থার তাঁত পণ্যগুলি কখনও কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় এবং কখনও আবার রাজ্যের স্থানীয় তাঁতিদের কাছ থেকে কেনা হয়। পর্যটকরা নাগাল্যান্ড রাজ্যের কেনাকাটা করার সময় সাতটি জেলায় সংস্থা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এম্পোরিয়ামগুলিতে যেতে পারেন।



ইন্টাকি অভয়ারণ্য





উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যাণ্ডের ইন্টাকি অভয়ারণ্য বিভিন্ন ধরণের পশুপাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এটি ডিমাপুর থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে এবং নাগাল্যাণ্ডের রাজধানী শহর কোহিমা থেকে ১১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই অভয়ারণ্য পরিদর্শনের আদর্শ সময় হল নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই অঞ্চলের ভূদৃশ্য পাহাড়-পর্বত দ্বারা সুসজ্জিত।এই অভয়ারণ্যের পারিপার্শ্বিক অত্যন্ত সুন্দর এবং এটা পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত এবং সবুজ বনাঞ্চল দ্বারা আচ্ছাদিত।


ইন্টাকি অভয়ারণ্য বন্যপ্রাণী বন বিভাগ দ্বারা সংরক্ষিত। এই অভয়ারণ্য কিছু বিরল প্রজাতির পশুপাখির আশ্রয়স্থল। এই অভয়ারণ্য উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুলের বৈচিত্রপূর্ণ সম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধ। নিকটস্থ বিমান বন্দর ও রেলস্টেশন ডিমাপুরে অবস্থিত হওয়ায় ইন্টাকি অভয়ারণ্য যাত্রা অত্যন্ত সুবিধাজনক। ডিমাপুর থেকে সড়কপথের মাধ্যমে আপনি সহজেই এই অভয়ারণ্য ভ্রমণ করতে পারেন।


ইন্টাকি অভয়ারণ্যের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল উল্লুক যা শুধুমাত্র ভারতেই পাওয়া যায়। এই অভয়ারণ্যে উপলব্ধ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হল – আলস্য ভালুক, হাতি, বাঘ, মিথুন, সাম্বর, গড়াল, উড়ুক্কু কাঠবিড়াল, খেঁক হরিণ, বন্য কুকুর ইত্যাদি। এছাড়াও এই অভয়ারণ্য বিরল প্রজাতির পক্ষীদের বৃহৎ সংগ্রহের জন্য সুপরিচিত। এখানে উপলব্ধ কয়েকটি পক্ষী হল – কালিজ , সাধারণ ফিসান্ট, হর্ন বিল, কালো সারস ইত্যাদি।



জাপফু চূড়া





জাপফু চূড়া উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের একটি সবুজ গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় ৩০৪৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, এই শৈল শহর ঘন বাঁশ ঝোপ দ্বারা আচ্ছাদিত যা একটি লনের স্বরুপ দেখায়। জাপফুশিখর পর্যন্ত ট্রেক বেশ শক্ত এবং পরিশ্রমের হতে পারে কিন্তু শীর্ষ থেকে সবুজ এবং চমৎকার ভূদৃশ্যের চিত্তাকর্ষক চিত্র পর্যটকদের মুগ্ধ করে দেয়। এই চূড়া কোহিমার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ যা নাগাল্যান্ডের রাজধানী শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই পর্বত চূড়া থেকে কোহিমা শহরের একটি সমগ্র ঝলক দেখা যায়।


জাপফু চূড়া নাগাল্যান্ডের আকর্ষণের মধ্যে সেরা হিসাবে গণ্য হয় এবং এই চূড়া থেকে রহস্যময় সূর্যোদয় দর্শন একটি অবিস্মরণীয় দৃশ্য। নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের শুষ্ক মৌসম জাপফু চূড়ার একটি সফরের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। বৃষ্টি সিক্ত বর্ষার পর স্পষ্ট আকাশ-বাতাস সতেজ হয়ে ওঠে এবং জাপফুর পারিপার্শ্বিক আরো সবুজ ও শ্যামল হয়ে ওঠে।


