free_shipping_English_728x90

গোয়া মানচিত্র

Store-banner

Goa Map in Bengali

গোয়া মানচিত্র
* জেলা, রেলপথ, নদী এবং প্রধান সড়ক সংযোগ সহ গোয়া মানচিত্র৷

গোয়ার উপর তথ্যাবলী

আধিকারিক ওয়েবসাইট www.goa.gov.in
স্থাপনের তারিখ 30 মে, 1987
আয়তন 3,702 বর্গ কিলোমিটার
ঘনত্ব 394/ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা (2011) 1,458,545
পুরুষ জনসংখ্যা(2011) 739,140
মহিলা জনসংখ্যা(2011) 719,405
জেলার সংখ্যা 2
রাজধানী পানাজি
নদীসমূহ মান্ডবী, জুয়ারি, তেরেখোল, ছাপোরাকূসাবতী, শাল, তালপোনা
অরণ্য ও জাতীয় উদ্যান বোন্ডলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মোল্লেম জাতীয় উদ্যান, ডঃ সালিম আলি পক্ষী সংরক্ষণ, কোটিগাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ভগবান মহাবীর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
ভাষা কোঙ্কনি, মারাঠী, ইংরাজী, হিন্দি, পর্তুগীজ
প্রতিবেশী রাজ্য মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক
রাষ্ট্রীয় পশু গয়াল
রাষ্ট্রীয় পাখি কালো ঝুঁটিওয়ালা বুলবুল
রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ মট্টি
রাজ্যের অভ্যন্তরীণ মূল উৎপাদন (2011) 168572
সাক্ষরতার হার (2011) 79.31%
প্রতি 1000 জন পুরুষে মহিলার সংখ্যা 968
বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্র 40
সংসদীয় নির্বাচনক্ষেত্র 2

গোয়া সম্পর্কে

গোয়া- অসাধারণ সৈকত, ঐতিহ্যের স্থাপত্য এবং উপাসনাস্থল হিসাবে সত্যিই ভ্রমণার্থীদের পছন্দের জায়গা। দেশের পশ্চিম অংশে অবস্থিত, আয়তন এবং কম জনসংখ্যার দিক দিয়ে এটি ভারতের একটি ক্ষুদ্রতম রাজ্য। উত্তরে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে কর্ণাটক দ্বারা বেষ্টিত, গোয়া, ভারতের কোঙ্কন উপকূলের এক প্রধান অংশকে আবৃত করে রেখেছে। পানাজি হল গোয়ার রাজধানী এবং এই রাজ্য, মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জি.ডি.পি) সহ ভারতের একটি ধনী রাজ্য হিসাবে বিবেচিত হয়।

সুন্দর বালুকাময় সৈকত ও বিমোহন পর্বত ছাড়াও এর অসাধারণ উত্তেজনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সাক্ষী হতে, প্রতি বছর বিশ্বের সমস্ত জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ এই রাজ্যে ঘুরতে আসে। এই রাজ্যের মোট আয়তন ৩৭০২ বর্গকিলোমিটারের বেশী হবে না এবং এর তটরেখা মোটামুটি ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত। গোয়ায় পর্তুগীজদের সাংস্কৃতিক প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়, যেহেতু এটি তাদের পূর্ব প্রদেশ ছিল। উত্তর গোয়া ২৩৩টি জেলা সহ ৬টি তালুক এবং দক্ষিণ গোয়া ১৫০টি জেলা সহ ৫টি তালুক নিয়ে বিভক্ত। এই রাজ্যের মোট জনসংখ্যা হল প্রায় ১,৪৫৭,৭২৩ জন এবং গোটা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন জনসংখ্যার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এখানকার উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু গোয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের অবকাশের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে গড়ে তুলেছে।

