free_shipping_English_728x90

লাক্ষাদ্বীপ মানচিত্র

Store-banner

Lakshadweep Map in Bengali

লাক্ষাদ্বীপ মানচিত্র
* মানচিত্রে কেন্দ্রশাষিত অঞ্চলগুলি লাক্ষাদ্বীপকে বিস্তারিত ভাবে দেখানো হয়েছে৷

লাক্ষাদ্বীপের উপর তথ্যাবলী

আধিকারিক ওয়েবসাইট www.lakshadweep.gov.in
স্থাপনের তারিখ 1 নভেম্বর, 1956
আয়তন 32 বর্গ কিলোমিটার
ঘনত্ব 2013/ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা(2011) 64,473
পুরুষ জনসংখ্যা(2011) 33,123
মহিলা জনসংখ্যা(2011) 31,350
জেলার সংখ্যা 1
রাজধানী কাভারত্তি
অরণ্য ও জাতীয় উদ্যান পিট্টি পক্ষী সংরক্ষণ
ভাষা দিভেহি, মালায়ালম, জেসেরি, তামিল, মাহী, ইংরাজী
রাষ্ট্রীয় পশু বাটারফ্লাই ফিশ
রাষ্ট্রীয় পাখি নোডী টের্ন
রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ ব্রেড ফ্রুট
সাক্ষরতার হার (2011) 86.55%
প্রতি 1000 জন পুরুষে মহিলার সংখ্যা 946
বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র 0
সংসদীয় নির্বাচনক্ষেত্র 1

লাক্ষাদ্বীপ সম্পর্কে

আরব সাগরে অবস্থিত লাক্ষাদ্বীপ, ভারতীয় উপমহাদেশের একটি অংশ এবং ভারতের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রূপে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মালায়ালম ও সংস্কৃত-এ লাক্ষাদ্বীপের অর্থ হল “লক্ষ্য দ্বীপ”। তার নাম অনুসারে, এই দ্বীপপুঞ্জগুলি খুবই সুন্দর এবং যে সমস্ত মানুষেরা সমুদ্র-সৈকত, জল ক্রীড়া এবং সামুদ্রিক খাদ্য পছন্দ করেন তাদের জন্য এই দ্বীপটি সত্যিই অবকাশ যাপনের উপযুক্ত।

সমগ্র লাক্ষাদ্বীপ ছোট ছোট দ্বীপের সমষ্টি যেগুলি একে অপরের কাছাকাছি অবস্থিত। এটি মোট ১২-টি প্রবাল প্রাচীর, ৫-টি তট, ৩-টি প্রবাল আবৃত পাহাড় এবং বেশ কিছু ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এটি কেরালা উপকূলের নিকটে অবস্থিত এবং এটি কেরালা রাজ্য ও কেরালা উচ্চ-আদালতের অধীনে পড়ে। এর রাজধানী হল কাভারত্তি এবং এটি ভারতীয় উপমহাদেশের একটি সবচেয়ে সুন্দর জায়গা রূপে বিবেচিত হয়।

এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি ১৯৫৬ সালের ১-লা নভেম্বর গঠিত হয়। এখানকার রাষ্ট্রীয় প্রাণী হল বাটারফ্লাই ফিশ্ এবং রাষ্ট্রীয় পাখি হল সুতী টের্ন। রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ হল ব্রেড ফ্রুট। এখানে প্রচলিত কথ্য ভাষাগুলি হল মালায়ালম, হিন্দি, মাহী এবং তামিল।

এটি ৩৬-টি দ্বীপপুঞ্জের সমষ্টি এবং এর মোট আয়তন হল প্রায় ৩২ বর্গ কিলোমিটার যা আরব সাগরের প্রায় ৩০,০০০ বর্গ মাইল এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই ৩৬-টি দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে মাত্র ১০-টি অধিষ্ঠিত রয়েছে এবং সেগুলি হল আন্দ্রোত, আমিনি, আগত্তি, বিত্রা, চেট্টলাট, কাডমট, কালপেনি, কাভারত্তি, কিলত্তন এবং মিনিকয়। জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল, দ্বীপপুঞ্জগুলির বিভিন্ন তথ্য-লাক্ষাদ্বীপের দ্বীপপুঞ্জগুলির সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান প্রদান করে। একটি অপ্রতিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দ্বারা আশীর্বাদিত, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এই সুন্দর প্রবাল আবৃত দ্বীপটি আধুনিক পরিকাঠামোগত সুবিধা ও নিদারুণ সৌন্দর্যের এক আকর্ষণীয় মিশ্রন, যা সারা বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটকদের আকর্ষিত করে।

