free_shipping_English_728x90

মহারাষ্ট্র মানচিত্র

Store-banner

Maharashtra Map in Bengali

মহারাষ্ট্র মানচিত্র
* প্রধান সড়ক, রেলপথ, নদী, জাতীয় সড়ক ইত্যাদি এই মানচিত্রে দেখানো হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের উপর তথ্যাবলী

আধিকারিক ওয়েবসাইট www.maharashtra.gov.in
স্থাপনের তারিখ 1 মে, 1960
আয়তন 307,713 বর্গ কিলোমিটার
ঘনত্ব 365/ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা (2011) 112,374,333
পুরুষ জনসংখ্যা (2011) 58,243,056
মহিলা জনসংখ্যা (2011) 54,131,277
জেলার সংখ্যা 36
রাজধানী মুম্বাই
নদীসমুহ গোদাবরী, পেনগঙ্গা, ভীমা, পারভারা, মূলা
অরণ্য ও জাতীয় উদ্যান তাডোবা জাতীয় উদ্যান, নাগজিরা জাতীয় উদ্যান, গুগামাল জাতীয় উদ্যান
ভাষা মারাঠি, ইংরাজী, কোঙ্কনি
প্রতিবেশী রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, গোয়া, ছত্তীসগঢ়, দাদরা ও নগর হাভেলি
রাষ্ট্রীয় পশু ভারতীয় বিশালাকার কাঠবিড়াল
রাষ্ট্রীয় পাখি হলুদ- পা বিশিষ্ট সবুজ পায়রা
রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ আমগাছ
রাষ্ট্রীয় ফুল ল্যাজারস্ট্রোইমিয়া
রাজ্যের অভ্যন্তরীণ মূল উৎপাদন (2011) 83471
সাক্ষরতার হার (2011) 79.85%
প্রতি 1000 জন পুরুষে মহিলার সংখ্যা 925
বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র 288
সংসদীয় নির্বাচনক্ষেত্র 48

মহারাষ্ট্র সম্পর্কে

ভারতের সমস্ত রাজ্যগুলির মধ্যে, দেশের পশ্চিমদিকে অবস্থিত মহারাষ্ট্র দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাজ্যটি পশ্চিমে আরব সাগর, উত্তর-পশ্চিমে গুজরাট, উত্তরে মধ্যপ্রদেশ, দক্ষিণ দিকে কর্ণাটক এবং পূর্বে ছত্তীসগঢ় ও তেলেঙ্গানা দ্বারা বেষ্টিত, ভারতের ৩,০৭,৭১৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

মুম্বাই, মহারাষ্ট্রের রাজধানী তথা সমগ্র দেশের আর্থিক রাজধানী। নাগপুর এই রাজ্যের সহায়ক রাজধানী হিসাবে পরিচিত। এছাড়াও সচ্ছল রাজ্য হিসাবে পরিচিত মহারাষ্ট্র, দেশের মোট শিল্পায়নের প্রায় ১৫ শতাংশ আয় করে এবং এর স্থূল ঘরোয়া উৎপাদনের (জি.ডি.পি) হার প্রায় ১৪ শতাংশ। রাজ্যে বেশ কিছু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জাতীয় উদ্যান এবং ব্যাঘ্র প্রকল্প রয়েছে যেগুলি, কেবলমাত্র দেশের বিপন্ন প্রজাতির জৈব ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য যেমন বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণের প্রচেষ্টা করা হয়। মহারাষ্ট্রে একটি ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু রয়েছে এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বছরে ৪০০ মিলিমিটার থেকে ৬০০০ মিলিমিটারের মধ্যে হয়, রাজ্যের কোঙ্কন এলাকায় সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়। বছরের গড় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। ছয়টি প্রশাসনিক জেলা এবং পাঁচটি প্রধান অঞ্চল সহ, মহারাষ্ট্রে ১৯-টি রাজ্যসভা আসন বা উচ্চতর কক্ষ এবং ৪৮-টি লোকসভা আসন বা নিম্নতর কক্ষ রয়েছে।