গোয়ার ইতিহাস

গোয়ার ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময়। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর সময়কালে, গোয়া মৌর্য্য রাজবংশের শাসনাধীনে ছিল এবং পরবর্তী সাতবাহন, চালুক্য, শ্রীহরস এবং কদোম্বাস সাম্রাজ্য দ্বারা এই রাজ্য ধারাবাহিকভাবে শাসিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীর সময়কালে গোয়া মুসলিমদের দ্বারা অধিগৃহীত হয় এবং তারপর বিজয়নগর সাম্রাজ্যের হিন্দু রাজা হরিহরকে এলাকা থেকে অপসৃত হতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তী প্রায় ২০০ বছর শাসনের পর, ১৫১০ খ্রীষ্টাব্দে মুসলিমরা পর্তুগীজদের দ্বারা পরাজিত হয় যারা, ব্যবসায়ী হিসাবে এখানে এসেছিল ও পরে উপকূলীয় অঞ্চলগুলির উপর তাদের আধিপত্য বিস্তার করে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর, ভারতীয় সরকার সংগঠন গোয়া হস্তান্তর করার জন্য পর্তুগীজদের বাধ্য করে কিন্তু তারা এবিষয়ে কোনওভাবেই প্রস্তুত ছিল না। ১৯৫৪ সালে, গোয়ার জাতিয়তাবাদীরা পর্তুগীজদের মহল থেকে দাদরা ও নগর হাভেলি দখল করে, ভারতবাসীর জন্য আধিপত্য স্থাপন করে। পরের বছর, সত্যাগ্রহীরা এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে গোয়ায় প্রবেশ করে, এবং পর্তুগাল ও ভারতের মধ্যে ধারাবাহিক মৌখিক আলোচনার মাধ্যমে প্রথমজন পরাজয় স্বীকার করে নেয়। ১৯৬১ সালে, ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী, গোয়া আক্রমণ করে নিজস্ব দখলে নেয় এবং তার ঠিক এক বছর পর গোয়াকে ভারতীয় সরকারের অধীনে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্য্যাদা দেওয়া হয়। আরও ২৬ বছর পর গোয়া রাজ্যাধিকার অর্জন করে এবং অবশেষে, ১৯৮৭ সালে, সরকারি ভাবে গোয়াকে একটি রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু

কোঙ্কন উপকূলীয় এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের জন্য, ভারতীয় উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূলে, গোয়া, তেরেখোল নদীর সঙ্গে একটি প্রাকৃতিক সীমানা ভাগ করে নিয়েছে যা তাকে উত্তরে মহারাষ্ট্র থেকে আলাদা করেছে। এই রাজ্যের পূর্ব দিকে পশ্চিম ঘাট দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং পশ্চিমে রয়েছে বিশাল আরব সাগর। গোয়া, চারটি ভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত- উপকূলীয় সমভূমির কিছু এলাকা যেমন মোর্মূগাঁও, টিসওয়াড়ী, শালসেট এবং বারডেজ, পূর্ব পার্বত্য অঞ্চল গঠিত হয়েছে পশ্চিম ঘাটের কিছু অংশ যেমন সাংগুয়েম, সাতারি, কানকোন এবং পোন্ডা, প্লাবিত সমভূমি গঠিত হয়েছে আবর্তিত উচ্চভূমি এবং উপকূলীয় সমভূমি ও সেইসঙ্গে কেন্দ্রীয় উপত্যকা গঠিত হয়েছে পূর্বীয় সাংগুয়েম, বিচোলিম, পেরনেম এবং কিউইপেম অঞ্চল দ্বারা। প্রধান নদীগুলি মান্ডবী, জুয়ারি, তেরেখোল, শাল, ছাপোরা এবং তালপোনা, রাজ্যের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে মিলিত হয়েছে, বিভিন্ন উপসাগর এবং মোহনা গঠন করে, তটরেখার সৌন্দর্য্য বর্ধন করেছে। গোয়ায় উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং শীতল শীতকাল সহ, একটি সহনীয়, গ্রীষ্মমন্ডলীয় মৌসুমী জলবায়ু রয়েছে। বছরের বাকি দিনগুলিতে, জলবায়ু বেশ মনোরম থাকে। বর্ষা এই রাজ্যের প্রধান ঋতুগুলির মধ্যে একটি, জুলাই মাসে এখানে সর্ব্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়। এই রাজ্যের একটি বিশেষ অংশ অরণ্য দ্বারা আচ্ছাদিত রয়েছে যা এই রাজ্যের জীব-বৈচিত্র্যকে বৃদ্ধি করে।