উত্তর পার্বত্য আর্দ্র শীতপ্রধান বন জাপফুর ভূদৃশ্যকে মিকেলিয়া, ম্যাগনলিয়া, কুয়েরকাস, প্রুনাস, অ্যালনাস, কিমা এবং বেতুলা ইত্যাদি চিরহরিৎ উদ্ভিদ দ্বারা ভরিয়ে তোলে। গ্রীষ্মের আগমনের সাথে সাথে নাগাল্যান্ডের জাপফু চূড়ায় রডোডেনড্রন ফুলের রঙিন সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রসঙ্গক্রমে, বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা রডোডেনড্রন গাছ জাপফু চূড়ায় পাওয়া গেছে যার উচ্চতা ১৩০ ফুট এবং পরিধি প্রায় ১১ ফুট। তার দ্রুত প্রসারের জন্য এই বৃক্ষের নাম গিনেস বুক বিশ্ব রেকর্ডে স্থান অর্জন করেছে।



খোনোমা গেট




goa

খোনোমা গেট নাগাল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। খোনোমা গেট এই অঞ্চলের নাগা উপজাতিদের গ্রামে ব্রিটিশদের অনুপ্রবেশের কাহিনীকে তুলে ধরে। নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত, এই ক্ষুদ্র গ্রাম খোনোমা এই রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রথাগত উত্তরাধিকারের প্রত্নসম্পদকে বহন করে।


প্রাচীন কালে খোনোমা গ্রামের স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা গ্রামে ইংরেজদের নিয়মিত আক্রমনের হাত থেকে তাদের প্রতিবেশী গ্রামগুলিকে সুরক্ষিত করার জন্যে এই দরজা নির্মাণ করেছিলেন। তাদের সাহসিকতার জন্য সুপরিচিত খোনোমা গ্রামের স্থানীয় গ্রামবাসীরা প্রায়শই তাদের জীবন ও সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য এই অনুপ্রবেশকারীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হত।


প্রাকৃতিক নাটুকে সৌন্দর্য দ্বারা অন্বিত খোনোমা গ্রাম বিভিন্ন পর্যটকদের আকর্ষণ করে, যারা এই স্থানের চিত্তাকর্ষক দৃশ্য দ্বারা বিমুগ্ধ এবং পুলকিত হয়ে ওঠে। এই অঞ্চলের প্রাচুর্যময় সবুজ ক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্যপ্রদ আবহাওয়া দৈনিক জীবনের গতানুগতিক চাপ ও ব্যস্ততা থেকে পর্যটকদের মুক্তি দেয়। খোনোমা গেট বিদেশী অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে তাদের জীবন ও সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় নাগরিকদের শক্তিশালী প্রচেষ্টার এক প্রতীক। ষুদ্র গ্রাম খোনোমা কুড়িটি ভিন্নধর্মী ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত যা নাগাল্যান্ডের স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের প্রচলিত খাদ্য।


খোনোমা নাগাল্যান্ডের কোহিমা থেকে উন্নত সড়কপথ দ্বারা সহজে প্রবেশযোগ্য। এখানে পরিদর্শন করতে আসা অধিকাংশ পর্যটকই এই স্থানের পুরোনো মহিমা এবং জাঁকজমক দ্বারা চকিত হয় যা খোনোমার বিভিন্ন পর্যটক আকর্ষণে প্রতিফলিত হয়।



মেলুরি





মেলুরি সারা বছর জুড়ে পর্যটক দ্বারা পরিদর্শিত হয়। এই স্থানের নাটুকে সৌন্দর্য সবুজ পাহাড় এবং ছোট, আঁকাবাঁকা নদী দ্বারা আরও প্রভাবিত হয়। সিল্লোই হ্রদ একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ, যা মেলুরির অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত এবং জিপ বা বাসের মাধ্যমে সহজেই ভ্রমণযোগ্য।


মেলুরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৩৯৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি মহকুমা শহর যা নাগাল্যান্ডের ফেক থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। মেলুরি শহর হল মহকুমা সদর দপ্তর এবং ২৮-টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত। এই শহর পচুরি উপজাতিদের দ্বারা অধ্যুষিত যারা প্রধানত চাষাবাদের সাথে জড়িত। এখানকার বাসিন্দাদের দ্বারা কথিত মূল ভাষা হল “পচুরি”। পচুরিদের এক অন্যতম প্রধান উৎসব হল ইয়েমশি যা ৫-ই অক্টোবর পালিত হয়। তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক ঝলক দেখার এটি হল আদর্শ সময়।


মেলুরি শহর সুবিশাল প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধ যথা – আলঙ্করিক পাথর, কয়লা, ম্যাগনেসাইট, ব্রাইন, মলিবডেনাম, মার্বেল, লৌহ ক্রোমিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট, তামা, ক্রোমিয়াম, অ্যাসবেসটস, স্ফটিক চুনাপাথর এবং অভ্র ইত্যাদি। বর্তমানে, নাগাল্যান্ডের একমাত্র সিমেন্ট কারখানা মেলুরি ব্লকের উইজিহোতে অবস্থিত। সম্প্রতি এক আলংকারিক পাথর কারখানা উইজিহোতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