মহারাষ্ট্রের ইতিহাস

মহারাষ্ট্রের ইতিহাস, সেখানে রাজত্ব করা বেশ কিছু বিখ্যাত শাসক এবং রাজাদের দ্বারা সুপ্রসিদ্ধ ছিল, যাঁরা তাঁদের নামের পিছনে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক বিশাল ছাপ রেখে গেছেন। ঐতিহাসিক প্রমাণ অনুযায়ী, তৃতীয় শতকে মহারাষ্ট্রের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায় এবং সেইসময় এটি শিল্পায়ন, বাণিজ্যিক লেনদেন ও ব্যবসার কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছিল। পূর্বে, এখানে ভকতাকাদের শাসন ছিল, যারা ছিল বিখ্যাত যোদ্ধা। তারা রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে দণ্ডকারণ্য রাখেন, যার অর্থ জঙ্গল রাজাদের অধীনস্থ। তবে তারা যাদবদের দ্বারা পরাজিত হয় এবং ১২৯৬ খ্রীষ্ট-পূর্বাব্দে মুসলিম সম্রাট আলাউদ্দীন খলজী এই রাজ্য দখল করার পূর্বে বেশ কিছু বছর ধরে তারা এখানে তাদের শাসন চালায়। তাঁকে অনুসরণ করে মুসলিম শাসকেরা যথা মহম্মদ বিন তুঘলক এবং বিজাপুরের সুলতান বাহমনি-ও এখানে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠারা এখানে প্রবেশ করে, মোঘলদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় এবং ১৬৮০ সালে মহারাষ্ট্রের রাজা হয়ে ওঠেন। পরবর্তী কালে এই রাজ্য পেশোয়া রাজবংশের অধীনে চলে যায়, যারা বিভিন্ন যুদ্ধে ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হয়ে তাদের রাজত্ব হাতছাড়া করে ফেলে। যেহেতু ১৯৪৭ সালে ভারত তার স্বাধীনতা অর্জন করে, সেহেতু বোম্বে পুনর্গঠন আইনের তত্ত্বাবধানে, ১৯৬০ সালে পৃথক দেশীয় রাজ্যগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করে বর্তমান মহারাষ্ট্রের গঠন করা হয় এবং আইনগত ও আনুষ্ঠানিকভাবে মহারাষ্ট্রকে ভারত সরকারের অধীনে একটি পৃথক আলাদা রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

মহারাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান

মহারাষ্ট্র, দাক্ষিণাত্য মালভূমির এক উল্লেখযোগ্য অংশ যেখানে সহ্যাদ্রি শৃঙ্গ বা পশ্চিমঘাট পর্বত তথা রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চল প্রাকৃতিক দৃঢ়তা গঠন করে। পশ্চিমঘাটের সর্ব্বোচ্চ শিখর কলুসবাই এবং পশ্চিমে কোঙ্কন উপকূলীয় সমভূমি দ্বারা আচ্ছাদিত। এর পূর্বদিকে রয়েছে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি। পশ্চিমঘাট খাড়াই পর্বত দ্বারা বৈচিত্র্যময় এবং নিয়মিত অন্তরে সড়ক দ্বারা দ্বিখন্ডিত। উত্তরে সাতপুরা পর্বত এবং পূর্বদিকে চিরোলি-ভমরাগড়-গাইখুরি পর্বতশ্রেণী এই রাজ্যের প্রাকৃতিক সীমার কাজ করে। মহারাষ্ট্রের প্রধান নদীগুলি হল গোদাবরী নদী, কৃষ্ণা নদী এবং তাপ্তি নদী। রাজ্যে তিনটি স্বতন্ত্র ঋতু সহ একটি বিচিত্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় মৌসুমী জলবায়ু রয়েছে, যেমন উষ্ণ, দগ্ধ গ্রীষ্মকাল এবং ঠান্ডা, শীতল শীতকাল। মৌসুমী বায়ু সাধারণত কোঙ্কন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং রাজ্যের বাকি জায়গাগুলিতে হালকা বৃষ্টি হয়। এই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হল এখানে খোলা উন্মুক্ত জঙ্গলে প্রাকৃতিক গাছপালা বেড়ে ওঠে, যা রাজ্যের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ১৭-২০ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে। ভূ-সংস্থান ও জলবায়ু পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে এখানে চিরহরিৎ পর্ণমোচী অরণ্য গড়ে উঠেছে। এখানকার মৃত্তিকা অবশিষ্ট ধরনের, কৃষ্ণ বর্ণের, এঁটেল প্রকৃতির, আর্দ্রতা অপরিবর্তিত এবং লৌহ মিশ্রিত, অর্থাৎ অগভীর এবং নিম্ন মানের, যা সব রকম ফসল ফলনের জন্য অনুপযুক্ত।