ইতিহাস

স্থানীয় ঐতিহ্যের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লাক্ষাদ্বীপের ইতিহাস, কেরালার শেষ চেরা রাজা চেরামান পেরুমল-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে জানা যায়। ঐতিহাসিকদের মতে আরব বণিকদের নির্দেশে তিনি ইসলাম ধর্মে রূপান্তরিত হন এবং তার রাজধানী ক্রাগানোর ছেড়ে দেন, যা বর্তমানে মক্কার কোদূঙ্গালোর নামে পরিচিত। রাজার অনুসন্ধানের জন্য অনেক অনুসন্ধান দলকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল। তবে, একটি ভয়ঙ্কর ঝড়ে, বঙ্গারমা নামে একটি দ্বীপপুঞ্জে তাদের জাহাজটি ভেঙ্গে পড়ে। ঝড়ের প্রভাব শমিত হওয়ার পর, এই দল আগত্তি দ্বীপে এসে পৌঁছায় এবং নিজস্ব ঘরে ফিরে আসার সময় তারা লাক্ষাদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জগুলি অতিক্রম করে। কিছু কিছু সৈন্য আমিনি নামক একটি দ্বীপে বসবাস করতে শুরু করে।

লাক্ষাদ্বীপে ইসলামি ইতিহাস সপ্তম শতাব্দীর পুরনো যখন সন্ত উবেদুল্লাহ ইসলাম ধর্মের প্রচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতেন। তার জাহাজটি ভেঙ্গে পড়ায় তিনি নিজেকে এই দ্বীপটিতে খুঁজে পান এবং এভাবেই তিনি এখানে পৌঁছান। এখানেই তিনি বিবাহ করেন এবং সাফল্যের সঙ্গে এখানকার মানুষদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করেন। আন্দ্রোতে তার কবরটি এখনও রয়েছে এবং এখন সেটি একটি পবিত্র স্থান।

পর্তুগীজদের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে লাক্কাদ্বীপে (পূর্বে লাক্ষাদ্বীপ নামে পরিচিত) লুঠতরাজ শুরু হয়ে যায়। তারা অযথা কর্তৃত্ব স্থাপণে আগ্রহী ছিল। যদিও পর্তুগীজরা খুব বেশি দিন কর্তৃত্ব করতে পারে নি। এটি অনুমান করা হয় যে, স্থানীয় মানুষেরা তাদেরকে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করেন।

আধুনিক ইতিহাসের মতে, ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে লাক্ষাদ্বীপে চিরাক্কলের রাজার রাজত্ব চলত। কিছু দিন পর বেশ কিছু দ্বীপপুঞ্জ টিপু সুলতানের আয়ত্তে চলে আসে। ১৭৯৯ সালে, ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে আবির্ভূত হয়। পরবর্তীকালে, ১৮৫৪ খ্রীষ্টাব্দে সমগ্র লাক্ষাদ্বীপ ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে চলে আসে। স্বাধীনতার পর, এই দ্বীপপুঞ্জ-গুলি ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অধীনে এসে যায় এবং ১৯৫৬ সালে এটি এক পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রূপে গড়ে ওঠে।

ভৌগোলিক অবস্থান

লাক্ষাদ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান খুবই সুন্দর ও আকর্ষণীয়। এখানে সমৃদ্ধ উদ্ভিদ-প্রাণীজগত এবং গাছপালার বৈচিত্র্য রয়েছে। সমস্ত দ্বীপপুঞ্জগুলি প্রবাল দ্বীপ, অবিশ্বাস্য উপহ্রদ, স্বচ্ছ নীলাভ জল এবং স্বভাবতই জ্যোর্তিময় বালুকাময় সৈকত নিয়ে গঠিত। এটি ৩৬-টি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে অধিকাংশই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। দ্বীপপুঞ্জটি কেরালার কোচি থেকে ২২০ কিলোমিটার থেকে ৪৪০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে অবস্থান করছে। উপহ্রদের এলাকা প্রায় ৪২০০ বর্গ কিলোমিটার, জলসীমা প্রায় ২০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল হল প্রায় ৪-লাখ বর্গ কিলোমিটার। এই সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি প্রায় ৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আচ্ছাদিত রয়েছে। এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় এবং অবস্থানের দরুণ এখানকার আবহাওয়া সারাবছর মনোরম থাকে। এখানকার আবহাওয়া কেরালার অনুরূপ। এখানকার তাপমাত্রার পরিমাণ ২৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে ৩৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে। এই অঞ্চলের আর্দ্রতার পরিমাণ ৭০ শতাংশ থেকে ৭৬ শতাংশের মধ্যে থাকে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হল ১৬০০ মিলিমিটার, যার বেশিরভাগই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু-প্রবাহের ফলে প্রাপ্ত হয়। এই কেন্দ্রশসিত অঞ্চলটির সমস্ত দ্বীপপুঞ্জে এক অবিচ্ছেদ্য সমু্দ্রতট রয়েছে এবং সমু্দ্র-সৈকতগুলি ঘন নারিকেল গাছ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে।