মেলুরিতে একটি সুপরিকল্পিত সড়ক সংযোগ রয়েছে। পর্যটকরা মেলুরি থেকে ফেক এবং নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা যাওয়ার বাস ও ট্যাক্সি পেতে পারেন। ডিমাপুর এখানকার নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন এবং বিমানবন্দর, যা ভারতের অন্যতম প্রধান শহরগুলির সাথে সংযুক্ত।



নাগাল্যান্ড মিউজিয়াম




goa

নাগাল্যান্ডের মিউজিয়ামগুলি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে সংরক্ষিত করার তাগিদে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের মিউজিয়াম রয়েছে যেমন – চারুকলা, ইতিহাস, শিল্প, জাতিবিদ্যা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিশুদের মিউজিয়াম ইত্যাদি। কিন্তু নাগাল্যান্ড মিউজিয়াম জাতিবিদ্যার বিষয়শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।


নাগাল্যান্ড ১৬-টি প্রধান উপজাতি দ্বারা অধ্যুষিত। নাগাল্যান্ডে বসবাসকারী কিছু উপজাতি হল – কুকি, কাছারি, চ্যাং, অঙ্গমি, আওস, সুমিস, কোনিয়াক, চাখিসাং, লোথা, পচুরি ইত্যাদি। এই সব উপজাতিদের অনন্য সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রীতিনীতি, পোশাক ইত্যাদি নাগাল্যান্ডের মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হয়।



নাগানিমোরা





নাগাল্যান্ডের নাগানিমোরা এক অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ। এই শহরটির নাম উদ্ভূত হয়েছে নাগা রানী মোরা শব্দটি থেকে যার অর্থ হল নাগা রাণীর কবরস্থান। কোনিয়াক কিংবদন্তি অনুযায়ী ওয়াটলং কোনিয়াক ছিলেন কোনিয়াকের এক নাগা রানী যিনি অহোমের একজন রাজাকে বিবাহ করেন। তিনি লাখানে মারা যান এবং অহম রাজা এই জায়গার নাম পরিবর্তন করে নাগানিমোরা হিসাবে নামকরণ করেন। নাগানিমোরা শহর, নাগাল্যান্ডের মন জেলার অন্তর্গত কোনগাঁও গ্রাম থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই শহর পূর্বে লাখান নামে পরিচিত ছিল।


নাগানিমোরা শহর মন জেলার একটি মহকুমা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত। দিখু নদীর তীরে এটি একটি ক্ষুদ্র এবং নাটুকে শহর। এই শহর প্রধানত কোনিয়াক নাগাদের দ্বারা অধ্যুষিত যারা ধাতব শিল্পে নাগাদের মধ্যে সবচেয়ে পারদর্শী বলে বিবেচিত। পর্যটকরা এখানে আসে এই শহরের নাটুকে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং কোনিয়াক নাগাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে পরিদর্শন করতে।


নাগানিমোরা রেলপথ ও রাস্তাঘাট দ্বারা সুসংযুক্ত। এটি আসামের সাথে রেলপথ দ্বারা সংযুক্ত। এই শহরের নিকটে ১৯০৭ সালের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি কয়লাখনি রয়েছে।



পুলি ব্যাজ অভয়ারণ্য





পুলি ব্যাজ অভয়ারণ্য নাগাল্যান্ডের একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এটি ৯.২৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। আপনি যদি এক অবিস্মরণীয় বন্য রোমাঞ্চকর ক্রিয়াকলাপের পরিকল্পনা করছেন, নাগাল্যান্ড হল আপনার জন্য এক আদর্শ গন্তব্য যা বন্যপ্রাণী দ্বারা সমৃদ্ধ। এই অভয়ারণ্য সবুজ পাহাড় এবং নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি সুন্দর স্থানে অবস্থিত।


পুলি ব্যাজ অভয়ারণ্য রাজধানী শহর কোহিমার নিকটে অবস্থিত যা ভ্রমণকারীদের জন্য সহজগম্য। বন বিভাগ এই অভয়ারণ্যকে যে কোন ধরণের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। এই অভয়ারণ্য বিভিন্ন ধরণের পাখির বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। বিরল প্রজাতির পাখি ব্লিথ ট্র্যাগোপান এবং হোয়াইট-নেপড্ যুহিনা এখানে দেখা যায়। এটি প্রাকৃতিক বাসস্থান বরাবর এই সকল সুন্দর পাখি দেখার জন্য একটি আনন্দদায়ক স্থান।