অর্থনীতি এবং পরিকাঠামো

উচ্চ স্থূল ঘরোয়া উৎপাদক (জি.ডি.পি) এবং মাথা পিছু আয়ে, ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য এবং তৃতীয়-সর্ব্বোচ্চ নগরকেন্দ্রিক রাজ্য হিসাবে পরিচিত। মুম্বাই, দেশের আর্থিক রাজধানী সহ প্রধান ব্যাংক-গুলির সদর দপ্তর, উচ্চস্তরীয় বীমা সংস্থান, সুপরিচিত মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। এটি ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনের শিল্প কেন্দ্র, যা দেশের বাকি অংশ তথা পাশাপাশি বিদেশী বাজার থেকেও প্রতি বছর এই রাজ্যের জন্য কোটি কোটি টাকা আয় করে আনে।

মহারাষ্ট্রের প্রধান শিল্পগুলি হল তুলা বয়ন, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, পরিবহন, বৈদ্যুতিক, ধাতব পদার্থ। অন্যান্য শিল্পগুলি হল চিনি, ঔষধ, গাঢ় রাসায়নিক, তৈল রাসায়নিক পদার্থ, গাড়ির যন্ত্রাদি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে বিকশিত হয়েছে। রাজ্যে নির্মিত জিপ গাড়ি, তিন-চাকা গাড়ি, গাড়ি, কৃত্রিম তন্ত্তু এবং মাদক শিল্প থেকেও ভালো আয় হয়। সফটওয়্যার শিল্প এই এলাকায় ভালো কাজ করছে এবং ভারতের সফটওয়্যার রপ্তানিতে এই রাজ্য প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রেখেছে। মহারাষ্ট্র কৃষিজ ফসল উৎপাদনেও সুপরিচিত যেমন ধান, বাজরা, জোয়ার, গম, বিভিন্ন প্রকারের ডাল, পেঁয়াজ, হলুদ এবং বিভিন্ন প্রকারের তৈলবীজ যেমন সূর্যমুখী, চীনাবাদাম ও সোয়াবিন। আম, আঙ্গুর, কলা এবং কমলালেবুর অধিক ফলন সহ এখানে ফলের চাষও প্রচলিত রয়েছে। দেশের বৃহত্তম শেয়ার-বিনিময় কেন্দ্র, বোম্বে শেয়ার-বাজার মহারাষ্ট্রে অবস্থিত।

জনসংখ্যা

মহারাষ্ট্রের বিশাল ভৌগোলিক অবস্থান সহ জনসংখ্যা প্রায় ১১২,৩৭২,৯৭২ জন এবং এইভাবেই ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যের তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শহর কেন্দ্রিক জনসংখ্যা এখনও প্রায় ৫০ শতাংশেরও কম এবং পুরুষ ও মহিলার অনুপাত সহ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত। জনসংখ্যার অধিকাংশই মারাঠী হিন্দুদের নিয়ে গঠিত, যারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮২ শতাংশ দখল করে রয়েছে। রাজ্যজুড়ে শ্রীগণেশ, প্রধান পূজ্য দেবতা হিসাবে পূজিত হন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-কে ভিন্ন নামে ‘ভিঠ্ঠল’ রূপে পূজো করা হয়। হিন্দুদেরকে ওয়ারকারি ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুর শিষ্য। মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ মুসলিমদেরকে নিয়ে এর পরবর্তী বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় গঠিত, যারা প্রধানত মুম্বাই থানে উপকূলবর্তী এলাকা এবং মারাঠওয়ারা অঞ্চলে বসবাস করে। কোঙ্কন এবং রাজ্যের পশ্চিমাংশেও মুসলিম সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য রূপে রয়েছে। নাগপুর এবং মুম্বাই-তে সবচেয়ে অধিকাংশ শহর কেন্দ্রিক মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলি হল বৌদ্ধ, শিখ, জৈন এবং খ্রীষ্টান। এই রাজ্যের বিক্ষিপ্ত অংশে ক্যাথলিক খ্রীষ্টান এবং প্রোটেসটেন্ট বা মারাঠী খ্রীষ্টানদের বিশাল সংখ্যায় দেখা যায়।