জনসংখ্যা

গোয়া, কম আয়তন এবং কম জনসংখ্যা সহ, রাজ্যগুলির তালিকার মধ্যে চতুর্থ স্থানে দাঁড়িয়ে আছে৷ এই রাজ্যের বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ। গোয়ার জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ শহুরে হিসাবে পরিচিত, যারা প্রধানত গ্রামীণ অঞ্চল থেকে দূরে থাকে। এখানে ১০০০জন পুরুষদের হিসাবে মহিলার সংখ্যা প্রায় ৯৬০জন এবং এই রাজ্য কম সংখ্যক উপজাতি বাস করে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট বাসিন্দার প্রায় ৬৫ শতাংশ হিন্দু, এদের মধ্যে রয়েছে মারাঠী, তেলেগু, তামিল এবং গুজরাটি, রাজ্যের কাছাকাছি অঞ্চল তাদের দ্বারা প্রভাবিত। এর পরই রয়েছে খ্রীষ্টান, যারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। কিছু পর্তুগীজ উপনিবেশ রয়েছে, যারা প্রায় ৪৫০ বছর ধরে এই রাজ্যে শাসন করেছিল,তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং তারা আজও তাদের সেই পুরনো ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি অনুসরণ করে চলে। ভিন্ন ধর্মের মানুষ যথা ইসলাম, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন-রাও এই রাজ্যে অন্যদের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্হান করে।

অর্থনীতি

গোয়া, মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জি.ডি.পি) সহ ভারতের একটি ধনী রাজ্য হিসাবে বিবেচিত হয়, যা প্রায় ভারতের তিনগুণ। পর্যটন এই রাজ্যের প্রধান শিল্প এবং এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণরূপে এখানকর বিমোহন সৈকত এবং অসাধারণ সৌন্দর্য্যের প্রকৃতির, যা এই জায়গাকে সুসজ্জিত করেছে। প্রতিবছর প্রায় গ্রীষ্মকাল এবং সেই সঙ্গে শীতকালেও মোটামুটি ১২ শতাংশ বিদেশী গোয়ায় ভিড় করে। এই রাজ্য, প্রধান ঋতুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেশীয় ভ্রমণার্থীদের থেকেও অনেক আয় করে। গোয়া রাজ্য খনিজ এবং ধাতব আকরিকে সমৃদ্ধ, সুতরাং খনি-খনন এই রাজ্যের অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। গোয়ার বিভিন্ন অংশে খনিজ আকরিক যেমন ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, বক্সাইট, সিলিকা, মাটি এবং চুনাপাথর খনন করা হয়। দেশের ৪০ শতাংশ লৌহ আকরিক মার্মাগাঁও বন্দর থেকে রপ্তানি হয়। শেসা গোয়া, ডেম্পো, রামপাত রাজ্যের কিছু এলাকা লৌহ আকরিকে সমৃদ্ধ। কৃষি ক্ষেত্রেও এই রাজ্য খুবই উন্নত, প্রধান শস্য ধান ছাড়াও কাজু, সুপারি ,নারকেল ইত্যাদির ফলন হয়। গোয়ার আরও একটি উন্নত শিল্প হল মাছ ধরা যা এখানকার হাজার হাজর মানুষের জীবিকার উৎস। এছাড়াও কীটনাশক, টায়ার, সার, জুতো, ঔষধপত্র, রাসায়নিক, ঢালাই ইস্পাত, টিনজাত মৎস ইত্যাদি শিল্পগুলিও এই রাজ্যের অর্থনীতির একটি অংশ।

পরিবহন

বিশ্বের ভ্রমণার্থীদের কাছে গোয়া, একটি চরম প্রিয় জায়গা হওয়ার জন্য, এটি সুসংযুক্ত এবং যেকোনও জায়গা থেকে এখানে পৌঁছানো যায়। এখানে ডাবোলিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে দেশীয় তথা আন্তর্জাতিক উড়ানের বিভিন্ন উড়ান দেখতে পাওয়া যায়। গোয়া, মুম্বাই-য়ের নিকটস্হ হওয়ায় যে কেউ মুম্বাই থেকে গোয়া যেতে পারে। কোঙ্কন রেলপথের মাধ্যমে অনেক রেলপথ এই রাজ্যের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে যথাক্রমে মুম্বাই ও ম্যাঙ্গলোরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। শুধু তাই নয়, গোয়া থেকে প্রায় দেশের সমস্ত অংশে যাওয়ার জন্য রেল উপলব্ধ হয়। এখানে প্রচুর বাস পরিষেবা রয়েছে, যা গোয়া থেকে বিভিন্ন জায়গা যেমন মুম্বাই, ব্যাঙ্গালুরু, পুণে, ম্যাঙ্গালোর এবং রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় অনবরত যাতায়াত করে। দ্রুত ও আরামদায়ক বাসগুলি ব্যয় সাপেক্ষ হওয়া স্বত্তেও বেশ জনপ্রিয় এবং রেলের বিকল্প। পাউলো ট্র্যাভেলস বাস পরিষেবা, শহরে বিশেষভাবে পরিচিত- যা শহরের প্রায় সমস্ত জায়গায় চলাচল করে। ভ্রমণার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ,প্রতিদিন মুম্বাই থেকে মারগাঁও এবং পুণে যাওয়ার অনেক বাস চলাচল করে। শহরের অভ্যন্তরে, নিত্য যাত্রীদের শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের জন্য অনেক বাস, ট্যাক্সি এবং অটো রিক্সা রয়েছে। মানুষের সামর্থ্য অনুসারে, ব্যক্তিগত গাড়িও, একটি জনপ্রিয় বিকল্প। মোটরসাইকেল ট্যাক্সিও শহরের বিভিন্ন অংশে যোগাযোগের জন্য ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়, যার মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন জায়গার অভ্যন্তরে পৌঁছানো যেতে পারে।