নাগাল্যাণ্ড রাষ্ট্রীয় মিউজিয়াম





নাগাল্যাণ্ড রাষ্ট্রীয় মিউজিয়াম নাগাল্যাণ্ডের রাজধানী শহর কোহিমায় অবস্থিত। এটি এই শহরের উত্তরে প্রায় ১ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই মিউজিয়ামের অমূল্য ভান্ডার নাগাল্যান্ড রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চিত্রিত করে। নাগাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার জন্য এটি সেরা জায়গা। নাগাল্যাণ্ড রাষ্ট্রীয় মিউজিয়াম রাজধানী শহর কোহিমায় অবস্থিত হওয়ায় সহজেই প্রবেশযোগ্য যা কিছু কিছু প্রধান শহর গুলির সাথে সুসংযুক্ত।নিকটতম বিমানবন্দর এবং রেলস্টেশন হল ডিমাপুর।


এই মিউজিয়ামে প্রদর্শিত কিছু নিদর্শন হল – স্তম্ভ, গেটপোস্ট, গহনা, ভাস্কর্য ইত্যাদি। মিউজিয়ামের একটি পৃথক কোণে যুদ্ধের নৌকোর অনুরূপ একটি আনুষ্ঠানিক ঢাক প্রদর্শিত হয়। এই জলযান এটা ইঙ্গিত করে যে নাগারা সুমাত্রা থেকে নাগাল্যাণ্ডে স্থানান্তরিত হয়েছে।


নাগাল্যাণ্ড রাষ্ট্রীয় মিউজিয়াম এই রাজ্যের বসবাসকারী প্রতিটি উপজাতির জীবনধারার একটি বিস্তারিত পরিদৃশ্য প্রদান করে। এই রাষ্ট্রীয় মিউজিয়াম নাগাদের সামাজিক স্তরায়ন, স্থাপত্য, সংস্কৃতি, পরিচ্ছদ এবং রীতিনীতি তুলে ধরে। মিউজিয়ামের বেসমেন্টে উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি এলাকায় উপলব্ধ পাখি এবং প্রাণীদের দেখা যায়।



উপজাতীয় কারুশিল্প




goa

নাগাল্যাণ্ডের আদিবাসীদের কারুশিল্প তাদের মহৎ নকশা এবং রঙিন বৈচিত্রের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত। নাগাল্যাণ্ড রাজ্যের উদ্ভাবনী এবং দক্ষ আদিবাসী মানুষরা বনজ পণ্য ব্যবহার করে যেমন – বেত, বাঁশ ও কাঠের বোনা ঝুড়ি, আসবাবপত্র, রান্নার পাত্র এবং গৃহ অলংকরণ। পর্যটকরা নাগাল্যান্ডে কেনাকাটা করার সময় নাগাল্যান্ডের সরকারি এম্পোরিয়া এবং দুর্লভ দোকান অথবা স্থানীয় বাজার থেকে আদিবাসী কারুশিল্প কিনতে পারেন।


শিল্পীরা কাচ এবং চীনামাটির পণ্যদ্রব্যসমূহগুলি পুনরায় তৈরি করেন। নাগাল্যান্ডের উপজাতীয় শিল্প ও কারুশিল্প রাজ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে। দক্ষ শিল্পীরা রাজ্যের অরণ্য থেকে প্রাকৃতিক রঞ্জক এবং কাঁচামাল ব্যবহার করেন। বেত এবং বাঁশ জনপ্রিয় ভাবে ব্যবহার করা হয়। বেত এবং বাঁশ দ্বারা পাত্র এবং ঝুড়ি তৈরি করা হয়। ঝুড়ির মধ্যে সেই নকশা এবং পরিকল্পনা যোগ করা হয় তা উপজাতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। খোনোমা এবং তুয়েনসাং জেলার খিয়ামগানের তাঁতিরা ঝুড়ি বয়নের জন্য বিখ্যাত। রাজ্যের সাতটি জেলায় ব্যপক হারে লয়েন তাঁত তৈরি হয়। লয়েন তাঁত বয়নে উপজাতিদের দ্বারা ব্যবহৃত রং এবং নকশায় তাঁতিদের মর্যাদা বোঝাতে ক্ষমতা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও গহনার জন্য ব্যবহৃত অলঙ্করণও তাঁতীদের মর্যাদা নির্দেশ করে। হস্ত বুনন তাঁতের ব্যবহার বন্ধ করে তাঁতিদের প্রচেষ্টায় মেশিনে বোনা তাঁত তৈরি করা হয়, যা প্রযুক্তিগত ভাবে অনেক বেশী উন্নত।