সরকার ও রাষ্ট্রনীতি

ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির ন্যায়, মহারাষ্ট্রের বিধানসভা সমাবেশের মন্ত্রীরা ২৮৮ জন এম.এল.এ-কে পাঁচ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত করে সরকার নির্বাচন করে। একটি দ্বিকক্ষ আইন সভা সহ, রাজ্যের প্রধান দুটি কক্ষ রয়েছে- বিধান পরিষদ (ব্যবস্থাপরিষদ) বা উচ্চ কক্ষ এবং বিধান সভা বা নিম্ন কক্ষ। কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিযুক্ত, রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের প্রধানতম ব্যক্তি এবং মুখ্যমন্ত্রী সরকারের প্রধান হিসাবে রয়েছেন, যাকে বিধান সভার সদস্যেরা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে মনোনীত করেন। এখানে রাজ্য সভার জন্য ১৯-টি আসন এবং লোকসভার জন্য প্রায় ৪৮-টি আসন রয়েছে। স্বাধীনতার পরে, একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল ভারতীয় কংগ্রেস, এই রাজ্য এবং তার রাজধানী মুম্বাই-য়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে আধিপত্য বিস্তার করে। অন্যান্য শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হল- ভারতীয় জনতা দল এবং স্বর্গীয় বাল ঠাকরে দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কুখ্যাত শিবসেনা দল। সাম্প্রতিককালে শিবসেনা থেকে বিচ্ছিন্ন রাজ ঠাকরের নেতৃত্বে এম.এন.এস বা মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা নামে একটি ছোট্ট শাখা, যা রাজ্যের একটি কট্টর ধর্মীয় দল। যার অস্তিত্ব মারাঠী (মহারাষ্ট্রের জনসংখ্যার এক বৃহৎ অংশ জুড়ে থাকা) এবং অ-মারাঠীদের মধ্যে কখনও কখনও ধর্মীয় দাঙ্গার কারণ হয়ে ওঠে।

শিক্ষা

রাজ্যে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ২১-টি ডিমড্ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯-টি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় সহ মহারাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত, যেখানে লাখ লাখ ছাত্র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক দ্বারা শিক্ষিত হয়ে উঠছে। এখানে ৭৫,০০০ এরও বেশী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ২০,০০০ মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলি হয় রাজ্য পর্ষদ কিংবা সি.বি.এস.ই বা আই.সি.এস.ই দ্বারা অনুমোদিত। এখানে প্রায় ৩৫০-টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আছে যেগুলিতে ইঞ্জিনিয়ারিং-য়ের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। এখানে ৬০০-টিরও বেশী প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলিতে রাজ্যের এবং সেইসঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে আগত শিক্ষার্থীদের শিল্প ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদান করা হয়। এই সমস্ত কিছুই মহারাষ্ট্রের শিক্ষিতের হারের মাত্রাকে প্রায় ৮৩ শতাংশে বৃদ্ধি করেছে যা নিঃসন্দেহে ভারতের জাতীয় গড় শিক্ষিত অনুপাতের উপরে রয়েছে। দ্য ইউনিভারসিটি অফ মুম্বাই ১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা এখনও সারা দেশ জুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চ মানের শিক্ষা প্রদান করে চলেছে। দ্য ইউনিভারসিটি অফ পুণে এবং দ্য ইউনিভারসিটি অফ নাগপুর বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এইগুলি ছাড়াও, রাজ্যে অনেক মেডিক্যাল কলেজ, ল্য কলেজ এবং বি-স্কুল রয়েছে। স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যেমন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলোজি, বোম্বে এবং দ্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়্যন্স এড্যুকেশন আ্যন্ড রিসার্চ, পুণে তার উচ্চ মানের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার ও বিদ্বান ছাত্রদের তালিকা সহ এই রাজ্যকে গর্বিত করেছে।