সমাজ ও সংস্কৃতি

গোয়া হল একটি বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক রাজ্য এবং এটি বিভিন্ন বৈচিত্রের ও বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ লোকসংগীত, লোকনৃত্য, মনোরম সংগীত, অবিশ্বাস্য দৃশ্যকলা এবং আকর্ষণীয় লোককথা দ্বারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। সমস্ত ভারতীয় উৎসব যেমন দীপাবলী, দশেরা, হোলি ইত্যাদি এখানে খুবই উদ্যোগ ও আনন্দ সহকারে পালিত হয়। কিন্তু এছাড়া যা গোয়াকে আরও বিখ্যাত করে তুলেছে তা হল ইন্দো-ল্যাটিন উৎসব বা মেলা। তারা শিগমো উৎসব পালন করে, যা রোমের স্যাটারনালিয়া উৎসবের সঙ্গে সাদৃশ্যযুক্ত। শিবরাত্রিও এখানে উৎসাহ ও নিষ্ঠাভরে পালিত হয়। রাজ্যের সমস্ত মন্দিরগুলিতে জাত্রা ব্যাপকভাবে পালিত হয়। প্রতিটি গোয়াবাসী তাদের সঙ্গীতের ধারনা সহজাত মনে করে। ডালপদ এবং মান্ডু হল গোয়ার ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ঘরানা। এছাড়াও ভজন, কীর্ত্তন এবং পাশাপাশি পাশ্চাত্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকেও গোয়াবাসীরা ভালোভাবেই গ্রহন করেছে। ঐতিহ্যবাহী নৃত্য শৈলী যেমন ফাগড়ি, দেখন্নি, দশাবতার এবং কোরির্র্ডিনহো গোয়াবাসীদের মধ্যে প্রবল জনপ্রিয়। গোয়ার তিয়াত্রে বা থিয়েটার বিশ্ব বিখ্যাত। গোয়ায় বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প দেখা যায় যা প্রাকৃতিক উপকরণ যেমন সামুদ্রিক ঝিনুক, পিতল, কাদামাটি এবং বাঁশ দিয়ে তৈরী। এখানকার স্থানীয়রাও নারকেলের খোল, কাঠ, পাট, লাক্ষা, পাথর, সুতো ইত্যাদি দ্বারা হস্তশিল্প তৈরী করে।