গহণা শিল্প রাজ্যের নারী সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অলঙ্করণের জন্য পুঁতি এবং শামুখের খোলস ব্যবহার করা হয়। কাষ্ঠ খোদাই, মৃৎপাত্র এবং ধাতব কাজ এই রাজ্যের অন্যান্য জেলার বেশ জনপ্রিয়। এই রাজ্যের সমৃদ্ধ মান এবং ঐতিহ্য নাগাল্যান্ডের আদিবাসীদের কারুশিল্পের মাধ্যমে পুনর্জাগরিত হয়েছে।



উপজাতীয় অলঙ্কার




goa

নাগাল্যান্ডের আদিবাসী গহনা বৈশিষ্ট্যগত অলংকার যা রাজ্যের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার সংস্কৃতির একটি অংশের রূপ। এই অলংকরণ রাজ্যের দক্ষ আদিবাসী শিল্পীদের দ্বারা প্রস্তুত হয়। নাগাল্যান্ডের আদিবাসী গয়না রাজ্যের আদিবাসী মানুষরা নিছক অলঙ্করণের চেয়েও বেশী বলে মনে করে। এই গয়না কখনও ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা এবং কখনও তাদের সামরিক সাফল্য এবং বিজয়ের শক্তিশালী প্রতীককে প্রতিনিধিত্ব করে।


নাগাল্যান্ডের উপজাতীয় গয়না বিভিন্ন ধরনের পুঁতি এবং প্রাকৃতিক উপাদানের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। ঝিনুকের পুঁতি, পাথরের পুঁতি এবং কাঁচের পুতির গলার হার এই রাজ্যের অত্যন্ত বিখ্যাত। পুঁতির সূক্ষ্ম হার দক্ষ কারিগররা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তৈরি করেন। এইরকম অন্যান্য কিছু অলঙ্কারগুলি হল নিম্নলিখিত –

  • পিতলের বালা।
  • পিতলের গলার রিং।
  • হাতের বালা।
  • শিকারি মালা।
  • চুলে লাগানোর অলঙ্কার।



নাগাল্যান্ডের পুঁতির গয়নার আকার এবং নকশায় পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রভাব নতুন ভাবে অনুভূত হতে পারে। নাগাল্যান্ডে কেনাকাটা করার সময় এই অলঙ্কারগুলি এখানকার দুর্লভ দোকান গুলি থেকে পাওয়া যাবে। নাগাল্যান্ডের আদিবাসী গয়না আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের একটি উপযুক্ত স্থান তৈরি করেছে। এমনকি হ্যারি এল এবং টিয়ালা মারসোসাং নিউফেল্ড থেকে সংগৃহীত অলংকার ওয়াশিংটন ডি.সি.-এর বিডস্ মিউজিয়ামেও প্রদর্শিত হয়।



তুলি শহর





তুলি শহর নাগাল্যান্ডের এক অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ। তুলি শহর ভারতে নাগাল্যান্ডের মোককচং জেলায় অবস্থিত। এটা ভৌগলিকভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,১৪৮ ফুট উচ্চতায় ২৬° ৩৯’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪° ৪১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই সুন্দর শহর তুলি মেলাক নদীর ডান তীরে অবস্থিত। এই শহরের ঘূর্ণায়মান পাহাড়, আঁকাবাঁকা নদী এবং কোমল সমভূমির সামগ্রিক দৃশ্যের সৌন্দর্য বহু সংখ্যক পর্যটকদের আকর্ষণ করে। মেলাক সমভূমির উপরে রি লাংপাংকং পরিসীমা তুলি শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও প্রভাবিত করে। ভূসংস্থানিক রেখা বরাবর তুলি শহরকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয় –

  • তুলি সদর দপ্তর।
  • তুলি পেপার মিল পৌরসভা।
  • তুলি লেন্ডেন (যুদিকং সহ)।



২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী তুলি শহরের মোট জনসংখ্যা হল ১৫.২৫২। নাগাল্যান্ডের মোককচং জেলায় এটা মোককচং-এর পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং বৃহত্তম বহির্ভূত-জেলা সদর দপ্তর শহর। তুলি শহর একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অধীনে থাকা এক উপ বিভাগীয় সদরদপ্তর। এই শহরের মানুষেরা প্রধানত আও ভাষায় কথা বলে।