লাক্ষাদ্বীপ, পার্থিব অবস্থানের দিক দিয়ে ৭১ ডিগ্রী-৭৪ ডিগ্রী পূর্ব অক্ষাংশ এবং ৮ ডিগ্রী-১২ ডিগ্রী ১৩’’ উত্তর দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এই দ্বীপপুঞ্জটি পাঁচটি জলমগ্ন তট, তিনটি প্রবাল আবৃত পাহাড় ও ১২-টি প্রবাল-প্রাচীরের সমন্বয়ে গঠিত।

জনসংখ্যা

লাক্ষাদ্বীপ, অনেকগুলি দ্বীপের সমন্বয় বিশিষ্ট একটি ছোট্ট স্থান। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই স্থানের জনসংখ্যা হল প্রায় ৬৫,০০০ জন। ২০১১ সালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার ঘনত্বে এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২,০১৩ জন মানুষ বাস করে। এখানে পুরুষ ও মহিলা জনসংখ্যা হল যথাক্রমে প্রায় ৩৪,০০০ এবং ৩১,০০০ জন। প্রতি ১০০০ জন পুরুষের অনুপাতে মহিলার সংখ্যা হল প্রায় ৯৪৬ জন। এখানকার স্বাক্ষরতার হার হল প্রায় ৯২.২৮ শতাংশ, যা মূল ভূ-খন্ডের তুলনায় অনেক বেশি। এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিপত্তিই বেশি। এখানকার মানুষ প্রকৃতপক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত থেকে আসা অভিবাসী বংশজাত। এখানকার জনসংখ্যার অধিকাংশই স্ব-দেশীয়। জনসংখ্যার অধিকাংশদেরকেই উপজাতি হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে। তারা নির্ধারিত উপজাতিদের গোষ্ঠী শ্রেণীতে পড়ে। কিন্তু এখানকার অধিকাংশ মানুষই সুন্নি সম্প্রদায়ভূক্ত।

অর্থনীতি

অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের দরুণ এই দ্বীপপুঞ্জটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অসাধারণ। যদিও এখানকার অর্থনীতির প্রধান ক্ষেত্র হল কৃষি তবে মাছ ধরাও এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার অধিবাসীরা নারিকেলের চাষও করে, যা এখানকার প্রধান ফসল এবং এখানকার অধিবাসীদের জীবিকা অর্জনের এক প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। নারিকেল চাষ সম্পর্কিত অনেক শিল্প এখানে রয়েছে। এখানকার শিল্পগুলি, নারিকেলের খোসা নিষ্কাশন ও নারিকেলের উৎপাদনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি এখানে অনেক ছোবড়ার কারখানাও রয়েছে। অধিবাসীদের অধিকাংশই এই সমস্ত কারখানাগুলির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। প্রচুর মাছের উপল্ধতার কারণে, মৎসচাষের দরুণ এখানকার মাথাপিছু আয়ের হিসাবে এই দ্বীপপুঞ্জটি প্রথম স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি, এখানে আরোও বিভিন্ন কারখানাও রয়েছে। এছাড়াও এখানকার এক গুরত্বপূর্ণ শিল্প হল পর্যটন শিল্প যা তাদের আর্থিক উপার্জনের ক্ষেত্রে বড়রকম ভূমিকা পালন করে।

সরকার ও রাষ্ট্রনীতি

লাক্ষাদ্বীপ, ভারতের সবচেয়ে ক্ষুদ্র কেন্দ্রশসিত অঞ্চল এবং এখানে সরকারের বিভিন্ন কার্যনির্বাহী সংস্থা রয়েছে। এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিযুক্ত রাজ্যপাল দ্বারা পরিচালিত হয়। দ্বীপপুঞ্জটি, কেরালার কোচিতে অবস্থিত কেরালা উচ্চ আদালত বিচার-বিভাগীয় এখতিয়ারে রয়েছে। জেলা সদর-দপ্তরটি কাভারত্তি-তে অবস্থিত। সরকার এখানকার বিকাশের জন্য বিভিন্ন বিভাগে উন্নতি করেছে। এই বিভিন্ন বিভাগগুলি জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং সেগুলি খুবই কার্যকরী। দ্বীপপুঞ্জটির দশটি উপ-বিভাগ রয়েছে। মিনিকয় ও আগত্তি উপ-বিভাগগুলি উপ-অধ্যক্ষের এবং অন্য ৮-টি দ্বীপপুঞ্জ উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তার অধীনে থাকে। অধ্যক্ষ এখানকার উন্নয়ন মহাধ্যক্ষ ও জেলা-আধিকারিকও হন যিনি জমি, আইন-শৃঙ্খলা ও রাজস্ব বিভাগের দেখাশোনা করেন। পাশাপাশি, এখানে অতিরিক্ত জেলা আধিকারিক ও দশজন কার্য-নির্বাহী আধিকারিকও রয়েছেন।