ভাষা

১৯৮৭ সালের সরকারি ভাষা আইন অনুযায়ী, এই রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা হল কোঙ্কনি এবং সরকারিভাবে গৃহীত লিপি হল দেবনাগরী। ভারতীয় ভাষাগুলির মধ্যে অন্যতম কোঙ্কনি, ইন্দো-আর্য পরিবার থেকে এসেছে এবং ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল ও স্থানের উপর ভিত্তি করে এর অনেক উপভাষা রয়েছে। কিছু মানুষ কোঙ্কনি লিপিকে রোমানে পরিবর্তন করার জন্য দাবি করেছে যদিও সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি। যখন গোয়া পর্তুগীজ শাসনাধীনে ছিল, তখন এখানকার সরকারি ভাষা ছিল পর্তুগীজ। পুরনো প্রজন্মের কিছু মানুষ এখনও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ হিসাবে এই ভাষার ব্যবহার করে। পর্তুগীজও একটি ভাষা, যা পুরনো উপনিবেশে থাকা পর্তুগীজ সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ মানুষদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এখানকার দ্বিতীয় কথ্য ভাষা হল মারাঠী, যা এখানকার বিদ্যালয়গুলিতে শেখানো হয়। এটি, কোঙ্কনি ভাষার পর দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসাবে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। যেহেতু গোয়াতে প্রচুর পরিমাণে বিদেশী দেখা যায়, তাই এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা কমপক্ষে ইংরাজী ভাষা বোঝার এবং কথোপকথনের জন্য এই ভাষায় শিক্ষা নিয়েছে। কিছু স্থানীয় পথপ্রদর্শক অন্যান্য ভাষা যেমন ফরাসী, ইতালি এবং ডাচ রপ্ত করেছে, যা এইসব জায়গা থেকে আগত পর্যটকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ব্যবহার করে। সমস্ত গোয়াবাসী হিন্দি ভাষা ভালোভাবে বুঝতে এবং কথা বলতেও পারে। এছাড়াও, কিছু সম্প্রদায়ের মানুষ কন্নড়, উর্দূ, গুজরাতি ভাষাতেও কথা বলে।

পর্যটন

“পূর্বের মুক্তো” হিসাবে পরিচিত, বিশ্বের সমস্ত জায়গা থেকে আগত সমস্ত আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হল গোয়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের মহৎ দৃশ্য এবং বিভিন্ন গির্জা, মন্দির এবং পুরনো বাড়ির জাঁকজমক ও স্থাপত্য- গোয়াকে পর্যটকদের কাছে স্বর্গোদ্যান রূপে গড়ে তুলতে অনেক অবদান রেখেছে। যে কেউ এখানকার উত্তর গোয়ার অঞ্জুনা, বামবোলিম, কান্ডোলিম, দোনা পাউলা, মোরজিম ইত্যাদি সৈকতগুলি অথবা দক্ষিণ গোয়ার বেনাউলিম, কোলভা, মাজোর্দা, পালোলেম, ভার্সা ইত্যাদি সৈকতগুলি পরিদর্শন করতে পারে। এখানে অনেক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে যেমন বোন্ডলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও কোটিগাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং কিছু জাদুঘর যেমন গোয়া স্টেট মিউজিয়াম, নাভাল অ্যভিয়েশন মিউজিয়াম, আর্কিওলোজিক্যাল মিউজিয়াম এবং পোট্রেট গ্যালারি, যা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিভিন্ন দূর্গ যেমন তিরাকোল দূর্গ, আগাউয়াড়া দূর্গ এবং বিখ্যাত গির্জা যেমন-ব্যাসিলিকা অফ বম্ জাসুস, সেন্ট অ্যাগ্যাস্টাইন গির্জা ইত্যাদি কিছু সুপরিচিত স্থান, যেগুলি পর্যটকেরা এই রাজ্য থেকে চলে যাওয়ার আগে দেখে যেতে ভালোবাসেন। গোয়া, বিশেষভাবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান ঋতুতে অফুরান আমোদ-প্রমোদ এবং মেলার জন্য খুবই সুপরিচিত। এখানকার বিদেশী সৈকত রিসর্ট এবং বাজেট হোটেল, ভ্রমণার্থীদের অবকাশযাপন অবিস্মরণীয় করে রাখে।

সরকার ও রাষ্ট্রনীতি

রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি লাভের পর, ভারতের বাকি রাজ্যগুলির ন্যায় গোয়াও সরকারী পরিকাঠামো অনুসরণ করে চলে৷ এখানকার রাজ্য সরকার বিধানসভায় ৪০জন সদস্যকে নিয়ে একটি একককক্ষবিশিষ্ট বিধানসভা পরিষদ গঠন করেছে। ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৯০ এর শেষ পর্যন্ত, এই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে, তারপর থেকে ১৫ বছরের মধ্যে, গোয়া প্রায় ১৪টি সরকারের ক্ষমতাধীন হওয়ার সাক্ষী হয়ে আছে। ২০০৫ সালে, গোয়ার তৎকালীন রাজ্যপাল, বিধানসভা ভেঙ্গে দেন এবং সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেন। ২০০৫ সালের জুন মাসে, একটি উপ-নির্বাচন হয় এবং সেখানে বিধানসভার ৫টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে কংগ্রেস জয়লাভ করে। ২০০৭ সালের নির্বাচনে, কংগ্রেস জোট ভোটারদের কাছ থেকে বিপুল ভোট গ্রহন করে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং এই রাজ্যের ঊপর তাদের আইন প্রতিষ্ঠিত করে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরেকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হল বিজেপি যারা তাদের অবস্থান ও আধিপত্যের জন্য লড়তে থাকে। এছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলি হল- জাতিয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি, ইউনাইটেড গোয়ানস ডেমোক্রেটিক পার্টি, এবং মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি। ২০১২ সালে, গোয়ায় বিজেপি, মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সাথে জোট গঠন করে রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে জয়ী হয়। গোয়ার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হলেন শ্রী মনোহর পারিকর এবং রাজ্যের বর্তমান রাজ্যপাল হলেন শ্রী এইচ.ই.ভরত বীর ওয়ানছু।