নাগাল্যান্ডের তুলি শহর অন্যান্য রাষ্ট্র ও জেলার সাথে মহাসড়কের মাধ্যমে অত্যন্ত সুসংযুক্ত। ৬১ নং-জাতীয় সড়ক এই শহরে মাধ্যমে যায় যা এই রাজ্যের সাথে প্রধান কিছু জায়গাকে সংযুক্ত করে।



বেতের পান পাত্র




goa

নাগাল্যান্ডের বেতের পান পাত্র এই রাজ্যের উপজাতীয় চারু ও কারুশিল্পের একটি বিশিষ্টতা। নাগাল্যান্ডের দক্ষ কারিগররা বেতের পান পাত্র বয়ন শিল্পকে আয়ত্ত করেছেন যা পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাসনপত্র তৈরি করার জন্য কারিগরদের বিশেষ প্রয়োজন। নাগাল্যান্ড রাজ্যের উপজাতীয় কারিগররা বেতের ঝুড়ি এবং পাত্র বয়ন দক্ষতাকে আয়ত্ত করেছেন এবং কাচ বা চীনামাটির তৈরি বাসনপত্রের পরিপূরক হিসেবে এগুলিকে রান্নাঘরে ব্যবহার করা হয়। প্রজন্ম ধরে, উপজাতীয় শিল্পীরা এই ধরনের হস্তশিল্প ও কারুশিল্প প্রস্তুত করে আসছে যা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সংজ্ঞায়িত করে। নাগাল্যান্ডে কেনাকাটা করার সময় পর্যটকরা ভ্রমণের স্মরক উপহার হিসাবে বেতের পান পাত্র কিনে নিয়ে যেতে পারেন। এই পাত্র রাজ্যের শহরের বা গ্রামের দুর্লভ শিল্পবস্তুর দোকান এবং শপিং সেন্টার অথবা হাটে-বাজারে পেতে পারেন।



বন্যপ্রাণী





নাগাল্যান্ডের বন্যপ্রাণী উভয়ই সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময়। নাগাল্যান্ড রাজ্য অসাধারণ নাটুকে সৌন্দর্য এবং উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুলের বিভিন্ন বৈচিত্র্য সহ প্রকৃতি দ্বারা প্রতিভাধর। এই রাজ্যের সমৃদ্ধ বন্যজীবন এই রাজ্যে আরও সৌন্দর্য যোগ করে। এই সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীগুলিকে রক্ষা করতে সরকার বহু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং বিলুপ্তির হাত থেকে এই বিরল প্রজাতির প্রাণীদের রক্ষা করার জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করেছেন।


নাগাল্যান্ডে তিনটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে যথা – ফকিম অভয়ারণ্য, পুলি ব্যাজ অভয়ারণ্য এবং ইন্টাকি অভয়ারণ্য। এই অঞ্চলে উপলব্ধ কিছু প্রাণী হল – বাঘ, বুনো মোষ, স্লেন্ডার লোরিস, হিমালয়ান ভালুক, উল্লুক, চিতা বাঘ, বুনো শুয়োর, খেঁক হরিণ, জঙ্গলী বিড়াল, সাম্বার ইত্যাদি। এখানে উপলব্ধ কিছু বিরল প্রজাতির পাখি হল – ভারতীয় হর্ন বিল, ট্রাগোপান ফিসান্ট, ধূসর ফিসান্ট, জঙ্গলী মোরগ, সবুজ পায়রা ঘুঘু ইত্যাদি।



নাগাল্যান্ডে কেনাকাটা





নাগাল্যান্ডের মানুষদের মধ্যে শিল্প ও কারুশিল্পের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আছে যা নাগাল্যান্ডের কেনাকাটাকে বিস্ময়কর করে তোলে। আসলে তাদের বসবাসের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে এই ঐতিহ্য তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গতির মধ্যে অন্তর্নিহিত রয়েছে।


এই অঞ্চলের ঘন অরণ্যের উপর নির্ভর করে আদিবাসী সমাজ শত-শত বছর ধরে জীবনযাপন করে চলেছে। সাধারণত এখানকার বন্য পণ্য, যেমন- কাষ্ঠ, বেত, বাঁশ ইত্যাদি কাঁচামাল হস্তশিল্পের জন্য ব্যবহৃত হয় যা এখানকার মানুষরা তাদের অবসর সময়ে তৈরি করেন।