সমাজ ও সংস্কৃতি

লাক্ষাদ্বীপের দ্বীপপুঞ্জগুলিতে এক গভীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে যা বহুদিন থেকে চলে আসছে। এখানকার ঐতিহ্য ও প্রথায় বৈচিত্র্য রয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ভূক্ত এই অঞ্চল লোক-উৎসব, লোক-নৃত্য এবং বিভিন্ন ঐতিহ্য নিয়ে গঠিত যা এখানে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কেরালা রাজ্যের নৈকট্যতার দরুণ, এখানকার অনেক ধর্মীয় রীতিনীতি এবং ঐতিহ্য কেরালা দ্বারা প্রভাবিত। এখানে পালিত উৎসবগুলি হল মহরম, বকরি-ঈদ, মিলাদ-উন-নবি ও ঈদ-উল-ফিতর। উৎসবগুলি একটি শক্তিশালী অখন্ডতার অনুভূতি সহ পালিত হয়। খাবারের মধ্য দিয়ে এখানকার মানুষের স্বাদ ও পছন্দ প্রতিফলিত হয়। এখানকার রন্ধনপ্রণালী সামুদ্রিক মাছ ও নারিকেল নিয়ে তৈরী হয়। নারিকেলের জল এখানে পানীয় হিসাবে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এখানকার অধিবাসীরা খাদ্য প্রস্তুতিতে নারিকেলের ব্যবহার বেশি করেন, যা খুবই সু-স্বাদু হয়। মশলাদার আমিষ খাবারের সাথে লোভনীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ তথা ভারতের অধিকাংশ সু্-স্বাদু খাবারের স্বাদ এখানে আপনি গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও, লোভনীয় ইডলি, ধোসা, ভাত ইত্যাদির স্বাদও আপনি নিতে পারেন।

সম্প্রদায়


এখানকার মানুষ অতি সহজ ও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এখানে চারটি প্রধান সম্প্রদায় রয়েছে যেমন মালমি, আমিন্দভী, মেলাচেরি ও কোওয়া। আমিন্দভী হল এখানকার স্থানীয় অধিবাসী যারা প্রথম এখানে আসে। কোওয়ারা ভূ-স্বামী হিসাবে পরিচিত ও মালমিরা হল শ্রমিক শ্রেণীভূক্ত। মেলাচেরিরা হল শ্রমিক সম্প্রদায় যাদের জীবিকা হল নারকেল সংগ্রহ করা। তারা সকলেই একসঙ্গে মিলিতভাবে বসবাস করে এবং দ্বীপপুঞ্জের উন্নতির জন্য কাজ করে।

ভাষা

মালায়লাম এখানে স্থানীয় ভাষা হিসাবে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। যদিও, মিনিকয়-তে মাহী ভাষার ব্যাবহার রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এখানকার লোকেরা অল্প-স্বল্প ইংরাজী ও হিন্দি ভাষাতেও কথা বলেন। মালায়লামের আধুনিক লিপি হল গ্রন্ধা। মাহী লিপিটি ডানদিক থেকে বামদিকে লেখা হয়।

শিক্ষা

এখানে স্বাক্ষরতার হার বেশ উন্নত, যা প্রায় ৯২.২৮ শতাংশ। এখানকার পাঠ্যক্রম কেরালা রাজ্যকে অনুসরণ করে চলে। এখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল- একটি অনাড়ম্বর সম্প্রদায়ের দ্বারা এখানে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ বান্ধব পণ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতার শিক্ষা প্রদান করা হয়। এখানকার শিশুরা মৎস্য শিকার, বন্য জীবন, সামুদ্রিক জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে তাদের মাতা-পিতার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। আপনি মিনিকয় ও কাভারত্তি-তে বেশ কিছু বিদ্যালয় পেতে পারেন। এখানে দশম শ্রেণীর পর উপ-মহাবিদ্যালয়ও পাওয়া যায়। এখানে শিক্ষা ব্যবস্থা কেবলমাত্র দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্তই উপলব্ধ রয়েছে এবং এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য মূল ভূ-খন্ডে যেতে হয়।