শিক্ষা

সাক্ষরতার হার ৮৭ শতাংশসহ, গোয়ার রাজ্য সরকার সকলকে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার জন্য উৎসাহিত করে। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত প্রতিটি তালুকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অন্তত একটি করে সরকারি বিদ্যালয় আছে। এই বিদ্যালয়গুলি গোয়া মধ্য শিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ এবং পাশাপাশি আই.সি.এস.ই এবং এন.আই.ও.এস পর্ষদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

ইংরাজী এই রাজ্যের শিক্ষার প্রাথমিক মাধ্যম। উচ্চ শিক্ষায় গোয়া বেশ খানিকটা উন্নত, ন্যাশন্যাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলোজি এবং গোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সহ ৫টি নাম করা সরকার দ্বারা চালিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রয়েছে, এছাড়াও এখানে ডন বস্কো কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পাদ্রী কোনসেইআও কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো কিছু কলেজও রয়েছে যেগুলি বেসরকারি সংগঠনের দ্বারা চালিত হয়। গোয়াতে তিনটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে- গোয়া মেডিক্যাল কলেজ যেটি সরকারী অর্থায়নে চালিত হয়, এবং আরও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও চলে। বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শাখা যেমন বি.আই.টি.এস পিলানী এবং এন.আই.টি-ও এখানে দেখতে পাওয়া যায়। তালেইগাও-তে অবস্থিত গোয়া বিশ্ববিদ্যালয় হল রাজ্যের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যার অধীনে অনেক মহাবিদ্যালয় রয়েছে যেখানে হাজার হাজার গোয়াবাসী এবং অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। রাজ্য সরকারের সঠিক তত্ত্বাবধানে বিজ্ঞান, বাণিজ্য, আইন, শিল্পকলা বিষয়ক মহাবিদ্যালয়গুলি ছাড়াও স্থাপত্য, ঔষধি, দন্তচিকিৎসার জন্য মহাবিদ্যালয়গুলিও সাফল্যের সাথে চলছে। এখানে সমুদ্রবিজ্ঞান সংক্রান্ত দুটি কেন্দ্র রয়েছে, এন.সি.এ.ও.আর যেটি ভাস্কোতে অবস্থিত এবং এন.আই.ও যেটি রয়েছে পাঞ্জিমে। পাশাপাশি এখানে কিছু সুপরিচিত বি-বিদ্যালয় রয়েছে।

গোয়ার হোটেল

গোয়ায় বাজেটের মধ্যে থেকে শুরু করে মাঝামাঝি, বিলাসবহুল ও শীর্ষ পর্যায়ের হোটেল রয়েছে। এখানে স্থানীয়দের প্রচুর বাংলো রয়েছে যেগুলি প্রয়োজনে ভাড়া নেওয়া যেতে পারে। গোয়াতে বাসস্থান খুব সহজলভ্য। গোয়ার কিছু বিখ্যাত এবং জনপ্রিয়, হোটেল ও রিসর্টগুলি হল- পৌশাডা তৌমা, বোগেনভিলিয়া গেস্ট হাউস, তাজ এক্সোটিকা গোয়া, ওসেনিক হোটেল, আমরয়া সামিয়ানা, দ্য লীলা গোয়া, কাসা কান্ডোলিম, সুর ল্যা মের, তাজ কর্তৃক ভিভান্তা-পানাজি, কিংস্টর্ক বীচ্ রিসর্ট এবং শান্তনা বীচ্ রিসর্ট হল অন্যতম।

সর্বশেষ সংযোজন : ০৬ই জানুয়ারী , ২০১৫