একটি উপযোগী পণ্য হোক বা একটি শিল্প পণ্য, নাগাদের সমৃদ্ধ নান্দনিক জ্ঞান এবং দক্ষ কারিগরির জন্য তাদের হস্তনির্মিত পণ্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বাঁশ ও বেতের কঞ্চি থেকে তারা ঝুড়ি, ব্যাগ ও আসবাবপত্র তৈরি করে এবং তুলো থেকে শাল ও জ্যাকেট তৈরি করে। রং, নকশা এবং অঙ্কন তাদের লোকাচারবিদ্যার উপর ভিত্তি করে উপজাতি থেকে উপজাতিতে পরিবর্তিত হয়। তারা হস্তনির্মিত পণ্যগুলিকে সুশোভিত করার জন্য
প্রাকৃতিক রঞ্জক, পুঁতি এবং শামুখের খোলস ব্যবহার করে, যা নাগাল্যান্ডে কেনাকাটার জন্য চমৎকার জিনিস।

goa

নাগাল্যান্ডের কেনাকাটা একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা যেখানে আপনি আপনার কাছের এবং প্রিয় মানুষদের জন্য জিনিসপত্র এবং উপহার কিনতে পারেন। সুদক্ষ আদিবাসী কারিগর ও শিল্পীরা বেত ও বাঁশ ইত্যাদি থেকে চমৎকার হস্তনির্মিত পণ্য তৈরি করেন। নাগাদের কলা এবং শিল্পের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে, যেমন – ঝুড়ি, তাঁতশিল্প, কাষ্ঠখোদাই, মৃৎশিল্প, ধাতব শিল্প প্রভৃতি। বেত এবং বাঁশ থেকে তৈরি জিনিসপত্র গুলি হল – রুম ডিভাইডার, টেবিল মাদুর, মেঝের মাদুর, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, অ্যাশ ট্রে, কলম স্ট্যান্ড, ভাস্কর্য, সুসজ্জিত বাতির ঢাকনা, ওয়াল প্যানেল, আসবাবপত্র প্রভৃতি যা পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নাগা নারীরা তাদের চমৎকার বয়ন দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। উজ্জ্বল রঙের শাল, ব্যাগ এবং হাতে বোনা জ্যাকেট সত্যিই কেনার মত। নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প কিনতে কোহিমা হল সেরা জায়গা, কারন এখানে বহু দোকান আছে, যারা নাগা হস্তশিল্প বিক্রি করে , যেমন – নাগা শাল, কাঠ ভাস্কর্য, কাঁধের ব্যাগ, বাঁশের ঝুড়ি ইত্যাদি।


নাগাল্যান্ডে কেনাকাটা করার সময়, দেখে নিন –

ঝুড়ি মাটির পাত্র
শাল, ব্যাগ, জ্যাকেট ধাতব কারুকার্য
কাষ্ঠ পণ্য


এখানে কোন বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স না থাকলেও আপনি সরকারি এম্পোরিয়া এবং স্থানীয়দের ব্যক্তিগত দোকান গুলিতে কেনাকাটা করতে পারেন। নাগাল্যান্ডের রঙিন বাজারগুলিতে দড়াদড়ি করে বিভিন্ন ধরণের জিনিস কেনাকাটা করতে পারেন।


রাজ্যের সরকারি এম্পোরিয়াগুলি নাগাল্যান্ডে কেনাকাটার জন্য আদর্শ স্থান, যারা প্রকৃত, উন্নত মানের পণ্য, খাঁটি হস্তনির্মিত পণ্য যুক্তিসঙ্গত মূল্যে বিক্রি করে। নাগাল্যাণ্ডের আদিবাসী গয়না ধাতু এবং পুঁতি দ্বারা তৈরি যা পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

নাগাল্যান্ডের ভ্রমণ পরামর্শ




নাগাল্যান্ডের ভ্রমণ পরামর্শের বিস্তারিত তালিকা উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগের জন্য অত্যাবশ্যক। নাগাল্যান্ড ভারতের এক বিধিনিষেধযুক্ত অঞ্চল ছিল কিন্তু এখন এই বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে, এই উত্তর ভারতীয় রাজ্য ভ্রমণের সময় নাগাল্যান্ড সম্পর্কিত কিছু নির্দিষ্ট ভ্রমণ পরামর্শ মাথায় রাখা প্রয়োজন।

  • নাগাল্যান্ডে সফররত বিদেশী পর্যটকদের পরিভ্রমণের সময় তাদের পাসপোর্ট বহন করতে হবে। পাসপোর্ট একটি পরিচয় প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে, পর্যটকদের যেকোন সময় এটি দেখাতে হতে পারে।