সমাজ ও সংস্কৃতি

মহারাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অনন্য মিশ্রণ রয়েছে। এখানকার অধিবাসীদের এক প্রধান অংশ হিন্দু হওয়ায়, গণেশ চতুর্থী এমন একটি উৎসব যেটি সারা রাজ্য জুড়ে মহা ধূমধাম ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। এগুলি ছাড়াও, হোলি, দশেরা, দীপাবলি, পাশাপাশি ঈদ এবং খ্রীষ্টমাসও বিশালাকারে পালিত হয়। এখানে অন্যান্য পালিত উৎসবগুলি হল গুড়ি পড়ওয়া, নারালি পূর্ণিমা, মহরম, মহাশিবরাত্রি এবং ভাটা পূর্ণিমা। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলি ছাড়াও, অন্যান্য কয়েকটি হল যেমন ঔরঙ্গাবাদের ঈলোরা অজন্তা উৎসব এবং এলিফেন্টা উৎসবও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।

বিভিন্ন উৎসবের সময় লোকনৃত্য খুবই জনপ্রিয় এবং বিশেষ অনুষ্ঠানগুলির সময় বিভিন্ন লোকনৃত্য সঞ্চালনা করা হয়, যা এই জায়গার সংস্কৃতির সত্য সারাংশ। এগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল ঢাঙ্গারি, লাভনি, পোভাদাস, তামাশা এবং কোলি নৃত্য। তাদের মধ্যে কলা ও ডিন্ডি ধর্মীয় নৃত্য রূপে বিবেচিত হয়। সঙ্গীত এই রাজ্যের হৃদয়ে রয়েছে এবং এর প্রাথমিক একটি রূপ, নাট্য সঙ্গীত যা অভিজ্ঞ সঙ্গীতজ্ঞ দ্বারা মঞ্চে পরিবেশিত হয়। গ্রামীণ মারাঠীদের মধ্যে লোকসঙ্গীত একটি অতি সাধারণ জিনিষ যেমন ভালেরি, যা শ্রমিকদের উৎসাহিত করতে গাওয়া হত। ভারূদ, ভজন, কীর্ত্তন এবং টুম্বাড়ী এবং আরোও অনেক সঙ্গীতের রূপ ছাড়াও মহারাষ্ট্রীয় ঘুমপাড়ানি গান পালানে এখানে বেশ জনপ্রিয়। বেশ কিছু কারুশিল্প যেমন কোলাপুরী চপ্পল এবং গহনা, বিদ্রিওয়ের, ওয়ার্লী পেন্টিং, পৈঠানি শাড়ি ইত্যাদি বিশ্বব্যাপী সাদরে গৃহীত হয়েছে।

মহারাষ্ট্র পর্যটন

মহারাষ্ট্র সারা পৃথিবী থেকে আগত প্রচুর পর্যটকদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। এই স্থানটি শত শত গুহা এবং পাথর খোদিত উন্নত স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। মুম্বাই, রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ পরিদর্শনমূলক স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। চলচ্চিত্র শিল্প, ভারতের প্রবেশ দ্বার, মেরিন ড্রাইভ, জুহু বীচ, এসেল ওয়ার্ল্ড, সিদ্ধি বিনায়ক মন্দির, হাজি আলি দরগাহ, মণি ভবন, জাহাঙ্গির আর্ট গ্যালারি ইত্যাদি যে কেউ উপভোগ করতে পারেন। আরও কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করা যেতে পারে যেমন পুণেতে অপু ঘর এবং বানেশ্বর, ঔরঙ্গাবাদের অজন্তা ও ঈলোরা গুহা, নাসিকের ভাহমাগিরি, সমস্ত প্রধান শহরগুলি জুড়ে অবস্থিত বিভিন্ন বাঁধ যেমন খাড়কওয়াসলা এবং পানশেট বাঁধ এবং আরোও অনেক কিছু। সাহাদ্রি, রাজমাচি দূর্গ এবং ওয়াকি উড হল এমন কিছু জায়গা যেগুলি ট্রেকারদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। বোর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পেঞ্চ জাতীয় উদ্যানের ন্যায় বেশ কিছু জাতীয় উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আবাসস্থল হল এই রাজ্য। বেশ কিছু স্থান যেমন অম্বরনাথ মন্দির, কৈলাশ মন্দির, আফগান মেমোরিয়্যাল, ওশো আশ্রম, শ্রী হাজূর সাহেব এবং বিবি কা মকবারা ঐতিহাসিক আগ্রহ এবং ধর্মীয় উৎসাহের জন্য পরিদর্শন করা যেতে পারে। রাজ্যে অনেকগুলি সৈকত রয়েছে যেমন মধ আইল্যান্ড সৈকত, কিহিম ও মান্ডওয়া, হরনাই এবং দর্শনীয় কিছু পার্বত্য শহর রয়েছে যেমন আম্বোলি, লোনাভলা, খান্ডালা এবং পঞ্চগনি। বেশ কিছু সৌধ যেমন চাঁদ মিনার, লাল মহল এবং কেশরি ওয়াড়া এবং দূর্গ যেমন মুম্বাই দূর্গ, প্রতাপগড় দূর্গ এবং দৌলাতাবাদ দূর্গ ইত্যাদি পর্যটকেরা এখানে এলে দেখতে পাবেন।