পর্যটন

পর্যটন শিল্প এখানে সবচেয়ে সফল এবং সদ্য উন্নত শিল্প। এখানকার পর্যটনের অনুভূতি অন্যান্য পর্যটন গন্তব্যস্থলগুলির থেকে অনেক ভিন্ন। এখানকার প্রকৃতি খুবই সুন্দর ও স্বাভাবিক এবং সামগ্রিকভাবে খুবই চমৎকার।

দীর্ঘ এলাকায় বিস্তীর্ণ সাদা সমুদ্র-তটের সীমা বরাবর সারিবদ্ধ নারিকেল গাছের দৃশ্য খুবই সুন্দর। সবুজ পান্না-আবৃত জলোচ্ছাস এবং চারপাশের শান্তিপূর্ণ প্রকৃতির মুগ্ধতা আপনার এই জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়াকে কঠিন করে তুলবে।

লাক্ষাদ্বীপের বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় সুবিধা রয়েছে। আপনি একটি অতীব সুন্দর দ্বীপ কাভারত্তি এবং অজারা ও জামনাথ মসজিদও পরিদর্শন করতে পারেন অথবা আপনি এখানকার সমুদ্রতটে কেবল আরাম করতে পারেন বা সাঁতারও কাটতে পারেন। কালপেনি হল এখানকার অন্য আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান যেখানে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য ও কোরাল ধ্বংসাবশেষের বিশাল তীরভূমি রয়েছে। এখানে রীফ ওয়াক বা জল-ক্রীড়া যেমন সেইলিং (পালতোলা নৌকা চালনা), প্যাডেল বোট, কায়াক (ক্যানভাস দিয়ে মোড়া ছোট সরু নৌকা) ইত্যাদি উপভোগ করতে পারেন। আগত্তি-তে অনেক জল-ক্রীড়া রয়েছে যেগুলি আপনি উপভোগ করতে পারেন যেমন স্কুবা ডাইভিং, স্নোরকেলিং, গ্লাস-বটোমড এক্সকারশেন, মাছ ধরার ভ্রমণ ও আরোও অনেক কিছু। অন্যান্য কিছু সু-পরিচিত জায়গা হল কাডমট, বঙ্গারাম ও মিনিকয়। কাভারত্তি হল এখানকার সর্ব্বোন্নত দ্বীপ এবং এটি উজরা মসজিদ ও অন্য আরোও ৫২-টি মসজিদের জন্য প্রসিদ্ধ। এখানে সামু্দ্রিক যাদুঘরও দেখা যেতে পারে যা কাঁচের পাটাতন যুক্ত নৌকো থেকে জলের অভ্যন্তরের রোমাঞ্চকর অনুভূতি পাওয়া যায়। লাক্ষাদ্বীপের পর্যটন পারিবারিক অবকাশযাপন, মধুচন্দ্রিমা এবং রোমাঞ্চের জন্য আদর্শ। পর্যটকদের চিত্ত-বিনোদনের জন্য এখানে প্রচুর রিসর্ট ও হোটেল রয়েছে। আপনি এখানে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় প্রকার খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে পারেন।

পরিবহন


লাক্ষাদ্বীপ এমন একটি দ্বীপ যা মূল ভূ-খন্ড থেকে একটু দূরেই অবস্থিত। এটিকে খুব পরিবেশ সংবেদনশীল স্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়, আর সেই কারণেই এই দ্বীপটিতে খুব সামান্য পরিবহন মাধ্যম আপনার চোখে পড়বে। এখানকার দ্বীপগুলি খুবই ছোট হওয়ায়, এখানকার মানুষ হেঁটে যাতায়াত করতেই পছন্দ করে। এছাড়াও বাই-সাইকেলও এখানকার পরিবহনের একটি প্রিয় মাধ্যম। এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাওয়ার জন্য আপনি নৌকা, হেলিকপ্টার এবং ফেরির ব্যবহার করতে পারেন। এখানকার একমাত্র বিমানবন্দর আগত্তি-তে রয়েছে। এখান থেকে মূল ভূ-খন্ডে পৌঁছানোর জন্য আপনি বিমানও পেতে পারেন। কোচি ও গোয়া থেকে আপনি লাক্ষাদ্বীপের জন্য জাহাজের সুবিধাও নিতে পারেন।

* সর্বশেষ সংযোজন : ০৯- ই মার্চ, ২০১৫