  • নাগাল্যান্ডে সারা বছরই পরিদর্শন করা সম্ভব তবে, এই স্থান পরিদর্শনের সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত।

  • নাগাল্যান্ডে পোশাক সংক্রান্ত ভ্রমণ পরামর্শ সফরের সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। তবে গ্রীষ্মকালে কিছু হালকা গরম কাপড় ও শীতকালে ভারী পশমী কাপড় বহন করার পরামর্শ পর্যটকদের দেওয়া হয়।

  • কেনাকাটা প্রেমীদের জন্য নাগাল্যান্ডে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ পরামর্শ হল অসাধারণ কাষ্ঠ খোদাইকৃত পণ্য যা নাগাল্যান্ডের স্থানীয় কারিগরদের প্রতিভা এবং দক্ষতাকে তুলে ধরে।

  • রোমাঞ্চকর ক্রিয়াকলাপ প্রেমী মানুষেরা অবশ্যই ট্রেকিং করার সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে বহন করবেন।

  • বাসস্থান ব্যবস্থা নিয়ে নাগাল্যান্ডে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু এই নিঃসঙ্গ শৈলশহরে আপনার পাঁচ তারকা বিলাসবহুল হোটেল আশা করা উচিত নয়। তবে, নাগাল্যান্ড ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ পরামর্শ হল থাকার ব্যবস্থাটি ভ্রমনের পূর্বে বুক করে নেওয়া।



নাগাল্যান্ডে ভ্রমণ উপদেষ্টা




পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নাগাল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নাগাল্যান্ডের দক্ষ ভ্রমণ পরামর্শকদের জন্য ত্বরিত হচ্ছে। নাগাল্যান্ডের একজন ভ্রমণ পরামর্শক নিখুঁতভাবে নাগাল্যান্ডের পর্যটক আকর্ষণগুলি দেখায় এবং পরিবহন ও বাসস্থানের সুবিধা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। নাগাল্যান্ডের ভ্রমণ পরামর্শক এখানকার প্রকৃতির সেরা কুমারী সৌন্দর্য তুলে ধরে পর্যটকদের কাছে। কিছুটা অপরিচিত থাকলেও নাগাল্যান্ডে কিছু গন্তব্য আপনি পরিদর্শন করতে পারেন , সেগুলি হল –

  • ডিমাপুর – নাগাল্যান্ডের এই বৃহত্তম শহরে মধ্যযুগীয় কাছারি রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ, উত্তর পূর্ব অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিউজিয়াম, চুমুকেদিমা এবং ইনটাংকি অভয়ারণ্য রয়েছে।
  • কোহিমা।
  • মোকোকচং।
  • মন – এটি নাগাল্যান্ডের কোন্যাক উপজাতির আবাস্থল।
  • তুয়েনসাং।
  • জুনহেবোতো।



নাগাল্যান্ড ভ্রমণ পরামর্শক নাগাল্যান্ডে পৌঁছনোর বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। ডিমাপুর নাগাল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, যেখান থেকে কলকাতা এবং গুয়াহাটির নিয়মিত বিমান পরিচালনা করা হয়। ডিমাপুর এই রাজ্যের প্রাথমিক রেলস্টেশন এবং এটি গুয়াহাটির সাথে সংযুক্ত যা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। নাগাল্যান্ডে একটি খুব ভাল সড়ক সংযোগ রয়েছে এবং ডিমাপুর, কোহিমা, ইম্ফলের সাথে বাস দ্বারা সংযুক্ত।


নাগাল্যান্ড একটি নির্জন শৈলশহর যা এখনও পর্যটকদের অধিগ্রহণ দ্বারা দূষণমুক্ত। তাই, অন্যান্য জনপ্রিয় শৈলশহরের মত নাগাল্যান্ড পাঁচ তারকা হোটেল দ্বারা অন্বিত নয়। নাগাল্যান্ডের হোটেলগুলি বিলাসবহুল রিসর্ট না হলেও তাদের সব হোটেলে গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধির একটা মাত্রা বজায় রাখা হয়। নাগাল্যান্ডের জনপ্রিয় হোটেল হল –

  • হোটেল জাপফু

    পোস্ট বক্স নং 140, পি. আর. হিল, কোহিমা।
  • হোটেল পাইন

    ফুলবাড়ি।
  • হোটেল ক্যাপিটাল

    এন.এস.টি কমপ্লেক্স-এর নিকটে।
  • হোটেল শ্যারন

    নিউ মার্কেট।



* সর্বশেষ সংযোজন : ০৭ - ই আগস্ট, ২০১৫