জলবায়ু

উপকূলীয় এলাকায়, জানুয়ারী মাসে গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে ১৬ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (৬১ ডিগ্রী ফারেনহাইট) এবং গড় সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রার পরিমাণ থাকে ৩২ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (৯০ ডিগ্রী ফারেনহাইট)। জুন মাসে, গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমাণ থাকে ২৬ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (৭৯ ডিগ্রী ফারেনহাইট) এবং গড় সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রার পরিমাণ থাকে ৩২ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (৯০ ডিগ্রী ফারেনহাইট)। ভূমি এলাকায় জানুয়ারীতে গড় তাপমাত্রার পরিমাণ ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ২৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস (৫৭ ডিগ্রী থেকে ৮৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট) এবং মে মাসে ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস (৭৭ ডিগ্রী থেকে ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট)-এর মধ্যে থাকে। মহারাষ্ট্রে বর্ষা ঋতুরও প্রাধান্য রয়েছে, বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ শতাংশ এই সময়ই প্রাপ্ত হয়।

জেলা ও বিভাগ

মহারাষ্ট্রের রাজ্যটি ছয়টি রাজস্ব বিভাগে বিভক্ত রয়েছে; সেগুলি হল মুম্বাই (কোঙ্কন), পুণে (পশ্চিমী মহারাষ্ট্র), নাসিক (খন্ডেষ), ঔরঙ্গাবাদ (মারাঠওয়াড়া), অমরাবতী (বিদর্ভা) এবং নাগপুর (বিদর্ভা)। এগুলি আবার ৩৫-টি জেলায় বিভক্ত রয়েছে। সেগুলি হল – থানে, পূণে, মুম্বাই, সার্বাবান, নাসিক, নাগপুর, আহমেদনগর, শোলাপুর, জলগাঁও, কোলহাপুর, ঔরঙ্গাবাদ, নান্দেদ, মুম্বাই শহর, সাতরা, অমরাবতী, সাঙ্গলি, যবতমল, রায়গড়, বুলদানা, বিদ, লাতূর, চন্দ্রপুর, ধূলে, জালনা, পার্বনী, আকোলা, ওসমানাবাদ, নন্দুরবার, রত্নগিরি, গোন্ডিয়া, ওয়ার্ধা, ভান্ডারা, ওয়াশিম, হিঙ্গোলি, গডচিরোলি এবং সিন্ধুদূর্গ। এই জেলাগুলি আবার ১০৯-টি উপ-বিভাগে এবং ৩৫৭-টি তালুকে বিভক্ত রয়েছে।

উৎসব

রাজ্যের উৎসাহিত মানুষজন উৎসবমুখর। মহারাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলঃ জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত কালা ঘোড়া উৎসব, ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত এলিফ্যান্টা সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান, মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত গুড়ি পড়ভা এবং রামনবমী, এপ্রিল- মে মাসে অনুষ্ঠিত অক্ষয় তৃতীয়া, মহারাষ্ট্র দিবস, মহাবীর জয়ন্তী, বুদ্ধ জয়ন্তী। মে-জুন মাসে অনুষ্ঠিত ভাট পূর্ণিমা, জুলাই/আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত গোকূলাষ্টমী, নবরোজ বা ফরাসী নববর্ষ, আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত শ্রীগণেশ চতুর্থী, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নারিয়েল পূর্ণিমা, রমজান (মুসলিম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভিন্ন মাসে অনুষ্ঠিত হয়), অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত দশেরা, জৈষ্ঠ্যাতে অনুষ্ঠিত সাবিত্রী ব্রত।

ভাষা

মহারাষ্ট্রের অধিবাসীদের অধিকাংশেরই প্রচলিত প্রধান কথ্য ভাষা হল মারাঠী। সিন্ধু-আর্য পারিবারিক ভাষা থেকে এটি এসেছে এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা থেকে এর উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়। মারাঠী, রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন উপভাষায় উচ্চারিত হয়। মহারাষ্ট্রের শহরাঞ্চল থেকে গ্রামে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এখানে কথা বলার স্বর ও ধরণ পরিবর্তিত হয়। মারাঠীর প্রধান উপভাষাগুলি হল উচ্চস্তরীয় মারাঠী এবং ওয়ারহাড়ী মারাঠী। অন্যান্য উপভাষাগুলির মধ্যে রয়েছে ডাঙ্গি, অহিরাণী, ভাডবলী, খন্ডেষী, সমবেদী এবং মালওয়ানী। এই উপভাষাগুলি আঞ্চলিক ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয় যেমন গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী এলাকায় ডাঙ্গলি উপভাষার প্রভাব রয়েছে, অন্যদিকে রাজ্যের বিদর্ভা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশী ভারদাহী উপভাষা ব্যবহৃত হয়। মজার ব্যাপার হল, এই উপভাষাগুলির মধ্যে একটি দুটি শব্দ ব্যতীত এদের মধ্যে সেরকম কোনও পার্থক্য নেই, যা অন্যান্যগুলির থেকে একটি স্বতন্ত্র শব্দ তৈরী করে। মুম্বাই যেহেতু হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের কেন্দ্রস্থল তাই মারাঠীর পর হিন্দি দ্বিতীয় কথ্য ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইংরাজী এখানকার সরকারি ভাষা এবং রাজ্যে সাধারণভাবে এটি দপ্তরি ভাষা হিসাবে পরিচিত। মহারাষ্ট্রের বেশ কিছু অংশে তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কোঙ্কনি ভাষারও ব্যবহার রয়েছে। রাজ্যে অন্যান্য আরোও বেশ কিছু প্রচলিত কথ্য ভাষা রয়েছে যেমন উর্দূ, কন্নড়, তেলেগু, গুজরাটি এবং ভোজপুরী, যা প্রধানত রাজ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নির্ভর করে।

পরিবহন

মহারাষ্ট্র তার বিভিন্ন পরিবহন মাধ্যম সহযোগে দেশের বাকিদের সাথে পাশাপাশি বিশ্বের সমস্ত অংশের সঙ্গে সু-সংযুক্ত রয়েছে। মুম্বাইতে বেশ কিছু অন্তর্দেশীয় এবং সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে, যা দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর রূপে বিবেচিত হয়। সরকারি ও বেসরকারী উভয় বিমান সংস্থাগুলিই এখান থেকে তাদের বিমানগুলিকে পরিচালনা করে। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায়, এই রাজ্যের মধ্যে ৪৮-টি জাহাজ-বন্দর রয়েছে যেগুলি সীমিত ক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রীবাহী ট্রাফিক দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এগুলির মধ্যে মুম্বাই বন্দর এবং জে.এন বন্দর সমস্ত জায়গায় সুপরিচিত। ভারতীয় রেল এই রাজ্যের পরিবহনে ভালো অবদান রেখেছে এবং মহারাষ্ট্রের প্রতিটি ছোট গ্রাম ও শহরের জন্য এখানে রেল উপলব্ধ রয়েছে। শহরের অভ্যন্তরে, লোকজন সাধারণত লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভর করে রয়েছে যা শহরের জীবনরেখা হিসাবে পরিচিত। যাত্রীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য এম.এস.আর.টি এবং বি.ই.এস.টি বাস পরিষেবার ব্যবহার করেন। এগুলি ছাড়াও, ভাড়া গাড়ী, অটো রিকশা, ট্যাক্সি এবং ইন্টার-সিটি বাসও রাজ্য জুড়ে ধারাবাহিক ভাবে চলাচল করে।

* সর্বশেষ সংযোজন : ১৩ - ই মার্চ, ২০১৫